× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আমদানি সিন্ডিকেট

যেন আর কিছুতেই না হয় সার সংকট

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৪৮ পিএম

যেন আর কিছুতেই না হয় সার সংকট

আমনের ভরা মৌসুম থেকেই সার পেতে চরম ভোগান্তির অভিযোগ ছিল কৃষকের। বিশেষ করে, ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট বা ডিএপি এবং ইউরিয়া সারের জন্য ডিলার পয়েন্ট ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ঘুরে শূন্য হাতেই ফিরতে হয়েছে অনেককে। প্রথমে বলা হতো সরবরাহ নেই। পরে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে কিনতে হতো কাউকে কাউকে। এমন অভিযোগের মধ্যেই সার নিয়ে সুখবর জানালেন কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ২৫ সেপ্টেম্বর নিজ মন্ত্রণালয়ে সরকারের এক বছরের সাফল্য, অর্জন ও সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দেশে কোথাও কোনো ধরনের সারের সংকট নেই। সার আমদানিতে সব সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বৈশ্বিক মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সার আমদানি করা হবে। তিনি আরও জানান, সার নিয়ে নতুন নীতিমালা হয়েছে। তার দাবি, পেট্রোবাংলা গ্যাসের দাম বাড়ালেও সারের দাম বাড়বে না। সারের পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেখানে সার সংকটের অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সার নিয়ে ভোগান্তি রোধে কৃষি উপদেষ্টার একগুচ্ছ আশাজাগানিয়া ঘোষণা সত্যিই প্রশংসাযোগ্য, যা কৃষকদের অনুকূলে যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে আমরা মনে করি। তবে কথায় নয়, সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর দেখতে চাই আমরা। 

২৬ সেপ্টেম্বর প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছি, সারের দাম বাড়বে না’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানা যায়, গত এক বছরে সারের বকেয়া ২০ হাজার ৬৯১ কোটি টাকাসহ মোট ২৭ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ৮৮ লাখ ৫৫ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ ও চারা এবং অন্যান্য সহায়তা বাবদ ৮৯৩ কোটি ২০ লাখ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। রাশিয়া থেকে বিনামূল্যে ৩০ হাজার টন সার প্রাপ্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ায় সরকারের ২৩৩.৬১ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। 

উল্লেখ্য, সারের মোট চাহিদার বড় একটি অংশই আমদানি-নির্ভর। দেশের কারখানাগুলোয় উৎপাদিত কিছু ইউরিয়া ছাড়া প্রায় ৮০ শতাংশই সার আমদানির ওপর নির্ভরশীল। তবে কৃষি মন্ত্রণালয় স্বীকার করছে, প্রতিবছর চাহিদা বেড়ে গেলে অতিরিক্ত লাভের আশায় একটি মহল কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করে। তারা মনে করে, সাপ্লাই চেইন স্বাভাবিক থাকলে সারের ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, কৃষি উপকরণের খরচ বাড়লে উৎপাদন ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। এর প্রভাব খাদ্যদ্রব্যের বাজারে পড়বে। খরচ বাড়ার এই প্রবণতা রোধ করতে না পারলে শেষ অবদি সাধারণ মানুষকেই বাড়তি বোঝা বহন করতে হবে। 

এ কথা সত্য যে, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য সার একটি অত্যাবশ্যক উপকরণ। শষ্যের বাড়তি ফলনের চাহিদা ও প্রতিযোগিতার কালে দেশজ বিভিন্ন সনাতনী সারের চাইতে আমাদের কৃষকরা রাসায়নিক সারের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষক সমাজের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা অনেকাংশেই নির্ভর করে এই রাসায়নিক সারের সুলভ মূল্যের ওপর। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রায়শই দেখা যায়, সারের দামের সঙ্গে গড়ে ওঠে অস্বচ্ছ বাজার ব্যবস্থাপনা এবং অঘোষিত সিন্ডিকেট। এর ফলে একদিকে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, অন্যদিকে ভোক্তার কাছেও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। অতীতে একাধিকবার সারের সংকট তৈরি হয়েছিল অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির কারণে। এমন একটা সময় ছিল, যখন সারের দাবিতে রাজনৈতিক আন্দোলনে অনেককে জীবন পর্যন্ত দিতে হয়েছে। বলে রাখা ভালো, সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করে ভর্তুকি দিয়ে কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করলেও মাঠপর্যায়ে সেই সার অনেক সময়ই চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। তখনই সামনে এসেছে সিন্ডিকেট চক্রের ভূমিকা। গুদামে সার মজুদ রেখে বাজারে সংকট সৃষ্টি করা, রাতারাতি দাম বাড়িয়ে দেওয়া, কিংবা পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করাÑ এসব কৌশল ব্যবহার করে চক্রটি কৃষকদের জিম্মি করে আসছিল। 

অবশ্য বর্তমান পরিস্থিতি যে খুব একটা ভিন্ন, তা বলা যাবে না। বৈশ্বিক বাজারে যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট বা আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় একদিকে সারের দামের ওপর প্রভাব ফেলছে, অন্যদিকে দেশের ভেতরে সক্রিয় সিন্ডিকেট তা আরও বাড়িয়ে তুলছে। ফলে কৃষকরা উৎপাদন খরচ বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তার ঘরে ঘরে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তদারকি ও প্রশাসনিক নজরদারি সত্ত্বেও সিন্ডিকেট ভাঙা যাচ্ছে না কেন? 

আমরা মনে করি, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য জরুরি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে সার আমদানির পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে, যাতে বহিনির্ভরতা কমে। সার বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে হবে এবং ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে কৃষকের হাতে সরাসরি এসব ভর্তুকি পৌঁছানো উচিত। সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, সিন্ডিকেট যতদিন অক্ষত থাকবে, কৃষকরা ততদিন ন্যায্যমূল্যে সার পাবেন না। ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তাই এখনই সময়, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি সুষ্ঠু, ন্যায়সংগত ও টেকসই সার বাজার গড়ে তোলা।

কৃষি উপদেষ্টা নতুন নীতিমালার কথা বলেছেন, আমাদের প্রত্যাশা নীতিমালায় কৃষকের খরচ কমানো এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। অনিয়মে জড়িত ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হবে। পাশাপাশি আমদানির ক্ষেত্রে এখন থেকে কেবল সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়ার নিয়ম কঠোরভাবে মানা হবে। আর এতে সার আমদানিতে সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি। কৃষিই আমাদের অর্থনীতির মূলভিত্তি। কৃষি উৎপাদন সারের ওপর প্রায় সবটাই নির্ভরশীল। সারের সংকট মানেই কৃষি উৎপাদনে বিপর্যয়। কাজেই আমাদের প্রত্যাশা, আর যেন কিছুতেই না হয় সার সংকট।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা