× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রজন্মের ভাবনা

সড়ক যেন মরণফাঁদ

সেতু খানম

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৮:৫০ এএম

সড়ক দুর্ঘটনা মারাত্মক সামাজিক এবং জাতীয় ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা মারাত্মক সামাজিক এবং জাতীয় ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা ব্যক্তিজীবন, সামাজিক জীবন এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। দেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুন্নত, উন্নয়নশীল এবং উন্নত যেকোনো দেশের জন্য সড়ক দুর্ঘটনা মারাত্মক অভিশাপ। এটি উন্নয়নের গতি মন্থর করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতি বছর সারা বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ লাখ প্রাণহানি ঘটে। বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ২২টি এবং প্রতি বছর গড়ে ৭৫০০টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সমস্ত তথ্য পর্যালোচনায় বাংলাদেশে প্রতি দিন গড়ে ৬৫ জন এবং প্রতি বছর গড়ে ২৪ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। প্রতি বছর আহত হয় প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ এবং প্রতিবন্ধী হয় প্রায় ৮০ হাজার মানুষ। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য মতে, দেশে গত ১০ বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬০ হাজার ৯৮০টি। এতে নিহত হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৩৩৮ জন এবং আহত হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৪৭ জন। বিভাগ অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনা, আহত এবং নিহতের সংখ্যা কিছু কারণে ভিন্ন হয়ে থাকে। রাজধানী ঢাকা শহরে সব থেকে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেÑমোট মৃত্যুর প্রায় ২৫ শতাংশ। এরপরই রয়েছে দেশের একমাত্র দ্বিমাত্রিক শহর চট্টগ্রাম। মোট মৃত্যুর প্রায় ১৮.৫০ শতাংশ ঘটে অন্যতম বাণিজ্যিক বিভাগ চট্টগ্রামে। এরপরই সড়কে মৃত্যুর মিছিলে ১৪ শতাংশ নিয়ে এগিয়ে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। দেশের দক্ষিণবঙ্গ নামে খ্যাত জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল খুলনা বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ১১.৩৪ শতাংশ মানুষ। এ ছাড়া রংপুর বিভাগে ৯ শতাংশ, ৮ শতাংশ নিয়ে পাশাপাশি অবস্থায় আছে বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ। এবং সড়ক দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর ৬ শতাংশ ঘটে থাকে সিলেট বিভাগে।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য অনেকগুলো কারণের মধ্যে রয়েছে সড়ক নির্মাণে পরিকল্পনার অভাব বা অবকাঠামোগত ত্রুটি, অদক্ষ চালক, ঘুম বা মদ্যপান অবস্থায় যানবাহন চালানো, ওভারটেকিং প্রবণতা, মাত্রাতিরিক্ত গতিবেগে গাড়ি চালানো, যানবাহনে ত্রুটি বা অবৈধভাবে ফিটনেসবিহীন যান চালানো, পথচারীদের সচেতনতার অভাব, চালকদের শারীরিক ক্লান্তি এবং আবহাওয়াজনিত কিছু কারণ।

দুর্ঘটনা বা যেকোনো ক্ষয়ক্ষতির কারণ যাই হোক না কেন এমন দুর্ঘটনা যাতে আর ভবিষ্যতে না ঘটে তার জন্য টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি। যেমন সড়ক নির্মাণে সঠিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দক্ষ চালক নিয়োগ অথবা প্রয়োজনীয় ট্রেইনিংয়ের ব্যবস্থা করা, ওভারটেকিং প্রবণতা কমাতে সড়কে নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় চেকিংয়ের ব্যবস্থা, অবৈধ ফিটনেসবিহীন যানগুলোকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সংরক্ষণের নিয়ম তৈরি এবং তদারকির ব্যবস্থা করা, সঠিক ট্রাফিক সিগন্যালের ব্যবস্থা, উন্নত দেশগুলোর মতো বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করা, বিভিন্ন সভা-সেমিনারের মাধ্যমে পথচারীদের সচেতন করা ইত্যাদি। এ ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা আইন জোরালো করা। 

সড়ক দুর্ঘটনা মারাত্মক সামাজিক এবং জাতীয় ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত সড়কে ঝরছে তাজা প্রাণ, মায়ের বুক হচ্ছে খালি। সড়ক দুর্ঘটনা একেবারেই হয়তো শেষ করা সম্ভব নয়, তবে অনেকখানি কমানো সম্ভব। তাই সরকারকে এখনই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে নজর দিতে হবে। তবেই সড়ক দুর্ঘটনার মতো একটি ব্যাধিকে কমানো যাবে।

  • শিক্ষার্থী, লোক প্রশাসন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা