× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পর্যবেক্ষণ

বিষয়টা ভাবমূর্তির

অজয় দাশগুপ্ত

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৪ ০৯:৪০ এএম

অজয় দাশগুপ্ত

অজয় দাশগুপ্ত

বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছে। তারা তাদের মতো করে ভালোই আছে। দুঃখকষ্ট, অভাব-অনটন নেইÑএ কথা বলা যাবে না। এখন গ্লোবাল রিসেশনের সময়। দুনিয়ার কোন দেশ আছে যেখানে অভাব হানা দেয়নি? অভাব না বলে বরং বলব সংকট। এ সংকটের মূল কারণ সেই মহামারি করোনা আর যুদ্ধ। দেশে দেশে যারা যুদ্ধ বন্ধ না করে আমাদের সরকার বা দেশের মানুষকে বিপদে ফেলে, তাদের কথা কেউ বলে না। আমরা যারা সিডনিপ্রবাসী তারা জানি একটা সময় যা ইচ্ছে কেনার সুযোগ ছিল এবং মানুষ কিনত। এখন কি তা পারি? পারি না। কারণ দ্রব্যমূল্য বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এসব দেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন বলে মূলত কিছু নেই। আছে সমালোচনা আর গঠনমূলক বিরোধিতা। গণতন্ত্রের সংজ্ঞাই তাই। সরকারের ভুলত্রুটি এবং সমালোচনা করবেন, সংসদে কথা বলবেন এটাই নিয়ম। আমাদের সমাজে সে রীতি নেই। গঠনমূলক বলে আসলে কিছু নেই। আছে তীব্র বিরোধিতা বা অন্ধ সমর্থন।

বলছিলাম মানুষ ভালো আছে। তাদের মতো করে তাদের এ ভালো থাকার মূল চালিকাশক্তিগুলোর একটি হচ্ছে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স। টাকা পাঠানো মানুষদের নিয়েই আজকের লেখা। সম্প্রতি জরুরি কাজে দেশে যেতে হয়েছিল। খুব অল্প সময়ের এ ঝটিকা সফরে আমার যাত্রাপথ ছিল কুয়ালালামপুর হয়ে ঢাকা। কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই বুঝতে পারি এর পরের চার ঘণ্টা আকাশ উড়াল সহজ কিছু হবে না। একই এয়ারলাইনস, এক দেশ এবং এক পরিষেবা; কিন্তু ভিন্ন যাত্রায় ভিন্ন ফল। কেন এমন হয়? শুরুতেই বলি, সিকিউরিটি চেক আর তল্লাশি এখন বিমানযাত্রার বড় প্রতিবন্ধক। এতে প্রচুর সময় ব্যয় হয় এবং এ প্রক্রিয়া কষ্টকর। শরীরের জামাকাপড় আর হাড়গোড় ছাড়া প্রায় সব খুলে দেখাতে হয়। ভিড়াভিড়ির এ পর্যায়ে কে যে কার ব্যাগ নিচ্ছে বা কার ঘড়ি কার হাতে উঠছে বোঝা মুশকিল। এ চেকিং সব দেশে সব বিমানবন্দরে হয়। কিন্তু সিডনি থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় এমন নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়তে হয়। কারণ তখন যারা যাত্রী বা লাইনে তারা নিয়ম মানেন। তার মানে কী, আমাদের দেশের মানুষজন নিয়ম মানে না? না, এ কথা বলা যাবে না। মানে, কিন্তু সব জায়গায় বা সব মানুষ মানে না। না মানার কারণ তাদের অজ্ঞতা। তাদের এ বিষয়ে কোনো ধারণা নেই।

আমরা বিয়েবাড়ি থেকে বাসে ওঠাÑসব জায়গায় তাড়াহুড়া করতে ভালোবাসি। এই যে বিমানযাত্রায় যে বা যারা নিয়ম না মেনে মালয়েশিয়ার মানুষজনের মনে দেশ ও জাতি সম্পর্কে নেগেটিভ ধারণ দিয়ে চলেছেন, তারা সবাই জানেন ওই বিমানটি তাদের ছেড়ে উড়াল দেবে না। তাদের নির্দিষ্ট আসনটিতে আর কেউ বসতে পারবে না। তবু মাছের বাজারের মতো হুড়াহুড়ি কেন? আমার ধারণা, যারা শ্রম বিনিয়োগে দেশান্তরী হন, তাদের এ বিষয়ে ছোটখাটো ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। আধঘণ্টার ছোটখাটো প্রশিক্ষণ পেলেই তারা নিয়মকানুন মেনে চলতে পারবে। এ ঝামেলা পার হওয়ার পর আপনি উড়োজাহাজে চড়ে বসলেও টের পাবেন কেবিন ক্রু বা সেবকসেবিকারা অন্যান্য ফ্লাইটের মতো আচরণ করছেন না। কেন করেন না? আপনি তাদের দোষারোপ করার আগে নিজেদের কথা ভাবুন। বাংলাদেশের অনেকের হাতেই এখন অনেক টাকা। দেশের ভেতরেও আকাশপথে যাতায়াত বেড়েছে। আমার অভিজ্ঞতা বলছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যেতে হলে অন্তত কয়েক দিন আগে এয়ার টিকিট না কাটলে আপনি টিকিট না-ও পেতে পারেন। এত যাত্রা, এত উড়াল অথচ এ মানুষগুলো বিমানে উঠলেই আরেক ধরনের অদ্ভুত হয়ে যায়! আকাশপথে সামনে লাগানো ছোট টিভি আর খাবার ছাড়া বিনোদনের কোনো পথ খোলা থাকে না। মূলত এ ভ্রমণ সবচাইতে একঘেয়ে আর অনিরাপদ। তাই তারা একটু পরপর খাবার সাধে। আমরা ভুলে যাই দুইশ-আড়াইশ যাত্রীর জন্য গোটা কয়েক মানুষ নিয়োজিত থাকেন সেবাদানে। তাদের সময় দিতে হয়। ওই সময়টাই আমাদের নেই!

বাংলাদেশের ভাবমূর্তির বিষয়টা ভাবায়। ভীষণভাবে ভাবায়। কারণ যে জাতি সাউথ ইস্ট এশিয়ায় তরতর করে এগিয়ে চলেছে, যার গায়ে উন্নয়নের হাওয়া, যার রাস্তাঘাট-অবকাঠামো পুরো বদলে গেছে তার কেন এমন ব্যবহার হবে? আমাদের দেশের নেতা শেখ হাসিনা। তিনি, তার পরিবার ঝাঁ চকচকে আধুনিক। পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, কন্যা পুতুল দারুণভাবে কথা বলেন। তাদের আধুনিকতা দেখলেই বোঝা যায়। সে দেশের মানুষ হিসেবে আমরা কি আরও আধুনিক হতে পারি না? আমাদের মেধাবী শ্রমশক্তি অন্যান্য দেশে ভালো কাজ করে বলেই জায়গা পায়। যেতে পারে। যে জায়গাটায় ঘাটতি তা হচ্ছে আমাদের এসব শ্রমশক্তিকে একটু আধুনিক করে তোলা। যারা সেদিন আমাদের সঙ্গে ঢাকা গিয়েছিলেন তাদের আচার-আচরণ বা পোশাক ইত্যাদি বলে দিয়েছে তারা সচ্ছল। তাদের ঘাটতির জায়গাটা ম্যানার বা ব্যবহার। একটি জাতির এজন্য আইডল দরকার। নেতা বা সমাজপতি নামে পরিচিতদের দরকার নিজেদের সংযত করা। তাদের মানুষ ফলো করে। তাদের আচরণ ও ব্যবহার বা কায়দাকানুন যতটা চমৎকার হবে ততটাই প্রভাব ফেলবে সাধারণ মানুষের জীবনে।

বাংলাদেশের পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র এখন আগের জায়গায় নেই। সবুজ পাসপোর্ট দেখলেই ভ্রু কোঁচকানোর দিন শেষ। তার জায়গায় ধীরে ধীরে সমীহ আর ভালো লাগা তৈরি হচ্ছে। এখন এ জায়গাটা শক্তপোক্ত করতে হলে আমাদের শ্রমশক্তি আর সাধারণ মানুষকে প্রাণবন্ত আধুনিক করে তুলতে হবে। দেশে যোগ্য মানুষের অভাব নেই। অভাব নেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের। এখন চাইলেই এ কাজ শুরু করা যায়। বলছিলাম দেশ ও দেশের মানুষের ভালোমন্দের কথা। তাদের ভালোমন্দের অন্যতম সূতিকাগার রেমিট্যান্স। তার জোগানদাতাদের দেশে-বিদেশে ভালো রাখা আর তাদের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেই সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে উঠবে। এটাই আমার ধারণা।

  • সিডনিপ্রবাসী লেখক
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা