নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২২ ১৪:২৮ পিএম
আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২২ ১৯:২২ পিএম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি)
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকে করোনাভাইরাস ও ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে আমাদের দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা হচ্ছে। তার মানে এই নয়, আমরা উন্নয়নের নামে লুটপাট করছি। লুটপাটের রাজনীতি বিএনপি করে, আওয়ামী লীগ না। তিনি বলেন, দেখলাম বিএনপি নেতারা হারিকেন নিয়ে আন্দোলন করছে। তাদের হাতেই হারিকেন ধরিয়ে দিতে হবে। আর আমরা দেশের মানুষের জন্য যে সব কাজ করছি, তাই করবো।
আজ সোমবার (১ আগস্ট) কৃষকলীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্বেচ্ছায় রক্ত ও প্লাজমাদান কর্মসূচিতে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি নেতাকর্মীদের রক্তদানে উৎসাহিত করে বলেন, জাতির পিতার আদর্শের প্রতিটি নেতাকর্মী মানুষের সেবায় সব সময় পাশে থাকবে নিবেদিত প্রাণ হয়ে।
সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জনসংখ্যা এখন সাড়ে ১৬ কোটি। এই জনসংখ্যার হিসাবও কারও কারও পছন্দ হয় না। কেন, তাহলে যারা এমন কথা বলে তারা নিজেরাই সন্তান জন্ম দিক, আমরা খাবার দেব। আমরা চাই, দেশের প্রতিটি পরিবার সুখী সমৃদ্ধ হবে। আমরা সে হিসেবেই দেশকে এগিয়ে নিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে উন্নত করতে এক ইঞ্চি জমিও খালি থাকবে না। সকলের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। যেখানে যতটুকু খালি জায়গা আছে, সেখানে উৎপানের কাজ শুরু করা হবে। দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে এই কাজ করতে হবে। পাশাপাশি দেশের মানুষকে কাজের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের কী উন্নতি হয়েছে? দেশ চলে গেলো মার্শাল ল’তে। বিএনপি ক্ষমতা দখল করে কুক্ষিগত করে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। জাতির পিতার খুনিদের রক্ষা করে, যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে তারা ক্ষমতায় আসে। দেশের স্বাধীনতার চেতনকে নষ্ট করে, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাদের চোর-ডাকাত বানিয়েছিল। এতে দেশের মানুষ কী পেল? তাদের আমলে তো মানুষ ভোট দিতে পারেনি। দলীয় সন্ত্রাসীরা সিল মেরে ভোট বাক্স ভরিয়ে ফেলত। তাদের দলীয় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ব্যালট ছিনিয়ে নিতো। বিএনপির সন্ত্রাসীরা সিল মারবে, বাক্স ভরবেন এটাই ছিল নীতি। বিএনপির আমলে মানুষের ভোটের অধিকার ছিল না। তাদের কাছ থেকেও কথা শুনতে হয়। নির্বাচনের কথা তারা বলে কোন মুখে?
এ সময় সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন সরকারপ্রধান বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্র থাকলে দেশ কত এগিয়ে যায়, বাংলাদেশ আজ তার বাস্তব উদাহরণ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর উন্নয়নের রোল মডেল বাস্তবায়ন করেছে।
বিএনপির ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে তো তারা ক্ষমতায় ছিল। তারা দেশের মানুষের জন্য কী করেছে? বরং ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ যেসব উদ্যোগ নিয়েছিল, পরে ২০০১ সালে তারা ক্ষমতায় গিয়ে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশকে পরনির্ভরশীল করে তোলে। দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয় দেশ। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, খুন-খারাবিতে ভরে যায়। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি। শিক্ষার্থীদের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে তারা।
কৃষকলীগের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।
প্রবা/রাই