প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৩ ১৮:৫০ পিএম
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিতে শিক্ষকদের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেছেন, নতুন ও তরুণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্র নিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিশেষ দায়িত্ব পালন করতে পারেন। যদি এমনটা করা যায় তাহলে বিএনপি, যুক্তরাষ্ট্রসহ যারা এ দেশের নির্বাচন নিয়ে নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে তাদের কঠোর জবাব দেওয়া যাবে।
শনিবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও অপরাজনীতির প্রতিবাদে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘এডুকেশন, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন এই সভার আয়োজন করে। এতে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষসহ সিনিয়র শিক্ষকদের ডাকা হয়। অনুষ্ঠানের ৩৫ জন শিক্ষক বক্তব্য রাখেন। এসময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রফেসর সাজ্জাদ হোসেন বলেন, দেশের স্বাধীনতাবিরোধীরা আবার হত্যা, সন্ত্রাসের রাজনীতি শুরু করেছে। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, আগামী জানুয়ারিতে আবার বিজয় উৎসব হবে। সেই নির্বাচনে ৮০ শতাংশ ভোটারদের ভোটকেন্দ্র নিয়ে আসতে হবে। সে ক্ষেত্রে তরুণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য শিক্ষকরা মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারেন। তিনি ভোটের আগে সব শিক্ষককে ভোটারদের কাছে যেতে অনুরোধ জানান। আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই, ঘরে বসে গণতন্ত্র পাবেন এই ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ভোটকেন্দ্রে না গেলে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে বলে সতর্ক করেন এই শিক্ষক।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মশিউর রহমান সভায় বলেন, আজকে যে দলটি আন্দোলন করেছে তাদের জন্ম হয়েছে ক্যান্টনমেন্ট থেকে। তাদের আদর্শে রয়েছে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস আর স্বাধীনতাবিরোধিতা। অন্যদিকে বাংলাদেশ চলছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার ওপর দিয়ে। সেই চেতনার বাইরে গিয়ে রাজনীতি করলে তাদের পতন অনস্বীকার্য। তারা রাজনৈতিক ময়দান থেকে বিলীন হয়ে যাবেন এটাই স্বাভাবিক।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করে মশিউর রহমান বলেন, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা যাদের অন্যতম উদ্দেশ্য তারাই আমাদের ছবক দিতে আসছে। গাজায় শিশুহত্যা হচ্ছে। সেখানে আপনাদের বিবেক কোথায়? এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭১ সালে যেন স্বাধীন হতে না পারি সেজন্য সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল। এবার দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে বিএনপি-জামায়াতকে মাঠে নামিয়েছে।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল (বিইউপি) উপ-উপাচার্য খন্দকার মোকাদ্দেম হোসেন বলেন, আগামী নির্বাচনে যদি ভোটকেন্দ্রে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ভোটার টানা যায় তাহলে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও অপরাজনীতির জবাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে শিক্ষকদের ভূমিকা রাখতে হবে। সমাজ কখনও রাজনৈতিক নেতাদের চেয়ে শিক্ষকদের বেশি সম্মান করে। এই জায়গা থেকে আমাদের ভোটারদের কাছে যেতে হবে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অলোক কুমার পাল বলেন, করোনা-পরবর্তী অর্থনীতি যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেশন জট কমতে শুরু করছে ঠিক তখনই দেশে আবার হত্যা, আগুনসন্ত্রাসের রাজনীতি শুরু করেছে বিএনপি-জামায়াত। শিক্ষা কার্যক্রম যেকোনো মূল্যে চালু রাখতে সবাইকে আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মাহফুজুর রহমান, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. নাছিম আখতার, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য কামাল উদ্দিন, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য আলিমুজ্জামান, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ কিউ এম মাহবুব, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক জিনাদ হুদা, বুয়েট শিক্ষক মিজানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।