× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ডিএসসিসি

হাসপাতালগুলোর রুগ্‌ণ দশার অবসান হোক

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৫ ১২:২৩ পিএম

হাসপাতালগুলোর রুগ্‌ণ দশার অবসান হোক

নানা সংকট আর অবহেলায় ‘রুগ্‌ণ দশায়’ ভুগছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি হাসপাতাল। দশা যেন কাটছে না হাসপাতালগুলোর। বিশেষ করে জনবল সংকটে ভেঙে পড়েছে হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্য পরিষেবা। সারাক্ষণ রোগী সমাগম থাকলেও চিকিৎসক, নার্স ও কনসালট্যান্ট, চিকিৎসা সরঞ্জামসহ অবকাঠামোগত নানান ঘাটতি এখন মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখানকার চিকিত্সা পরিষেবার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। জানা গেছে, রাত ৮টা বাজতেই নিভে যায় হাসপাতালগুলোর বাতি। রোগী-চিকিৎসক চলে যান যার যার বাসায়। অন্ধকারে ডুবে যায় পুরো ভবন, ছড়িয়ে পড়ে সুনসান নীরবতা। যেখানে থাকার কথা শুশ্রূষার অপেক্ষায় থাকা রোগীর আর্তি, সেবার জন্য নার্স আর চিকিৎসক। সেখানে বিরাজ করে এক ধরনের ভুতুড়ে নীরবতা। যেন কেউ কোথাও নেই। অবশ্য দিনের আলোয় চিত্র পাল্টে যায়। হাসপাতাল তিনটির সরেজমিন চিত্র নিয়ে ১৮ আগস্ট প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় ‘তিন হাসপাতালই রুগ্‌ণ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, পুরান ঢাকার লালবাগের গৌর সুন্দর রায় লেনের ‘ঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতাল’। ১৯৯০ সালে শিশুদের জন্য সিটি করপোরেশন এ হাসপাতাল চালু করে। এখানে চার তলা ভবনের পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো থাকলেও মিলছে না পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা। শিশু হাসপাতাল হলেও নেই কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ। একজন চিকিৎসকই সামলাচ্ছেন পুরো হাসপাতাল। এখানে ১৩০ জন জনবল থাকার কথা, আছে ৭০ জন। চিকিৎসক না থাকায় রাত ৮টার পর বন্ধ হয়ে যায় জরুরি বিভাগ। রাতে ডাক্তার না থাকায় ভর্তি রোগীদের বাসায় চলে যেতে হয়। আবার সকালে সিটে বসাতে হয়। অনুরূপ চিত্র নাজিরাবাজার মাতৃসদনের। প্রসূতি মায়ের জন্য প্রসিদ্ধ হলেও এ প্রতিষ্ঠানেও রয়েছে জনবল সংকট। ৩১ শয্যার এ হাসপাতালে অনুমোদিত ৩৫ পদের মধ্যে ৯টি পদই শূন্য। এখানে নরমাল ডেলিভারি হয় ২৪ ঘণ্টা, তবে সিজার কার্যত বন্ধ। একই অবস্থা রাজধানীর নয়াবাজার বুড়িগঙ্গা সেতুসংলগ্ন ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালের। ১৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ৩১ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা আছে। করোনা মহামারির সময় এ হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন করা হয়েছিল। হাইফ্লো অক্সিজেন সরঞ্জামও বসানো হয়েছিল। জনবল সংকটে সব বন্ধ হয়ে গেছে। জানা গেছে, কমানো হয়েছে হাসপাতালগুলোর বাজেটও। গত অর্থবছরে মহানগর জেনারেল হাসপাতালের বাজেট ছিল ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, এবার (২০২৫-২৬) তা কমিয়ে আনা হয়েছে ১ কোটি ৬৫ লাখ। শিশু হাসপাতালের বাজেট ৯৩ লাখ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখে আর নাজিরাবাজার মাতৃসদনের বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৪ লাখ টাকা। তবে জোড়াতালি দিয়ে চিকিৎসাসেবা চললেও লাভালাভির হিসাব থেমে নেই প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত সংস্কার কাজে।

এসব চিত্র কেবল একটি বা কয়েকটি হাসপাতালের ক্ষেত্রেইÑ ব্যাপারটি এমন নয়। পুরো দেশের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একই দশা। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের। কিন্তু জনগণ শুধু স্বাস্থ্য খাতে নয়, সব ক্ষেত্রেই বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালের করুণ অবস্থার কারণে বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। বেসরকারি হাসপাতালে টাকাওয়ালা ছাড়া গরিব মানুষ চিকিৎসা নিতে পারে না। অথচ রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা হবে জনবান্ধব। কিন্তু গত ৫৪ বছরেও সেদিকে কোনো সরকারকেই মনোযোগ দিতে দেখা যায়নি। তাহলে কি রাষ্ট্র স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বেসরকারীকরণে উৎসাহ দিচ্ছে নাÑ এই প্রশ্ন করাই যায়। অথচ আমাদের সমসাময়িক বহু উন্নয়নশীল দেশ এবং পার্শ্ববর্তী ভারতের অনেক প্রদেশ স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় রোল মডেল হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে। এ কারণে আমাদের দেশের মানুষ ভালো চিকিৎসা পাওয়ার জন্য সেসব স্থানে চিকিৎসা নিতে যান। দেশে যদি উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা করা যেত, তাহলে আমাদের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হতো। এই কথা মানতেই হবে, বিগত সময়ের সরকারগুলো স্বাস্থ্য খাত উন্নত করার কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। ফলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দিন দিন অতলে তলিয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকে উঠে দাঁড়ানোর কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। 

বিগত সরকার ক্ষমতায় থাকতে দেশের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। তাদের দলীয়করণ, দুর্নীতি দেশের প্রতিটি খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তালিকায় স্বাস্থ্যের মতো সবচেয়ে জরুরি এবং স্পর্শকাতর খাতও রয়েছে। ফলে বছরের পর বছর স্বাস্থ্য খাত একেবারে ভেঙে পড়েছিল। এর প্রধানতম ক্ষতির শিকার হতো জনগণ। স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া জনগণের অধিকার হলেও জনগণ সুষ্ঠু সেবা পেতেন না। এ কথা সত্য যে, রুগ্‌ণ স্বাস্থ্য খাতের পুনরুদ্ধার অত্যন্ত কঠিন। এই খাতকে মেরামত করতে দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সঠিক পরিকল্পনা এবং জবাবদিহিতা। তবে আশার কথা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামো শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে সব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবল ও যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছেন। 

ব্যক্তির জন্য স্বাস্থ্য যেমন সব সুখের মূল, রাষ্ট্রের জন্যও তাই। বিপুল জনসংখ্যার এদেশে স্বাস্থ্য খাতকে জনবান্ধব করাই রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হওয়া উচিত। আমাদের বিশ্বাস, সিটি করপোরেশনের যে তিনটি হাসপাতালের সংকটের বিষয়টি ওঠে এসেছে, তা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে রাষ্ট্র চিকিৎসাপ্রার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করবেন। অন্যত্থায়, এই হাসপাতালগুলোর রুগ্‌ণ দশার অবসান হবে না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দীনতা কাটানোর উদ্যোগ গ্রহণ করবেÑ সেটাই সবার প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা