× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফিলিস্তিনি সংকট

আন্তর্জাতিক আইনের সংস্কার জরুরি

এম নেহেসতি এরদোয়ান

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৪ ০৯:৩০ এএম

এম নেহেসতি এরদোয়ান

এম নেহেসতি এরদোয়ান

গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বেই সমালোচনা চলছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই গণহত্যার বিষয়ে কোনো শক্ত পদক্ষেপ এখনও নেওয়া হয়নি। ইসরায়েলকে থামানো হচ্ছে না। গাজায় চলমান নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ক্ষমতার ভাগ-বণ্টন নিয়ে ব্যস্ত। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মানুষের আস্থা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। এমনকি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিও মানুষের আস্থা কমতে শুরু করেছে। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক আইনের নানা বিষয়ে পরিবর্তন, সংযোজন ও পরিমার্জনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চলতি বছর বাগাজিচি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের শিরোনাম ‘গাজা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক আইন পুনর্বিবেচনা প্রসঙ্গে’। বিষয়টি নিয়ে এই সম্মেলনেই প্রথম আলোচনা উপস্থাপিত হয়। এখানে বিউপনিবেশবাদ ও আন্তর্জাতিক আইনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় যোগ দেন বিশ্বের খ্যাতনামা আইনজীবী, বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও আইনপ্রণেতারা।

আন্তর্জাতিক আইনই বিশ্বরাজনীতির নির্ধারক। এমনকি অর্থনৈতিক সম্পর্ক নির্ধারণেও আন্তর্জাতিক আইনের প্রভাব রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে শান্তি, মানবাধিকার ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও ব্যাপক গুরুত্ব পায়। প্রকৃতপক্ষে আন্তর্জাতিক আইন পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ ও উদারবাদী পশ্চিমকেই বেশি সুবিধা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতÑএ দুটো সংস্থাকেই গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তারা ধীরগতিতে এগুচ্ছে। বিশেষত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আফ্রিকার বিভিন্ন রাষ্ট্র নিয়েই ব্যস্ত। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে তাদের উপনিবেশের শিকড় রয়েছে। এছাড়া পশ্চিমা অপপ্রচারমুক্তও নয় আন্তর্জাতিক আইন। ফলে বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলে এ আইন পৌঁছাতে পারছে না। জ্ঞানের ক্ষেত্রে যেহেতু গোটা বিশ্ব ইউরোপের ওপর নির্ভর করে, সেহেতু তাদের তৈরি করা ব্যবস্থাও অন্যান্য অঞ্চলকে প্রাধান্য দেয় না। পশ্চিমা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এই আইন নির্ধারিত।

গাজায় ইসরায়েল শুধু গণহত্যাই চালাচ্ছে তা-ই নয়, বরং তারা ওই অঞ্চলে পদ্ধতিগতভাবে নানা ধরনের অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমা গোষ্ঠী রাশিয়াকে প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে সমালোচনা করছে। কিন্তু ইসরায়েলের ক্ষেত্রে তারা কোনো পদক্ষেপই নিতে পারেনি। বিশ্বরাজনীতিতে এখনও বড় শক্তিগুলো ক্ষমতা বণ্টনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভাজন ও মার্কিন হেজেমনির পতনের পর থেকেই এমন প্রবণতা আমরা দেখতে পাই। মাল্টিপোলার এই বিশ্বে মার্কিন হেজেমনি এখনও প্রতিযোগিতায় টিকে আছে। তবে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে তাদের প্রবল লড়াই চালাতে হচ্ছে। এ রকম খণ্ডিত কাঠামোতে গাজা সংকটের বিষয়ে কেন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, তা স্পষ্ট নয়। মূলত আন্তর্জাতিক উদারবাদী নিয়মের মধ্যে উপনিবেশের প্রবেশ একটি বড় কারণ। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এটি যুক্ত হয়েছে।

সোভিয়েতের ভাঙনের পর আন্তর্জাতিক উদারবাদী পন্থা মানবাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে আরও শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে জানায়। কিন্তু তাদের কার্যক্রমে ভৌগোলিক দক্ষিণের কোনো উন্নতি হয়নি। বরং এই অঞ্চলের মানুষের ওপর নানাভাবে দমন-পীড়ন করা হচ্ছে। তারা মূলত ওই অঞ্চলের মানুষের ওপর পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। ফিলিস্তিন এর বাইরে নয়। এখনও কোনো পরিবর্তন আমরা পাইনি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মাত্র পাঁচটি রাষ্ট্রের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। আর এজন্যই গোটা বিশ্বে রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের ও ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা তারই প্রমাণ। ভেটো ক্ষমতা ও সামরিক সক্ষমতা দিয়ে এখনও বিভিন্ন অঞ্চলে প্রক্সি যুদ্ধ চালু রয়েছে এবং অনেক এলাকাতেই সংঘর্ষ বেড়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গাজা পরিস্থিতি নিয়ে অনেক আলোচনা করলেও তারা এ বিষয়ে ভালো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অনেক ঘাটতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের বিউপনিবেশায়ন জরুরি। অ্যান্থনি আংগি এবং মাকাও মুতুয়া অনেক দিন ধরেই বলে আসছেন, আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যে উপনিবেশের অনেক চরিত্র রয়ে গেছে। এর পরিবর্তন আনতে না পারলে আমরা ভালো ফল পাব না।

১৯৪৫ সালের পর বিউপনিবেশায়নের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আর এই আন্দোলন আন্তর্জাতিক আইনের উপনিবেশবাদী চরিত্র দূর করতে ব্যর্থ হয়। বরং বিশ্বরাজনীতি তৃতীয় পন্থার বিশ্বব্যবস্থার দিকে ঝুঁকে পড়ে। স্নায়ুযুদ্ধের সময় নতুন ধরনের উপনিবেশ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় এবং দক্ষিণ ভূগোলার্ধে এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। জাতিসংঘ সমসাময়িক অনেক সমস্যারই সুসমাধান করতে পারেনি। আর এজন্য এখন আলোচনা শুরু হয়েছেÑ জাতিসংঘে বড় রদবদল জরুরি। আর এ কথা তো সত্যি যে, উপনিবেশের উপস্থাপন বন্ধে এই সংস্থাটিকেই কাজ করতে হবে।

গাজা সংকট থেকেই জাতিসংঘে বড় পরিবর্তনের আলাপের শুরু। অবৈধভাবে ভূমিদখল এবং অনেক মানুষকে বাস্তুচ্যুত করার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের নানাভাবে ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সমস্যা অনুধাবন করতে হবে। ফিলিস্তিনের ভূমিকে যেমন শনাক্ত করতে হবে তেমনি বাস্তুচ্যুতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রতিটি অপরাধ ও হামলার সঠিক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ পাওয়া জরুরি। ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও লড়াইয়ের মানসিকতাকে অবশ্যই স্বীকৃতি দিতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসতেই হবে। ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনের ওপর আগ্রাসন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাশাপাশি আইনি সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসা জরুরি। যদি তা করতে না পারা যায়, তাহলে এর পরিণাম ভালো কিছু হবে না। বিদ্যমান যে আইন রয়েছে তাও বিশ্বব্যাপী মেনে নেওয়া জরুরি। এছাড়া প্রচলিত আইনের সংযোজন ও সংস্কারের পর আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাও বাড়াতে হবে। গাজায় গণহত্যা পরিচালনা করছে ইসরায়েল। তাদের এই আগ্রাসন বন্ধে একত্রিত হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি প্রত্যেকে তার অবস্থান থেকেই নানা পদক্ষেপ নিতে পারে। যদি তা করতে না পারা যায়, তাহলে সুফল পাওয়া যাবে না।

  • আইনজীবী

মিডল ইস্ট আই থেকে অনুবাদ : আমিরুল আবেদিন

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা