রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:৩৮ পিএম
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:৪৪ পিএম
রাঙামাটির আটটি আর খাগড়াছড়ির ১৯টি কেন্দ্রে ভোট পড়েনি। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ও বঙ্গলতলী ইউনিয়নের পাঁচটি, কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের একটি ও ফটিকছড়ি ইউনিয়নের দুটি কেন্দ্রে কোনো ভোট পড়েনি।
ভোটশূন্য কেন্দ্রগুলো হলো সাজেক ইউনিয়নের কংলাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তুইছুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিয়ালদাহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বঙ্গলতলী ইউনিয়নে বঙ্গলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কাউখালী উপজেলার তিনটি কেন্দ্র হলো ঘাগড়া ইউনিয়নে পানছড়ি উচ্চবিদ্যালয় ও ফটিক ছড়ি ইউনিয়নের না ভাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বর্মাছড়ি সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়।
এ বিষয়ে কাউখালীর সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রক্তিম চৌধুরী ও বাঘাইছড়ি সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা ইউএনও শিরিন আক্তার ভোট না পড়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এই আটটি কেন্দ্রে মোট ১৫ হাজার ১৫৯ জন ভোটার রয়েছেন।
একইভাবে খাগড়াছড়ির তিনটি উপজেলার ১৯টি কেন্দ্রে ভোট পড়েনি। এগুলোর মধ্যে পানছড়ি উপজেলায় রয়েছে ১১টি ন্দ্রে। আর লক্ষ্মীছড়িতে পাঁচটি ও দীঘিনালার তিনটি কেন্দ্র ভোট পড়েনি। রবিবার (৭ জানুয়ারি) ভোটগ্রহণ শেষে রাতে ফল ঘোষণার সময় এসব তথ্য জানা যায়।
পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও অঞ্জন দাশ বলেন, লোগাং করল্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তারাবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চেংগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৃষ্টমনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড় পানছড়ি (উত্তর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধুদুকছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লতিবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মরাটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কোনো ভোটার ভোট দেয়নি। এছাড়া দক্ষিণ লতিবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মাত্র একজন ভোট দিয়েছেন।
অন্যদিকে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সুলতানা রাজিয়া জানান, ভোটার কেন্দ্রে না আসায় বর্মাছড়ি ইউনিয়নে চারটি ও লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়নের একটি কেন্দ্র ভোটশূন্য ছিল।
দীঘিনালার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও মো. মামুনুর রশীদ জানান, উপজেলার নুনছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জারুলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাঘাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে কোনো ভোটার ভোট দেয়নি। এসব কেন্দ্রের সবাই পাহাড়ি ভোটার।
১৯ কেন্দ্রে ভোটশূন্য হওয়ার ঘটনায় ইউপিডিএফের ভোট বর্জন কর্মসূচিকে দায়ী করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মুলেন্দু চৌধুরী বলেন, ‘ইউপিডিএফ ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল। তারা যেহেতু সশস্ত্র সংগঠন, সে কারণে মানুষ তাদের ভয়ে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসেনি। এ কারণে দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছে।’ তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপিডিএফের সংগঠক অংগ্য মারমা বলেছেন, ‘নির্বাচনের ওপরে মানুষের আস্থা নেই। তাই ভোটাররা ভোট না দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।’