ফসিহ উদ্দীন মাহতাব
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২২ ১১:৫১ এএম
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২২ ১২:২০ পিএম
ফাইল ছবি
প্রান্তিক পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তির সুবাতাস পৌঁছে দিতে ঢাকঢোল পিটিয়ে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ‘ডিজিটাল সেন্টার’ খুলেছে সরকার। লক্ষ্য ছিল, তৃণমূল পর্যায়ের নাগরিকেরা যেন সহজেই জন্মনিবন্ধন সনদ, রেশন কার্ড, ভূমির ডিজিটাল সেবাসহ অন্যান্য সরকারি সুবিধা পেতে পারেন।
গত তিন বছরে এসব সেন্টারে ইন্টারনেট সেবা দিতেই ২৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছে সরকার। তবু প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের ভোগান্তি শেষ হয়নি। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে গিয়েও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ বিস্তর। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভায়।
টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ইনফো-সরকার ৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতাধীন ২ হাজার ৬০০ ইউনিয়নকে ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের মধ্যে আনা হয়েছে। ২ হাজার ৩৪৫টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের সংযুক্ত করা হয়েছে এই নেটওয়ার্কে। বাকি ২৫৫টি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে ভূমি অফিস, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে।
গত তিন বছর ধরে উদ্যোক্তা পর্যায়ের ডিজিটাল সেন্টারগুলোতে বিনামূল্যে ৫ এমবিপিএস মাত্রায় বিনামূল্যে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হচ্ছে। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২৫ কোটি ৩২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অর্থাৎ মাসে ৭০ লাখ এবং বছরে ৮ কোটি টাকা। তিন বছরে ডিজিটাল সেন্টারের (অপটিক্যাল ফাইবার কেবল) রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হয়েছে আরও ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা। আর যন্ত্রাংশের ওয়ারেন্টি ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হয়েছে ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভবিষ্যৎ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে পরিকল্পনা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) চুক্তির মাধ্যমে ইনফো-সরকার ৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতাধীন নির্মিত ইন্টারনেট অবকাঠামোটি রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, আপগ্রেডেশন, প্রতিস্থাপন এবং পরিচালনা করার লক্ষ্যে ২০ বছরের জন্য বেসরকারি অংশীদার নির্বাচন করা হচ্ছে।
সংসদীয় কমিটির সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতির তথ্য অনুযায়ী, আরও ৬৫ হাজার ২২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৯ হাজার ১৬টি কলেজ, ১৮ হাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৩ হাজার ৬৯৬টি ভূমি অফিস, ১ হাজার ৭৭৩টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৬৫৩টি মাদ্রাসা, ২০৭টি সমাজ কল্যাণ বিভাগের অফিস এবং ৬৭৩টি অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১ লাখ ৯ হাজার ২৪৪টি ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হবে। ইডিসি প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম চলছে। এই প্রকল্পের অধীনে দুর্গম অঞ্চলেও সংযোগ দেওয়া হবে। একই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে সংযোগ পাবেন টেলিকম অপারেটররাও।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দূরদর্শিতায় বিপুল এ কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার পরও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ৮০ কোটি ডিজিটাল সেবা দেওয়া হয়েছে। শ্রম ও সময়ের মূল্য হিসেবে প্রতিটি সেবার আনুমানিক মূল্য ১ হাজার টাকা করে ধরা হলে ইনফো-সরকার তৃতীয় পর্যায়ের আওতায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে ৮০ হাজার কোটি টাকার সেবা দেওয়া হয়েছে।
তবে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোতে জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি, নাগরিকের রেশন কার্ড, ভূমির ডিজিটাল সেবাসহ অন্যান্য কাজে এসে অনেকে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে জনবান্ধব প্রকল্পটি কিছু ক্ষেত্রে সমালোচনার মুখে পড়ছে বলে মনে করেন সেবাগ্রহীতারা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ইন্টারনেট সেবা মানুষের কঠিন কাজ সহজ করে দিয়েছে। ঘরে বসেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে। সরকার তথ্য প্রযুক্তিবান্ধব হওয়ায় সহজভাবে সবকিছু করা সম্ভব হচ্ছে। গত ৩ বছরে ৮০ কোটি সার্ভিস পাওয়া কম কথা নয়। সেবার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা থাকলে তা আমলে নিয়ে সমাধান করা হচ্ছে।
প্রবা/ইউরি/এমজে