প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৪ ০০:৫০ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন গত তিন সরকারের সময় দেশে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হয়েছে। তবে যাত্রালগ্নে বর্তমান সরকারের সামনে এসেছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন এই সরকারের কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে।
সাধারণ নাগরিকেরা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, এবারের মন্ত্রিসভায় এসেছেন নতুন মুখ; আছেন অভিজ্ঞরাও। তাই সরকারের নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে আশাবাদী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নতুন সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ নিত্যপণ্যের দামের লাগাম টেনে ধরার। কর্মসহায়ক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন, তৈরি পোশাক, শিল্প খাতে বিশেষ নজর দেওয়াসহ শ্রমিকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করারও প্রত্যাশা সাধারণ জনগণের। নতুন সরকারের হাত ধরে বদলাবে দেশ, সেই প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
দশ বছর ধরে বাড্ডার ডিআইটি আবাসিক এলাকায় নিজের একটি দোকান চালান শাহ আলম। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যমন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছে জানি। তবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জানি না। এই পরিবর্তনে আমি আশাবাদী। নতুন মন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা, তিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনবেন।’ তিনি বলেন, ‘আগের বাণিজ্যমন্ত্রী দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। গত দুই বছর বাজারের অস্থিরতার জন্য মানুষের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। আলুর এই ভরা মৌসুমেও কেজির দাম ৭০ টাকা, যা আমি কখনও দেখিনি।’
দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক শিল্প খাতের অবদান ব্যাপক। এ খাতের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকরা যেন ন্যায্য মজুরি পান, সেই প্রত্যাশা বেসরকারি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তানভীর হাসানের। তিনি বলেন, ‘এই শিল্প খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অঙ্গনকে আগের থেকে আধুনিক ও যুযোপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকার এগিয়ে আসবে বলে আশা করি। পাশাপাশি আমাদের এই খাতের শ্রমিকরা যেন সর্বদা ন্যায্য মূল্য পান সেদিকেও তারা খেয়াল রাখবেন। বিশেষ করে এ খাতের আরও নতুন নতুন বাজার তৈরিতে সরকার উদ্যোগী হবে বলে প্রত্যাশা করছি।’
করোনাকালে চাকরি হারানো বর্তমানে বাইকচালক মাহফুজুল ইসলাম সুজন নতুন সরকার গঠন হয়েছে জানেন। তবে কারা মন্ত্রী হয়েছেন তা জানতে পারেননি। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন হয়েছে শুনে স্বস্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মন্ত্রী পরিবর্তন দরকার ছিল। স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসার ব্যয় এত বেশি, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সেই জায়গাটা নতুন মন্ত্রী খুব ভালো বুঝবেন বলে আশা করি।’
দিনাজপুরের ছেলে ২৩ বছর বয়সি নূর আলমের এইচএসসির পর পড়ালেখায় ছেদ পড়ে অভাবের কারণে। তিনি এখন ঢাকায় রিকশা চালান। তার নতুন সরকার, নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ নেই। কথা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঠাঁকুরগাও-৩ আসনের ভোটার তিনি। তার ভাষায়, ‘আমাদের এমপি হয়েছেন জাপার হাফিজ উদ্দীন আহমেদ। এবার একটু পরিবর্তন হবে হয়তো।’ কোনো প্রত্যাশা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকে মেধাবী, কিন্তু পড়তে পারে না, পরিবারও সচেতন না। অল্প বয়সে কাজে দিয়া দেয়। সেই জায়গাগুলোতে নজর আনতে পারলে ভালো হয়।’
একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন রাজিব খান। নতুন সরকারের কাছে তার প্রত্যাশা হচ্ছে একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের। বিশেষ করে দেশ থেকে অর্থ পাচাররোধে নতুন মন্ত্রীদের ভূমিকা চান তিনি। তার ভাষায়, ‘তাহলে সরকার যে উন্নত বাংলাদেশের কথা বলছে, সেটার সুফল সরাসরি জনগণ পাবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিয়াজ মাহমুদ। অর্থনীতিতে মাস্টার্স করছেন তিনি। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন মন্ত্রী নতুন উদ্যোগ নেবেন বলে মনে করেন তিনি। তার দাবি, ‘এবার সরকার যেন গবেষণা খাতে আরও বেশি বরাদ্দ বাড়ায়। তা না হলে দেশ পিছিয়ে যাবে’। তিনি বলেন, ‘গবেষণার পাশাপাশি দেশ গড়তে কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করা ও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিবিদ্যায় পারদর্শী করে গড়ে তুলতে হবে। তা নাহলে কাঙ্ক্ষিত স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্যে আমরা কোনো দিন পৌঁছাতে পারব না। এ ছাড়া সমাজকে সম্পূর্ণরূপে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।’
ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন। ঢাকা বিশ্বদ্যিালয় থেকে বাংলায় পড়াশোনা শেষ করে সদ্য চাকরি শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ‘ক্রীড়াঙ্গনে মেয়েদের খেলায় অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। খেলাধুলা নিয়ে নতুন মন্ত্রীর অভিজ্ঞতা আছে। সে জায়গায় তিনি যেন একটু নজর দেন।’
তিনি মূল্যস্ফীতি কমানোরও প্রত্যাশা করেন নতুন সরকারের কাছে। তার বক্তব্য, ‘যদি মূল্যস্ফীতি কমে আসে তবে সাধুবাদ পাবে এবারের মন্ত্রিসভা। সেই জায়গায় অবশ্যই নজর দিতে হবে। কারণ সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় সংকট এখন দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতি।’ স্বাস্থ্য খাতের উন্নতিতে নতুন মন্ত্রী কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা তার।