× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাণিজ্য সংগঠন করতে মানতে হবে কঠোর শর্ত

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৩ ১০:৩২ এএম

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৩ ১৪:৪৭ পিএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

নতুন বাণিজ্য সংগঠন করতে হলে কঠোর নিয়ম মানতে হবে। এজন্য বিদ্যমান আইনে বিধিমালা সংযোজন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে খসড়া প্রণয়ন করছে সরকার। প্রায় তিন দশক পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে সকল অংশীজন মতামত দিয়েছেন। তবে বিধিমালায় বিদেশি ব্যবসায়ীদের নিয়ে দেশে যৌথ বাণিজ্য সংগঠন করারও সুযোগ থাকছে। এ লক্ষ্যে সোমবার (৭ আগস্ট) মন্ত্রিসভায় বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২৩ অনুমোদন পেতে পারে। সরকারের একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আইনটিকে যুগোপযোগী করা হচ্ছে। বেশ কিছু শর্ত যুক্ত করে বিধিমালা করা হচ্ছে। এটি কার্যকর হলে নামসর্বস্ব কোনো বাণিজ্য সংগঠন হবে না। তিন দশক পর নতুনভাবে বিধিমালা হচ্ছে।’ 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, দেশে এখন বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ১৯৯৪ কার্যকর রয়েছে। ১৯৮৫ সালের বিধিমালা বাতিল করে এটি করা হয়। ১৯৬১ সালের বাণিজ্য সংগঠন অধ্যাদেশের ভিত্তিতে উভয় বিধিমালাই প্রণয়ন করা হয়। সেই অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০২২ সালে নতুন বাণিজ্য সংগঠন আইন প্রণয়ন করে সরকার। সেই আইনের ভিত্তিতেই নতুন বিধিমালা করা হচ্ছে।

বিধিমালার খসড়া অনুযায়ী বাণিজ্য সংগঠন করতে কমপক্ষে ১১টি সমজাতীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানকে একত্রে নামের ছাড়পত্রের জন্য বাণিজ্য সংগঠন মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করতে হবে। সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লিমিটেড কোম্পানি, এক ব্যক্তির কোম্পানি এবং অংশীদারি প্রতিষ্ঠান তিনটিই থাকতে পারবে। নামের ছাড়পত্রের মেয়াদ থাকবে ছয় মাস। বিদ্যমান বিধিমালায় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নির্দিষ্ট করা নেই। নামের ছাড়পত্র নেওয়া ও এর মেয়াদ থাকার কথাও নেই। তিন-চারটি প্রতিষ্ঠান একত্র হয়েও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারে।

প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়েছে, বর্তমানে দুই বা এর বেশি বাণিজ্য সংগঠন যদি একই উদ্দেশ্যে লাইসেন্স নেয় তাহলে বাণিজ্য সংগঠন মহাপরিচালক এগুলোর লাইসেন্স বাতিল করে একত্রীকরণের আদেশ দিতে পারবেন। কোনো বাণিজ্য সংগঠন বা এফবিসিসিআই যদি একত্রীকরণের জন্য আবেদন করে, তখনও তা করতে পারবেন মহাপরিচালক।

জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে লাইসেন্স নেওয়া এক হাজার বাণিজ্য সংগঠন রয়েছে। এক হিসাবে দেখা যায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লাইসেন্স নেওয়া বাণিজ্য সংগঠন ছিল ৯৫৫টি। এর মধ্যে এফবিসিসিআই ১টি, বাংলাদেশ চেম্বার ১টি, মেট্রো চেম্বার ৭টি, উইমেন চেম্বার ১৮টি, যৌথ চেম্বার ৫৪টি, পেশাজীবী গ্রুপ বা সমিতি ১৮৭টি, জেলা চেম্বার ৬৪টি ও উপজেলা চেম্বার ২টি এবং অ্যাসোসিয়েশন ৪৫১টি ও অলাভজনক সংগঠন ১৭০টি। এসব সংগঠনের বেশিরভাগেরই ওয়েবসাইট নেই। ফলে এগুলোর সম্পর্কে সাধারণ কোনো তথ্যও কেউ জানতে পারেন না। এখন খসড়ায় বলা হয়েছে, নামের ছাড়পত্র পাওয়ার পর আবশ্যিকভাবে প্রস্তাবিত বাণিজ্য সংগঠনের নিজস্ব ওয়েবসাইট করতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশভিত্তিক নতুন বাণিজ্য সংগঠন করতে কমপক্ষে দুটি জাতীয় পত্রিকায় এবং অন্যান্য বাণিজ্য সংগঠনের ক্ষেত্রে একটি স্থানীয় বা আঞ্চলিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হয়। নতুন খসড়ায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা বলা হলেও তা পত্রিকায় কি নাÑ সেটি স্পষ্ট করে বলা হয়নি। বর্তমানে ফেডারেশনের পর্ষদ ৮০ জনের। এসব পদ আবার দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগে জেলাভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠন বা চেম্বার থেকে ৪০ জন পরিচালক হয়েছেন। বাকি ৪০ পরিচালক পণ্যভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনের। তবে ৮০ জন পরিচালকের মধ্যে ৩৪ জন (১৭ জন পণ্যভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠন ও ১৭ জন জেলাভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠন) মনোনয়নের মাধ্যমে ভোট ছাড়াই পদ পান। বাকি ৪৬ জনকে সরাসরি সদস্যদের ভোটে জিতে আসতে হয়।

নতুন বিধিতে চেম্বার গ্রুপ থেকে ৩২ জন ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে ৩২ জন করে মোট ৬৪ পরিচালক এবং দুটি সংগঠন থেকে সরকার মনোনীত দুজন করে চারজন পরিচালক অর্থাৎ মোট ৬৮ পরিচালক নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের পর্ষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে। সরকার মনোনীত চার পরিচালকের মধ্যে দুজন হবেন নারী। ফেডারেশনের পর্ষদে একজন সভাপতি, একজন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এবং চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে তিনজন করে মোট ছয়জন সহসভাপতি হতে পারবেন। সভাপতি অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে হলে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি চেম্বার গ্রুপ থেকে হবেন।

লাইসেন্স নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে কার্যালয় স্থাপন না করা হলে, পরপর দুই বছর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করলে এবং পরপর দুই বছর নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও রিটার্ন দাখিল না করলে সংগঠনকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হবে। ‘সুপ্ত বাণিজ্য সংগঠন’ নামে একটি ধারা রাখা হয়েছে। 

আরও বলা হয়েছে, নোটিসের জবাব সন্তোষজনক না হলে মহাপরিচালক ওই সংগঠনকে সুপ্ত বলে ঘোষণা করবেন। সংশোধনের সুযোগ দিয়েও কোনো অগ্রগতি না হলে ওই সংগঠনের লাইসেন্স বাতিল করতে সরকারের কাছে সুপারিশ করবেন মহাপরিচালক।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা