পলাশ কুণ্ডু
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৫ ১৬:৫৬ পিএম
সহজ ভাষায় বলতে হয়, আমরা যে কাজের সঙ্গে জড়িত সেই কাজটাই আমাদের পেশাগত পরিচয়। শিক্ষক, কৃষক, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, প্রকৌশলী, আইনজীবী, চাকরিজীবী, শ্রমজীবী, পরিবহন চালকসহ বিভিন্ন বৈধ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পেশা নিঃসন্দেহে সম্মানজনক। আবার যারা শিক্ষার্থী তারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত। কিন্তু আমাদের সমাজে এমন কিছু যুবক মানুষ আছে, যারা ইচ্ছাকৃত অলস জীবন যাপনে অভ্যস্ত এবং আয়-উপার্জনের লক্ষ্যে পেশাগতভাবে কোনো বৈধকাজে সম্পৃক্ত নয়।
সারাদিন ঢুলেঢুলে বেড়ানো মাদকসেবী এসব মানুষ চুরি-ছিনতাই-ডাকাতি-চাঁদাবাজি-লুটপাটসহ নানান অপকর্মে জড়িত। তারা আশপাশের মানুষের কাছে তালবাহানা করে টাকা হাওলাত চায়, দোকানে বাকি চায়, দান-সাহায্যের কথা বলে টাকা উঠিয়ে ছলচাতুরী করে এবং অকারণ সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঝামেলা করে। তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মিছিল-মিটিং-সমাবেশে অংশগ্রহণ করে এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে সমাজে নিজেকে ক্যাডার হিসেবে জাহির করতে চায়। এমনকি তাদের মধ্যে অনেকের কথাবার্তার ভাবভঙ্গি এমন যেন সে ত্যাগী মহান রাজনীতিবিদ। তারা রাজনৈতিক দলকে পুঁজি বানিয়ে মানুষের সঙ্গে অসদাচরণ করার ও কৌশলে টাকা নেওয়ার সাহসিকতা অর্জন করেছে। এতে একদিকে স্থানীয় জনপ্রিয় নেতাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে অন্যদিকে ভদ্রসভ্য মানুষ রাজনীতিতে যুক্ত হতে ভয় পাচ্ছে। হট্টগোলকারী এসব লোকের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে একজনকে ভালোমন্দ কিছু বলতে গেলে মৌমাছির মতো দশজন দলবদ্ধভাবে বিরোধিতা করে এবং আশকারা দেয়।
তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে এককভাবে নয় বরং দলবদ্ধভাবেই রুখে দাঁড়াতে হবে এবং হাতে হাত রেখে আইনি প্রক্রিয়ায় দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। নতুবা একসময় পুরো সমাজব্যবস্থা চলে যাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে, তখন অন্যায়-অরাজকতা-অশ্লীলতা ও দুঃশাসনের দাবানলে জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে যাবে সভ্য-সুশীল সমাজ। জনগণ প্রত্যাশা করে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতারা সংগঠনে অপকর্মকারীদের প্রশ্রয় দেবে না এবং বখাটেদের ব্যাপারে তৎপর ও সজাগ থাকবে। বখাটেরা যাতে বখাটেপনা করার আস্পর্ধা না পায় সেজন্য তাদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
তাই আসুন, পেশাগত পরিচয়হীন ও নামমাত্র পেশাগত পরিচয় নিয়ে বসবাসকারী বেহায়া-অসভ্য মস্তানদের অসামাজিক-অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধকরণে যে যার অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কার্যকরী আলাপ-আলোচনা মাধ্যমে বৈধ পথ খুঁজে বের করি। এ ব্যাপারে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ স্থানীয় নেতাদের সুদৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করে। সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য এবং সুস্থ সমাজ ব্যবস্থা বিনির্মাণের জন্য প্রত্যেকের বৈধ পেশাগত পরিচয় থাকা আবশ্যক। সুতরাং ভবিষ্যতের ভয়াবহতা চিন্তা করে সবার পেশাগত পরিচয় নিশ্চিত করার ব্যাপারে পারিবারিকভাবে ও সামাজিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।