প্রজন্মের ভাবনা
মাহবুব হাওলাদার
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১০:১৩ এএম
বেকারত্ব দেশে ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এ সমস্যা অন্যান্য সামাজিক সমস্যারও উৎস। বিপুলসংখ্যক বেকার শ্রমশক্তি নিয়ে কোনো দেশই তার আর্থসামাজিক উন্নয়ন আশা করতে পারে না। আমাদের পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম মৌলিক অন্তরায় মূলত বেকারত্ব। তাই বেকারত্বের কারণ খুঁজে বের করে তা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে। বেকারত্ব সমস্যা দূর করতে পারলে দেশের মঙ্গল। দেশে সরকারি চাকরিতে বহু পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকলেও এসব পদে নিয়োগ হচ্ছে না। ফলে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি চাকরিতে শূন্যপদ পূরণ করে বেকারত্ব কমানো যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নিয়োজিত করা গেলে দেশের বেকার সমস্যা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। বলা হয়, কারিগরি জ্ঞানের অভাবেও দেশে বেকারত্ব দিনদিন বাড়ছে। তাই বেকারত্ব দূর করতে হলে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার অভাবেও বেকারত্ব বাড়ছে। মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার ব্যবস্থা করার মাধ্যমেও বেকারত্ব কমানো সম্ভব। এ মুহূর্তে দেশে কর্মসংস্থানের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত শ্রমশক্তি রফতানি। সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং কার্যকর নীতিমালার অধীনে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
এ কথা
সত্য, বেকার সমস্যার সমাধান সময়সাপেক্ষ। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ
বেকারত্ব প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন মানব উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসন ও
কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। বেকার সমস্যার বিস্তৃতি ও ব্যাপকতার প্রেক্ষাপটে শুধু
অর্থনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করলেই বেকারত্ব কমবে না। দারিদ্র্যমোচনের জন্য
প্রত্যক্ষভাবে লক্ষ্যমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। অন্তর্বর্তী
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘মানুষমাত্রই উদ্যোক্তা।
মানুষের পথ হলো সৃষ্টি করা। নিজের মনের মধ্যে যা আছে তা সৃষ্টি করা।’ তার
বক্তব্যের মর্মার্থÑ স্বকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশে বেকারত্ব রোধ করা।
এ ক্ষেত্রে গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজন। হাঁস-মুরগি পালন, গরু-ছাগল
লালনপালন, নার্সারি, মাছ চাষ ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশের বেকারত্ব রোধ করা যায়।
বেকারত্ব দূরীকরণে শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাক্রম উন্নত করা দরকার। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, প্রশিক্ষণ এবং পরামর্শ চালু করা প্রয়োজন। গ্রামীণ এলাকাগুলোয় শিল্পায়ন উৎসাহিত করা যেতে পারে। এতে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। আইটি খাতে দক্ষ কর্মী তৈরির মাধ্যমে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সবশেষে বলা যায়, তরুণদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং উদ্যোক্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে বেকারত্বের হার কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।