× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সড়ক দুর্ঘটনা

মৃত্যুর মিছিল থামানো খুব কঠিন নয়

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:০২ পিএম

মৃত্যুর মিছিল থামানো খুব কঠিন নয়

প্রতিবছর সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করা হয় বেশ ঘটা করে। রাস্তায় নেমে কী করা যায় আর কী করা যায় না, তা নিয়েও চলে ব্যাপক প্রচারণা। পালিত হয় ট্রাফিক সপ্তাহও। সড়কে নিরাপত্তা, চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনসহ দুর্ঘটনা রোধে নানা প্রচার চালানো হয় ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে। কিন্তু এই যে প্রতিবছর সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ, ট্রাফিক সপ্তাহ পালন, তাতেও কি দুর্ঘটনা কমছে? চালকরাও কি সবাই যথাযথ নিয়ম মেনে গাড়ি চালাচ্ছেন? ফিটনেসবিহীন গাড়ি কি পথে নামানো বন্ধ করছেন? মানুষ কি কানে মোবাইলের ইয়ার ফোন গুঁজে, অথবা মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তা পারাপার কি বন্ধ করেছে? পথচারী পারাপারের জন্য থাকা জেব্রাক্রসিংগুলো কি ব্যবহার উপযোগী রয়েছে? অথবা পথচারী পারাপারের পদচারী সেতু? বা সচেতনতামূলক প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরাই কি ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার বন্ধ করেছি? এই যে এত প্রশ্ন, তার অধিকাংশ উত্তরই না-বোধক। ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমছে না। প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজন হারানোর আহ্জারিও থামছে না। দুর্ঘটনায় যারা প্রাণে বেঁচে যাচ্ছে, তাদের অনেককেই বরণ করে নিতে হচ্ছে পঙ্গুত্ব। 

প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘দেশে ১১ বছরে নিহত ৮৬ হাজারের বেশি’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছেÑ এই সময়ে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬২ হাজার ৬১৯টি। এর অর্থ বছরে দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ৭০০, অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ৭ হাজার ৮০০’রও বেশি। অর্থাৎ গত এগারো বছরে প্রতিদিন গড়ে ২১ জন মানুষের পথ-দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে, যা আতঙ্কের কারণই বটে। এ ছাড়া যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন আরও বলছে, রাজধানীতে প্রতিদিন যানজটে নষ্ট হচ্ছে ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা। ফলে বার্ষিক অর্থনৈতিক ক্ষতি ৯৮ হাজার কোটি টাকা, জ্বালানি অপচয় ১১ হাজার কোটি টাকা, আর যানজটের কারণে সংসার ভাঙার ঝুঁকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। 

গত এগারো বছরের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান ধরে যখন আমরা এই সম্পাদকীয় লিখছি, তখন প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর দেশজুড়ে পাতায় দুর্ঘটনার বিষয়ে আরও একটি প্রতিবেদনের দিকে নজর আটকে যায়। এক দিনে দেশের ছয় জেলায় ‘সড়কে ঝরল ৯ প্রাণ’ শিরোনামের খবরটি যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা জাগায় তার রেশ হারানোর আগেই আমাদের অনলাইন সংস্করণে গতকাল রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এবং যশোরের বেনাপোলে ট্রাকচাপায় দুজন মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যুর খবর আমাদের বেদনার্ত করে। 

সড়ক দুর্ঘটনার যে সংখ্যা ও বিভিন্ন পরিসংখ্যান তাতে দেখা যায়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার তুলনামূলক বেশি। সেইসঙ্গে দুর্ঘটনায় পথচারীর মারা যাওয়ার সংখ্যাও কম নয়। বাস-ট্রাক-লরি-প্রাইভেট কার-সিএনজিচালিত অটোরিকশা-মোটরসাইকেলের ধাক্কাও কাড়ছে পথচারীর প্রাণ। আবার গাড়ি, ট্যাক্সি, বাইক, অটোরিকশা, ই-রিকশা, মোটরসাইকেলÑ বিভিন্ন যানবাহনের চালক বা যাত্রীদেরও প্রাণ যাচ্ছে দুর্ঘটনায়। তাতে করে আতঙ্ক হয়, পথে নামা মানেই কি তাহলে প্রাণ হাতে বেরোনো?

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নানান সভা-সমিতি-সেমিনারে আলোচনা হয়। সেখান থেকে নানান দিকনির্দেশনাও আসে। কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন কতদূর, তা অজানাই থেকে যায়। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য প্রধান যে কারণগুলো দায়ী, তার কোনোটিই আমাদের অজানা নয়। তাই সরকারকে এখন অন্যান্য ক্ষেত্রের পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তৎপর হতে হবে। দেশের মহাসড়কে কোন এলাকাগুলো দুর্ঘটনাপ্রবণ, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আন্তঃজেলা যাতায়াত, যোগাযোগ ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু উপেক্ষিত ও মেরামতিহীন সড়কগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর হাল ফেরাতে হবে। পাশাপাশি সড়কে যানবাহনগুলো যেন নিয়মকানুন মেনে চলে, নির্ধারিত গতিবেগে চলে, ট্রাফিক আইন মানে, ফিটনেসবিহীন যানবাহন যেন পথে না নামতে পারে সে ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। তবেই নিরাপদ হবে যানবাহনের আরোহী ও পথচারীর জীবন।

নিরাপদ সড়ক তো আমাদের নিরাপদ জীবনেরও অভিজ্ঞান। আর দীর্ঘদিনের যে অপশাসন আমাদের ওপর চেপে ছিল, তা থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে ছাত্র-জনতার যে উদ্যোগ, অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে আমাদের যাত্রা, তার প্রতি সাড়া দিতেও সড়কে সুশাসন ফেরাতে হবে, সুব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। যাতে পথ মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে, কিন্তু মৃত্যুর কারণ হবে না। আমরা মনে করি, সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামানো খুব কঠিন কিছু নয়। প্রয়োজন শুধু আন্তরিকতা, সুশাসন এবং শৃঙ্খলা ফেরানো। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা