প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৩ ০০:২৩ এএম
আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৩ ১৩:৫৩ পিএম
চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্র সাধনের নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নতুন অর্থবছরে (২০২৩-২৪) সরকারি দপ্তরে সব ধরনের যানবাহন কেনাকাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। একইভাবে সরকারি খরচে বিদেশ ভ্রমণ, কর্মশালা, সেমিনারে অংশগ্রহণ এবং ভূমি খাতের অধিগ্রহণ বাবদ বরাদ্দ বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত জরুরি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের উপ-সচিব আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের লক্ষ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, পাবলিক সেক্টর কর্পোরেশন, রাষ্ট্র-মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ অর্থ ব্যয়ে সরকার কিছু নিয়েছে।
বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতে বরাদ্দ অর্থের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সাশ্রয় করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ খাতের সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ এবং জ্বালানি খাতের বরাদ্দে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ খরচ করা যাবে বলেও নির্দেশনায় বলা হয়।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, সব আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন এবং অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা খাতে বরাদ্দ অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান খাতে বরাদ্দ অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। তবে ১০ বছরের অধিক পুরোনো মোটরযান প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদনক্রমে ব্যয় নির্বাহ করা যাবে এবং ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দ অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। এ সব খাতের বরাদ্দ অর্থ অন্য কোনো খাতে এবং অন্য কোনো খাত থেকে এসব খাতে পুনঃউপযোজন করা যাবে না।
নতুন নির্দেশনায় সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণ, কর্মশালা, সেমিনার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। কোনো বিদেশ ভ্রমণ কর্তৃপক্ষের অত্যাবশ্যকীয় বিবেচিত হলে সীমিত আকারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে করা যাবে। এছাড়াও পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সরকারি অর্থায়নে এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় বা দেশ কর্তৃক প্রদত্ত স্কলারশিপ বা ফেলোশিপের আওতায় বৈদেশিক অর্থায়নে মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়ন করা যাবে। বিদেশি সরকার বা প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে ও সম্পূর্ণ অর্থায়নে আয়োজিত বিদেশি প্রশিক্ষণ; এবং সরবরাহকারী, ঠিকাদার বা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন কর্মকর্তারা সেবা বা পণ্যের গুনগত মান নিরীক্ষা বা পরিদর্শন খাতে সীমিত ভ্রমণ করতে পারবে।