মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫ ১১:০৪ এএম
আজকালের ছেলেমেয়েরা সবাই ফেসবুকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। পড়বে না কেন, স্মার্ট ফোন যার মধ্যে বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। শুধু তরুণ সমাজ কেন, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবাই এখন ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল। ঘরের বউ কেন, স্বামী-স্ত্রী সবাইকে ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতেÑ ইন্টারনেট, ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার তথা স্মার্টফোনের মাধ্যমে যে হারে প্রতারণা, ছলচাতুরী বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে মেয়েদের মধ্যে ডির্ভোসের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। ইন্টারনেটে গেম খেলা, ইহাও এক ধরনের নেশায় পরিণত হয়েছে। ফেসবুকে অটো আসা খারাপ ও নোংরা ছবিগুলো বন্ধ করা খুবই জরুরি। কারও ছবি এডিট করে অশালীন বা কুরুচিপূর্ণ ছবির সঙ্গে জুড়ে দিয়ে অন্য কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খুললে উক্ত অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়া ভুক্তভোগীর উচিত। এ ছাড়া একশ্রেণির পুরুষ প্রতারকরা ফেসবুকে সুন্দর সুন্দর মেয়েদের ছবি দিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেছে, যাতে অহরহ প্রতারণার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। তবে প্রতারিতরা প্রয়োজনে সিআইডি বা থানা-পুলিশের সহযোগিতা নিতে পারেন। তবে সরকারকে সামাজিক মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি জোরদার করতে হবে।
করোনা ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রছাত্রী বা ঘরের বন্দিরা ফেসবুক ও ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ফেসবুককে পুরোপুরি ক্ষতিকর বা নেতিবাচক বলছি না, তবে কোনো কিছুতেই প্রচণ্ড আসক্ত হয়ে যাওয়া খারাপ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অনেক ছেলেমেয়ে সারা রাত ফেসবুক ব্যবহার করে ভোরে ঘুমাতে যায়। ফেসবুক বা ইন্টারনেট আসক্তরা মূলত প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে। প্রযুক্তির এই অপব্যবহার চলছে ফেসবুকে, ইউটিউবে এবং একাধিক অনলাইন প্লাটফর্মে। এই ফেসবুকের কারণে অনেক তরুণ-তরুণী বিপথে পা বাড়াতে দ্বিধাবোধ করছে না। মাদকের নেশার মতো এই ইন্টারনেট ফেসবুক; যার কারণে ছেলেমেয়েরা পারিবারিক বন্ধন উপেক্ষা করে বদরাগী, খিটখিটে মেজাজ, চিৎকার-চেঁচামেচি, কথা কম বলা এবং একাকী থাকতে পছন্দ করছে। ফেসবুক বা ইন্টারনেট মোবাইলের কারণে পারিবারিক যোগাযোগমাধ্যমকে কমিয়ে দিয়ে ছেলেমেয়েরা আজ মা-বাবার সঙ্গে ঠিকমতো সময় দেয় না। কোনো কথা বললে এখন না পরে বলে উড়িয়ে দেয়। অনেক পরিবারে ফেসবুকের অতি ব্যবহার নিয়ে পারিবারিক কলহ, অশান্তি, সাংসারিক মনোমালিন্য লেগেই আছে। তারপর যতই দিন যাচ্ছে ফেসবুকের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি চক্রের মাধ্যমে প্রেম-প্রতারণার অভিনয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ফেসবুকের মাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে বিয়ের প্রলোভন বা প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা অহরহ ঘটতে শোনা যায়। বলা বাহুল্য, ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ইন্টারনেট বা স্মার্টফোনের মাধ্যমে অনেক পরিবারের বন্ধনকে দূরত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে অথচ বাবা-মা বা অভিভাবক হিসেবে কাহারো করার কিছু থাকে না। কোনো প্রতারককে ফেসবুক বা ম্যাসেঞ্জার হ্যাক করার জন্য ওপিটি নম্বর চাইলে ভুলেও দেবেন না। তাই খুব সতর্কতার সঙ্গে ফেসবুক ব্যবহার করার পাশাপাশি ফেসবুক যেন কোনোভাবেই আমাদের ব্যবহারের মাধমে ক্ষতি করতে না পারে। মূলত এই ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্ব আজ হাতের মুঠোয় এলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।