প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৩ ১৯:৪৭ পিএম
আপডেট : ০৭ জুন ২০২৩ ১৯:৫০ পিএম
বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বঙ্গবন্ধু পরিষদ আয়োজিত ‘ছয় দফা : বাঙালির মুক্তির সনদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি। প্রবা ফটো
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্থিরতা ও দূরদর্শিতায় বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হুটহাট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতেন না। সবার সঙ্গে আলোচনা করে স্থির ও দূরদর্শি সিদ্ধান্ত নিতেন। যার ফলে স্বাধীনতার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৭ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বঙ্গবন্ধু পরিষদ আয়োজিত ‘ছয় দফা : বাঙালির মুক্তির সনদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
বঙ্গবন্ধু পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান, সাংবাদিক ও বঙ্গবন্ধু গবেষক অজয় দাশগুপ্ত। আলোচনা সভায় ছয় দফার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাংবাদিক অজিত কুমার সরকার।
দিপু মনি বলেন, ‘ছয় দফা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর অগাধ বিশ্বাস ছিল। যার ফলে ঐ সময় অনেক রাজনীতিবিদ তাকে ৭০ এর নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ সাধলেও তিনি নির্বাচনে বিজয় অর্জন করেন। ধারাবাহিক ও অত্যন্ত সুদৃঢ় আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধের বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে যেমন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র কাজ করেছিল। তেমনই তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও একইভাবে যড়যন্ত্র চলছে। তাই আমাদের আজকে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এমনকি আমাদের নেতৃত্বের প্রতিও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধুর মতো আজকেও দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি একমাত্র পথ শেখ হাসিনা।’
আরেফিন সিদ্দিক বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে ছয় দফার তাৎপর্য তুলে ধরতে হবে। কারণ বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা পরিনত হয়েছিল এক দফার স্বাধীনতার আন্দোলনে। স্বাধীনতার মূলমন্ত্র। এই শক্তি আমাদের স্বাধীনতার পথে নিয়ে গিয়েছিল। ছয় দফা নিয়ে যশোর টাউন হলের জনসভায় তিনি বলেছিলেন, ‘আজকে ছয় দফার বিজয় সূচিত হয়েছে।’
অজয় দাশগুপ্ত বলেন, ছয় দফার দাবিগুলো দেখলে বোঝা যায় অর্থনৈতিকভাবে তিনি (বঙ্গবন্ধু) পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিলেন। ছয় দফা দেওয়ার পর অত্যন্ত কঠিন সময় পার করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি প্রথমে শ্রমিক-জনতা আর ছাত্রলীগকে পাশে পেয়েছিলেন। এমনকি আওয়ামী লীগ পরে তার সঙ্গে একাত্ব হয়েছিল। তিনি ছয় দফার মাধ্যমে স্বাধীনতার সেতু রচনা করেছিলেন।
তিনি বলেন, আজকে ভিসানীতি কারণে মানুষ আতঙ্কিত। ধনীরা এদেশে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ দেখে না বলে বিদেশে তাদের স্থায়ী করে। এভাবে দেশ থেকে মেধা চলে যাচ্ছে। মেধা যা দেশ থেকে চলে গেছে তা সরকারকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলে এই মেধা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে আজকে ছয় দফার প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে।