হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ৬ দাবি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৩ ১৬:৫৬ পিএম
আপডেট : ২০ জুন ২০২৩ ১৭:৩৯ পিএম
জাতীয় প্রেস ক্লাবে ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টগুলোকে ফাউন্ডেশনে রূপান্তরসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। প্রবা ফটো
২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বৈষম্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। মঙ্গলবার (২০ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
বাজেটে বরাদ্দে সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্য দূর করতে সংখ্যালঘু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টগুলোকে ফাউন্ডেশনে রূপান্তরসহ ৬ দফা দাবি জানানো হয় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে। সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত।
সংখ্যালঘুদের প্রতি বাজেট বৈষম্যের বিষয় উল্লেখ করে রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পরিচালন ব্যয় বরাদ্দ এবং উন্নয়ন খাতে মোট বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ১৭৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। যেখানে উন্নয়ন খাতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ মাত্র ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে যা প্রচণ্ড বৈষম্যমূলক।’
তিনি আরও বলেন, ’বাজেট থেকে ধর্মীয় সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত হয়। আর হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টগুলো চলে আমানতের সুদের টাকায়। প্রতিবছরে ব্যাংকে জমা করা অর্থ থেকে ৫ কোটি থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা সুদ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি পেয়ে থাকে। এ টাকা থেকে বছরে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ অফিস খরচ ও বাদ বাকি ৪ কোটি কোটি টাকা দুস্থদের, মন্দিরে অনুদান ও বিভিন্ন তীর্থ স্থানে পরিক্রমার জন্য প্রতিষ্ঠানটি ব্যয় করে থাকে।‘
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টে বর্তমানে জনবল রয়েছে ৯ জন, তার মধ্যে ২ জন মুসলিম সম্প্রদায়ের। মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমে জেলাগুলোতে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রায় ৪০ শতাংশ ধর্মীয় সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের। ধর্মীয় ও আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরোহিত ও সেবায়েত দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পটি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে। এই প্রকল্পের জনবলের মধ্যেও ১০ শতাংশের বেশি ইসলাম ধর্মাবলম্বী।
হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মীয় শিক্ষায় সরকারের দৃষ্টি কামনা করে রানা দাশগুপ্ত বলেন, ’সংখ্যালঘুদের শিক্ষাব্যবস্থার একমাত্র সরকার স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সংস্কৃত ও পালি শিক্ষা বোর্ড। এই বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এ দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ জনগোষ্ঠী হিন্দু সম্প্রদায় প্রায় সম্পূর্ণরূপে ধর্মীয় চেতনাহীন ও নৈতিক শিক্ষাহীন হয়ে গড়ে উঠছে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষক মাসিক সর্বসাকুল্যে ১৭৯ টাকা এবং একজন কর্মচারী মাসিক ৭৮ টাকা বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশ সংস্কৃত ও পালি শিক্ষকদের জাতীয় পে-স্কেলভুক্তকরণের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু এখনও আবেদনটি সরকারের বিবেচনায় আসেনি।’
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ৬ দাবি
# ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও কল্যাণে জাতীয় রাজস্ব বাজেট থেকে বার্ষিক বরাদ্দ প্রদান করে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টগুলোকে ফাউন্ডেশনে রূপান্তরকরণ।
# ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন।
# ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঠিক শুমারির উদ্যোগ গ্রহণ।
# প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মডেল মন্দির/প্যাগোডা/গির্জা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন।
#পাঁচ দশক ধরে বাজেটে ধর্মীয় বৈষম্যের কারণে ৫ হাজার কোটি টাকা সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন ও কল্যাণে থোক বরাদ্দ প্রদান।
# বাংলাদেশ সংস্কৃত ও পালি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের জাতীয় পে-স্কেলভুক্তকরণ।
হিন্দু বিদ্যুৎ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, প্রেসিডিয়াম সদস্য ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় প্রমুখ।