জাতীয় সংসদ নির্বাচন
সাজ্জাদুল ইসলাম
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৪ ০১:২১ এএম
ভোটের মাধ্যমে নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করে সংসদ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশীদার হয়েছেন ১ কোটি ৫৪ লাখ তরুণ। এবার তারা প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কেন্দ্র কেন্দ্রে তরুণ-তরুণীদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতি দেখা গেছে। অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথম ভোট দিয়ে তারা দারুণ খুশি। শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়ায় স্বস্তিতে কেন্দ্রে আসতে পেরেছেন তারা।
রবিবার (৭ জানুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণের সময় রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে কথা হয় তরুণ ভোটারদের সঙ্গে।
সপরিবারে ঢাকা-১০ আসনের ধানমন্ডির সেন্ট্রাল রোডের আইডিয়াল কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন প্রথমবার ভোটার হওয়া নাদিয়া আলীম দিনা। সঙ্গে ছিলেন ৬৫ বছর বয়সি দাদি হোসনে আরা বেগম। বয়সের ভারে ভালো করে হাঁটতে না পারলেও দিনার হাত ধরে ভোটকেন্দ্র আসেন তিনি। দিনা বলেন, ‘দাদিকে নিয়ে এসেছি, তিনি তার ভোট দিয়েছেন। তিনি সব নির্বাচনেই ভোট দেন। আর এবার আমার শুরু। প্রথমবার ভোট দিয়েছি। কেন্দ্রটি আমার কলেজ। সেই সঙ্গে প্রার্থীও ছিল আমার প্রিয় একজন। ভোট দিতে পেরে আনন্দিত।’
তরুণ-তরুণীদের কেউ কেউ তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে কেন্দ্রে আসেন প্রথমবার ভোট দিতে। তাদেরই একজন বগুড়া শহরের টিনপট্টি এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনীতা মুখার্জি। অনীতা দুপুরে বাবা-মা ও তার ঠাকুরমার সঙ্গে কাটনার সেন্ট্রাল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। ভোট দেওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে অনীতা বলেন, ভোট কীভাবে দিতে হয়, সেটা জানা ছিল না। মনে একটু দ্বিধা ছিল, প্রথমবার নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছি বলে নিজেকে বেশ বড় মনে হচ্ছিল।
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার বাসিন্দা তরুণ ভোটার সামিরা ইয়াসমিন। প্রথম ভোট দেওয়ার অভিব্যক্তি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, যখন ছোট ছিলাম তখন ভোট দিতে মা আমাকে নিয়ে কেন্দ্রে যেতেন। আমার মতো আরও অনেক শিশু তাদের মায়ের সঙ্গে আসত। অনেক আনন্দ লাগত তখন। এবার ভোট দিয়ে তেমন আনন্দ পেয়েছি।
বগুড়া জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোর কোনো কোনোটিতে ভোটার উপস্থিতি কম। আবার কোনো কোনো কেন্দ্রে বেশি ছিল। তবে যেখানে ভোটার বেশি ছিল, দেখা গেছে সেখানে তরুণ ভোটারই বেশি।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া গ্রামের গৃহবধূ ইমু আক্তার। তিনি ভোট দিয়েছেন হাজী ইয়াদ আলী বিদ্যালয় কেন্দ্রে। জানতে চাইলে বলেন, প্রথমবার ভোট দেওয়া নিয়ে প্রস্তুতি ছিল, ভীতিও ছিল। কিন্তু ভোটকেন্দ্রে এসে দেখি পরিবেশ শান্ত। প্রথমবার ভোট নিজে দিয়েছি। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে খুশি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রোহান ইসলাম। তিনি যশোর-৪ আসনের ভোটার। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম ভোট দেওয়ার বিষয়ে বলেন, ভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পেরে আনন্দিত। পাশাপাশি উৎসবমুখর পরিবেশে সবাইকে নিয়ে ভোট দিয়েছি। বিশেষ করে এবারের নিরাপত্তার ব্যবস্থা অত্যন্ত ভালো ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী নিয়াজ মাহমুদ। তিনি বরিশাল-৫ আসনের ভোটার। জাতীয় নির্বাচনে প্রথম ভোট দিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, নিজের অধিকার নিজে প্রয়োগ করার অনুভূতিটা অন্যরকম। অনেকে এই অধিকারকে তুচ্ছ করে দেখছেন, যেটি দেশের জন্য এবং তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য খারাপ। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রগঠনে অংশীদার হওয়া উচিত।
জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে পেরে খুশি ঐশী। রাজধানীর স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তিনি। বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন মালিবাগে। এবার প্রথম ভোটার হয়েছেন। ভোটকেন্দ্র ছিল ঢাকা-৮ আসনের সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, জীবনের প্রথম ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে। আমার কিছু বন্ধুও এবার নতুন ভোটার হয়েছে। ওদের সঙ্গে এই ভোটটা উদযাপন করব। নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছি।