দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২:২৯ পিএম
আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:৩৫ এএম
জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটগ্রহণের তারিখ চূড়ান্ত না হলেও এ রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্বাচনের বাকি আছে চার মাসের মতো। হাতে সময় কম থাকায় কমিশনের কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা যেমন বেড়েছে, তেমন বেড়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা।
অন্যদিকে নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, রাশিয়া, ভারতসহ মিত্র দেশগুলো। চলতি মাসে এ তৎপরতা নতুন মাত্রা পাবে বলে আলোচনা রয়েছে। কারণ ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফর করবেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। এর ঠিক চার দিন পর বাংলাদেশে আসছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। এ দুই সফরের মধ্যবর্তী সময়ে (৮ সেপ্টেম্বর) আবার জি২০ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হতে পারে তার। সব মিলে সেপ্টেম্বরে ঢাকার কূটনৈতিক ক্যালেন্ডার ঠাসা থাকছে একাধিক হাই-প্রোফাইল পরিদর্শন ও নানা চুক্তিতে।
নির্বাচনের চূড়ান্ত রোডম্যাপ ঘোষণার আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ এবং অনন্য বলা হচ্ছে। কারণ হিসেবে তিন দশকের বেশি সময় পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর এবং প্রথমবারের মতো রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমনের বিষয়টিকে আনা হচ্ছে সামনে।
সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি জোটের সম্প্রসারণসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে। তাকে শুভেচ্ছাবিনিময় করতে দেখা গেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও। যদিও এ সম্মেলনে যোগ না দিতে নানাভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। কারণ পশ্চিমারা মনে করে, রাশিয়াসহ ব্রিকস সদস্যভুক্ত দেশগুলোর প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটম বাংলাদেশের রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সফরের মাধ্যমে এ কেন্দ্রের কাজ সমাপ্তির দিকে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঢাকা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মস্কোর সঙ্গে ২০১৫ সালে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছিল ২০১৫ সালে। চুক্তি অনুসারে মোট খরচের ৯০ ভাগ অর্থায়ন রাশিয়া করছে বলে জানা গেছে। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে মস্কোর ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকায় অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে বেশকিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তখন তারা অন্য কোনো মুদ্রায় অর্থ পরিশোধ করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা করবেন।
নিষেধাজ্ঞার কারণে ডলারের মাধ্যমে রাশিয়াকে অর্থ পরিশোধ করা এখন সহযোগী অনেক দেশের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় চীনা ইউয়ানের মাধ্যমে মস্কোকে কিছু অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। তাই ঢাকায় আলোচনাটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ এতে কিছু আর্থিক ও ভূরাজনৈতিক প্রবণতা প্রতিফলিত হতে পারে।
ঢাকার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে ফ্রান্সের। দেশ স্বাধীনের পর পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সই প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দিকে দেশটি তার কৌশলগত অবস্থান পুনর্নির্মাণ করছে এবং ঢাকার সঙ্গে সম্প্রসারিত সামরিক সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় রয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমাদের অব্যাহত চাপের বিষয়টি তাকে অবহিত করার সুযোগ পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে বিএনপি। তবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্কের জেরে বরাবরই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।