প্রজন্মের ভাবনা
তানজিদ শুভ্র
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৪ ০৮:১৬ এএম
উচ্চশিক্ষা সাধারণের নাগালে রাখা এবং জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা ও
উন্নয়ন ভাবনার সঙ্গে যুক্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থী
তালিকাভুক্তি অনুসারে দেশের বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ
শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। চার বছর মেয়াদি স্নাতক
(সম্মান), তিন বছর মেয়াদি স্নাতক (পাস) এবং চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) প্রফেশনাল
কোর্স রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ ছাড়া এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর কোর্সও চালু রয়েছে।
পাশাপাশি রয়েছে পিএইচডি ও এমফিল ডিগ্রি প্রদানের ব্যবস্থাও। শিক্ষার্থীদের
উপযুক্ত ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হলেও উত্তরপত্র মূল্যায়ন, অপর্যাপ্ত ক্লাস, ব্যবহারিক
ক্লাসের কমতি,
শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অনুপস্থিতি, ইনকোর্স
পরীক্ষাব্যবস্থা,
সমাবর্তন না হওয়াসহ নানা বিষয় নিয়ে রয়েছে শিক্ষার্থীদের
অভিযোগ। প্রতিষ্ঠার তিন দশক পেরিয়ে গেলেও এখনও বিষয়গুলোর সমাধান হয়নি। বরং দিনদিন
জটিলতা বাড়ছে।
বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তির ব্যবহারের
ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভালো কাজ করেছে। করোনার সময় রেকর্ড করা ক্লাসসমূহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মূল্যবান রিসোর্স কনটেন্ট।
পাশাপাশি অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া হয়েছে ই-লাইব্রেরির সুবিধা, যার
মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পড়তে
পারবেন, পাশাপাশি দেখতে পারবেন বিষয়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ জার্নাল, কনটেন্ট।
ইতোমধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা, শিক্ষার্থীদের জন্য
অফিসিয়াল ডোমেইনে বরাদ্দ করা হয়েছে ইমেইল ঠিকানা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট
কলেজগুলোয় পর্যাপ্ত ক্লাসের অভাব, শিক্ষক সংকটসহ নানা অবকাঠামোগত জটিলতা
রয়েছে। ফলে নিয়মিত ক্লাসের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন কলেজে, তেমন ব্যবহারিকের
প্রতিও অনীহা দেখা যায় অনেক জায়গায়। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এ যুগে ব্যবহারিক
দক্ষতায় পিছিয়ে থেকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ নেই।
শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত ব্যবহারিক পাঠদান, মাঠকর্ম
বিষয়ে তদারকিও জরুরি। শুধু প্রতিবেদন জমা দেওয়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে যেন বাস্তব
জ্ঞান আহরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত উন্নতি সাধন হয় তা নিশ্চিত করা জরুরি।
স্বায়ত্তশাসিত এ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে অনেকে এমনভাবে দেখেন
যাতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিচয় দিতে হীনম্মন্যতায় ভোগেন। জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ও ইউজিসি অধিভুক্ত, কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন
অনুষ্ঠানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা করে সম্বোধনে তফাত
সৃষ্টি হয়। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষভিত্তিক চূড়ান্ত পরীক্ষা অন্যান্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছ। পরীক্ষা হয় বোর্ড পরীক্ষার মতো। পরীক্ষা
পদ্ধতিতেও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
পরীক্ষার্থীদের হাজিরা নেওয়া হচ্ছে খাতা স্ক্যানের মাধ্যমে সরাসরি জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভারে।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্যতম আকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত সমাবর্তন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সমাবর্তন অনেকটাই ছুঁয়ে দেখতে না পারার স্বপ্ন। ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন। এরপর অনেক দিন পেরিয়ে গেলেও সমাবর্তন নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নতুন উপাচার্য যোগদানের পর শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন সমাবর্তন আয়োজনের। আমরা প্রত্যাশা করি, অবমূল্যায়ন আর অবহেলা থেকে মুক্তি পাক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে পড়ুক দেশব্যাপী। যে উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের, তার পূর্ণতা পাক দক্ষ জনশক্তি বিনির্মাণের মাধ্যমে।