প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২২ ২২:৩৩ পিএম
আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২২ ২২:৩৩ পিএম
লালবাগ দুর্গ। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মুঘল স্থাপত্য লালবাগ দুর্গের হাম্মামখানাকে যথাসম্ভব আদিরূপে ফিরিয়ে নিতে কাজ করছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের হেরিটেজ সেল। হাম্মামখানা ছাড়াও লালবাগ দুর্গের অন্যান্য স্থাপনাও পর্যায়ক্রমে সংস্কার-সংরক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।
মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর লালবাগ দুর্গের সেমিনার হলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন লালবাগ দুর্গস্থ হাম্মামখানার সংস্কার-সংরক্ষণ কার্যক্রম বিষয়ক পর্যালোচনা ও অংশীজন সভায় এসব কথা বলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রতন চন্দ্র পণ্ডিত।
লালবাগ কেল্লা ১৬ শতকে নির্মিত একটি অসম্পূর্ণ দূর্গ। ১৬৭৮ সালে মোঘল সুবেদার মুহাম্মদ আযম শাহ এই দূর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। লালবাগ কেল্লায় একটি মসজিদ, পরিবিবির মাজার এবং হাম্মামখানা রয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ইতোপূর্বে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে ছাদ বাগান এবং পানি নিষ্কাসন ব্যবস্থার প্রত্নসাক্ষ্য সম্পর্কে ধারণা নিয়েছে। ১৯৯৯ সালে লালবাগ কেল্লা বাংলাদেশের অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য সম্ভাব্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। দোতলা বিশিষ্ট হাম্মামখানা ভবনটি মোঘল সুবেদারদের দরবার হল হিসেবে ব্যবহৃত হত।
মঙ্গলবারের ওই অনুষ্ঠানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।
প্রত্নতাত্ত্বিক সংস্কার-সংরক্ষণে মূল অবকাঠামো ও অবয়ব বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট স্থপতি, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও সংরক্ষণ প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানান সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।
তিনি বলেন, সংস্কার-সংরক্ষণ কাজে যাতে মূল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
লালবাগ দুর্গের হাম্মামখানার সংস্থার-সংরক্ষণ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন প্রকল্পটির পরামর্শক বিশিষ্ট স্থপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ এম আহমেদ। বিশেষজ্ঞ মতামত দেন প্রকল্পের পরামর্শক অধ্যাপক এ কে এম শাহনাওয়াজ এবং প্রকল্পের শ্রীলঙ্কান পরামর্শক ড. টি এম নিলাম কোরে।
সভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন অংশীজন, জনপ্রতিনিধি, এলাকাবাসী, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ অন্যান্য বিভাগ ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এর আগে লালবাগ দুর্গের হাম্মামখানার সংস্কার-সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস আয়োজিত ইউএস অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেমশন-স্মল গ্রান্টস কম্পিটিশনে (অর্থবছর-২০২০) প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পাঠানো প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রস্তাবে ঐতিহ্যবাহী মুঘল স্থাপত্য লালবাগ দুর্গের হাম্মামখানার সংস্কার, আদি নকশা পুনরুদ্ধার ও ত্রিমামিত্ক স্থাপত্য নকশা অন্তর্ভূক্ত ছিল।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে লালবাগ দুর্গের হাম্মামখানার সংস্কার-সংরক্ষণের এ পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত হেরিটেজ সেলের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। হেরিটেজ সেলের সদস্যরা হলেন- প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. আমিরুজ্জামান, উপপরিচালক, সহকারী স্থপতি খন্দকার মাহফুজ আলম এবং মো. ফিল্ড অফিসার খায়রুল বাসার স্বপন।
প্রকল্পের কাজের জন্য তিনজন বিশেষজ্ঞ পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম. আহমেদ ও অধ্যাপক ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞ ড. টি এম জে নিলান কোরে।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল- গবেষণা ও ডকুমেন্টশনের মাধ্যমে হাম্মাম ভবনের সংস্কার পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ইতোপূর্বে সনাক্ত করা ক্ষতি প্রশমনের নিমিত্ত জরুরি কিছু সংস্কার-সংরক্ষণ কাজ সম্পাদন।
প্রকল্পটির নির্ধারিত ছিল সময়সীমা অক্টোবর-২০২০ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২২। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে কাজটি শুরু হতে দেরি হওয়ায় এর সময়সীমা আগামী মার্চ ২০২৩ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। ত্রিমাত্রিক স্থাপত্য ডকুমেন্টেশন কাজের জন্য বিশেষায়িত ফার্ম হিসেবে গ্লোবাল সার্ভে কনসালট্যান্টসকে নিয়োজিত করা হয়।
প্রবা/এইচকে