× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সেলফোন আসক্তি

প্রযুক্তির অপব্যবহার বন্ধ হোক

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৫ ১৬:২৩ পিএম

প্রযুক্তির অপব্যবহার বন্ধ হোক

মানুষের যোগাযোগমাধ্যমের সর্বাধুনিক ও সহজ প্রযুক্তি হচ্ছে সেলফোন। বিশ্বে এর বিকল্প এখনও দৃশ্যমান নয়। বিজ্ঞানের এই আবিষ্কার এড়িয়ে চলার উপায় নেই। বলা চলে- এটা অনিবার্য। তবে পরিণত বয়সের মানুষের জন্য এটা এখনও স্বাভাবিক একটা মাধ্যম। কিন্তু বিপত্তি ঘটেছে শিশু, কিশোর ও তরুণদের ক্ষেত্রে। এই সেলফোন আসক্তি তাদের জন্য মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম রিলস, টিকটক বা ইউটিউব শর্টসে নিমগ্ন তরুণদের চোখ। অবস্থা এমন ঘরের সব আলো নিভে গেছে, কেবল জ্বলছে মোবাইলের নীল আলো। এটা তরুণদের নিত্যদিনের অভ্যাস। এ অভ্যাসের কারণে তাদের চোখ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঘুম, শরীরে বাসা বাঁধছে নানা রোগ। মনোরোগ ও ঘুম বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ রিয়াজুল রহমান বলেছেন, ঘুমের অভাবে একজন মানুষের পারিবারিক ও পেশাগত জীবনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। রোগীরা তিন ধরনের ঘুমের সমস্যায় ভোগেন- দেরিতে ঘুমাতে যান, বিছানায় গিয়ে ছটফট করেন, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায় বা ঘুম বারবার বিঘ্নিত হয়। এই ধরনের উপসর্গ তিন মাসের বেশি স্থায়ী হলে তাকে ‘ইনসমনিয়া’ বলা হয়। 

সম্প্রতি এক জরিপে উঠে এসেছে, সেলফোন ব্যবহারে দেশের বিশাল এক তরুণ জনগোষ্ঠী নিয়মিত অনিদ্রায় ভুগছে। এর পেছনের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে মোবাইল ও ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার। বিশেষজ্ঞরা একে ‘ডিজিটাল ইনসমনিয়া’ বলছেন। এতে একজন ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে ক্লান্তি, মনোযোগে ঘাটতি, মেজাজ খারাপ হওয়া এবং দৈনন্দিন কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, সেলফোনের নেশা গিলে খাচ্ছে আমাদের সম্ভাবনাময় তারুণ্যকে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলে প্রকাশিত ৩৮২ জন শিক্ষার্থীর ওপর গবেষণায় দেখানো হয়, যাদের বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছর, তারা দৈনিক ৬ ঘণ্টার ওপরে মোবাইল ব্যবহার করে। ২০২২-২৩ সালে স্মার্টফোন আসক্তি নামে আরও এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৮-২৫ বছর বয়সি ৪৪০ জন তরুণ-তরুণীর মধ্যে ৪৪.৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী দিনে ৬-৯ ঘণ্টা মোবাইল ব্যবহার করে। তাদের ৬১.৪ শতাংশ স্মার্টফোনে আসক্ত। অন্য আরেক গবেষণায় দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০০ শিক্ষার্থীর ওপর জরিপে উল্লেখ করা হয়Ñ ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী ঘুমের সমস্যা অনুভব করে। ১৬ জুলাই প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘সেলফোনের নেশা : গিলে খাচ্ছে তারুণ্যকে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। 

বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন হচ্ছে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের উন্মাদনায় আমরা সবাই কমবেশি মেতে উঠছি। এ কথা সত্য যে, প্রযুক্তির ভালো এবং মন্দ দুটো দিকই আছে। তবে তরুণ সমাজ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করে না বরং অপব্যবহার করে নিজের ক্ষতি করছে। ভালো কাজে যে সেলফোন ব্যবহার হচ্ছে না, তা কিন্তু নয়। অনেক শিক্ষার্থী অনলাইন থেকে তার শিক্ষার অনেক সমস্যার সমাধান করছেন। কিন্তু এসব ভালো কাজেও যদি মোবাইল ফোনের ব্যবহার অতিরিক্ত হয় তাকেও ‘আসক্তি’ হিসেবে গণ্য করা যায়। এ আসক্তি বর্তমানে তরুণ সমাজের জন্য একটি হুমকি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এমনও দেখা যাচ্ছে, শ্রেণিকক্ষে ক্লাস চলাকালীনও ব্যাগের আড়ালে মেসেজের উত্তর দিচ্ছে অনেকে। এই মেসেজ খুব দরকার, তা কিন্তু নয়। কিন্তু এ থেকে সরতে পারছে না; কারণ আসক্তি। শিক্ষক তাকে দেখছেন সেদিকেও তার নজর দেওয়ার মতো মানসিকতা অনেকটাই হারিয়ে গেছে। বহু শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে আসছেন স্রেফ অধিক সময় ধরে অবাধে ফোন ব্যবহারের জন্য। একইভাবে কোচিং সেন্টারগুলোতেও যাচ্ছেন। তাদের একটি বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে ফোনের অবাধ ব্যবহার। অনেকের শখ হচ্ছে ছবি তোলা, ফোনে কথা বলা, ভিডিও করা, ভিডিও দেখা মোবাইল ব্যবহারের কিছু আইটেম। বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে ছবি তোলা একটি বড় ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। কারণ, সেগুলো ফেসবুকে আপলোড দিতে হবে। তরুণদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হচ্ছে নিজের পোস্ট যদি একবার ভাইরাল হয়, তাহলে নিজেকে হিরো ভাবা। এসব করতে গিয়ে অনেকের কাছে তা আশীর্বাদ নয়, অভিশাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। নিয়ম মেনে চললে এই আসক্তি থেকে মুক্তি সম্ভব। অন্যথায়, এমন একটা সময় আসবে আমাদের তরুণ সমাজের একটা বড় অংশ ‘প্রতিবন্ধী’ শ্রেণিভুক্ত হয়ে পড়তে পারে। হতে পারে মস্তিষ্ক, স্নায়ুরোগ, দৃষ্টি হ্রাস এমনকি ক্যানসারের মতো মরণব্যাধিও।মোবাইল ফোনে আরেকটা বিষয় বেশ আলোচিত ‘গেমস-এর কুফল’। এই গেমসে আত্মহত্যা ও সহিংসতায় প্ররোচনার অনেক ইভেন্ট রয়েছে। নিকট অতীতে দেশে এসব কুফলের দৃষ্টান্তও রয়েছে। এ ছাড়া অনলাইন জুয়া ও পর্নোগ্রাফি আসক্ত হয়ে অনেকের নিঃস্ব হওয়ার কথাও শোনা যায়। 

আমরা মনে করি, মানুষের জীবনে ২৪ ঘণ্টাকে কীভাবে কাজে লাগাতে হবেÑ সে সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলা থাকা জরুরি। তরুণ প্রজন্মের ঘুম-সমস্যা ও ডিজিটাল আসক্তি কমাতে বিশেষজ্ঞরা কিছু কার্যকর সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেনÑ প্রথমত, ডিজিটাল ডিটক্স বা প্রযুক্তি থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটা সময় দূরে থাকা, বিশেষ করে রাত ১০টার পর। স্ক্রিনটাইম নিয়ন্ত্রণ, ঘুমের নির্দিষ্ট রুটিন এবং তার আগে বই পড়া ঘুমে সহায়তা করে। বিছানা শুধুই ঘুমের জন্য ব্যবহার, নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা ও ব্লু লাইট ফিল্টার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তারা। মেডিটেশন, সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেছেন। 

আমরা চাই, প্রযুক্তির অপব্যবহার বন্ধ হোক। তার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা। এর ভয়াবহতা বা আসক্তি থেকে তরুণদের দূরে রাখতে হলে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে আকর্ষণীয় বই, পত্রপত্রিকা ও বিভিন্ন ধরনের ম্যাগাজিন। যোগাযোগ ঘটাতে হবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে। সব মহল থেকেই এই উদ্যোগ নিতে হবে। আগামী প্রজন্ম রক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারও আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আমরা মনে করি, বিনা প্রয়োজনে যেকোনো প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার পরিহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা