প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২২ ১৩:৫৩ পিএম
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২২ ১৫:০০ পিএম
গত ৪ অক্টোবর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্ল্যাক আউট হয়। ছবি: প্রবা
জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্ল্যাক আউটের তিন কারণ খুঁজে পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এবার ব্ল্যাক আউটের ঘটনার পুরোটাই ঘটেছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তাদের অবহেলা ও ভুলের কারণে।
শুধু পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) নয়, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)ও এ ব্ল্যাক আউটের জন্য দায়ী। এজন্য কয়েকজন কর্মকর্তা শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান পিজিসিবির নির্বাহী পরিচালক (পিঅ্যান্ডডি) মো. ইয়াকুব এলাহি চৌধরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে যার যেভাবে যেটা করা দরকার সেভাবে সেটা করে না। এ কারণে যন্ত্রও সেভাবে কাজ করে না। আগামীকাল বা পরশু এ তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। তবে এর বেশি কিছু এ মুহূর্তে বলতে রাজি হননি তিনি।
গত ৪ অক্টোবর ২টা ৫ মিনিটে দেশে ব্ল্যাক আউটের ঘটনা ঘটে। ওই দিন কেবল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকা বাদে সারা দেশ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পিজিসিবি সূত্রমতে ব্ল্যাক আউটের তিন কারণ হলো—
১. ব্ল্যাক আউটের ঘটনা ঘটার সময় দেশে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছিল। তখন ঢাকার দুই বিতরণ প্রতিষ্ঠান ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানিকে (ডেসকো) লোডশেডিং করতে বলা হয়। কিন্তু তারা সময়মতো লোডশেডিং করতে পারেনি। এতে গ্রিডে বড় রকমের চাহিদা তৈরি হয়।
২. ঘোড়াশাল সাবস্টেশনের (উপকেন্দ্রটির) বিদ্যুৎ নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ১ হাজার মেগাওয়াট। সরবরাহ ৯০০ মেগাওয়াটের ওপরে উঠলেই অ্যালার্ম বা সংকেত দেয়। কিন্তু ওই দিন সেটিংয়ে ভুল করা হয়। মূলত সিস্টেমটি রিসেট করতে গিয়ে এ ভুল করা হয়। ওই দিন ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে উপকেন্দ্রটি এমন সেটিং করা হয়।
৩. চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কমে যাওয়ার ঠিক ওই মুহূর্তে চট্টগ্রামের আবুল খায়ের স্টিল অ্যান্ড রিরোলিং মিল গ্রিড থেকে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রহণ শুরু করে। এতে পুরো বিতরণব্যবস্থা এলোমেলো হয়ে যায়। প্রসঙ্গত, আবুল খায়ের স্টিল মিল দেশে এককভাবে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। তাদের অনুমোদিত লোড ২০০ মেগাওয়াটের ওপরে। সরাসরি পিজিসিবির গ্রিড থেকে নিজস্ব সাবস্টেশনের মাধ্যমে ফ্যাক্টরিটি বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে থাকে।
এর আগে জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছিলেন, ব্ল্যাক আউটের পেছনে কারিগরি নয়, মূলত ব্যবস্থাপনা ত্রুটি ছিল। আর এজন্য দায়ী সঞ্চালন কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘ব্যবস্থা’ নেওয়া হচ্ছে।
ব্ল্যাক আউট নিয়ে গত শুক্রবার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ছাড়াও পিজিসিবি চেয়ারম্যান মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ও পিজিসিরি একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ২০১৫ এবং ২০০৮ সালে আরও দুই দফা বড় রকমের ব্ল্যাক আউটের ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে ২০১৫ সালে ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ত্রুটি এবং ২০০৮ সালে ঘুর্নিঝড় সিডরের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কমে গেলেও উৎপাদন বেশি থাকায় ব্ল্যাক আউট হয়।
প্রবা/আরএম/জেও