প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৩ ২০:০৬ পিএম
আপডেট : ৩১ মে ২০২৩ ২০:২০ পিএম
জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন। ফোকাস বাংলা ফটো
জ্বালানি তেলে সরকার বর্তমানে সরাসরি কোনো ভর্তুকি দেয় না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বুধবার (৩১ মে) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য হাজি মো. সেলিমের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। বর্তমান সরকারের এই মেয়াদের শেষ বাজেট অধিবেশন এটি।
নসরুল হামিদ বলেন, ’রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ২০২১-২২ অর্থবছরে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করার পরেও ওই অর্থবছরে বিপিসি প্রায় ২ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। এখানে বিপিসি সরকার থেকে কোনো ভর্তুকি না নিয়েও পূর্বের মুনাফা থেকে এ লোকসান বহন করেছে।’
তিনি বলেন, ’রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকায় ২০২২-২৩ অর্থবছরেও বিপিসির লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। এ অর্থবছরেও বিপিসি সরকার থেকে ভর্তুকি নেয়নি। পূর্বের মুনাফা হতে লোকসান বহন করা হচ্ছে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, বড় পুকুরিয়া কয়লাখনি চালু হওয়ার পর থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত সব ধরনের ট্যাক্স দিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ৩ হাজার ৫১৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের উত্তরে নসরুল হামিদ জানান, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪৭ কোটি ৮৯ লাখ ৯ হাজার টাকা মুনাফা করেছে, যা ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় ১৪ কোটি ৯৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা বেশি। ওই অর্থবছরে সরকার মুনাফা অর্জন করেছিল ৩২ কোটি ৯৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানান, গ্যাস খাতের উন্নয়নে গত ১৪ বছরে বিদেশি কোম্পানিগুলো ৩ হাজার ৪৮৩ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশে।’
সাতটি বিদেশি কোম্পানি দেশে বিনিয়োগ করেছে বলে জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এর মধ্যে আমেরিকার তেল-গ্যাস কোম্পানি শেভরন সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছে। কোম্পানিটি ২ হাজার ৯৪১ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি তাল্লো দুইশ ৩৬ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন ডলার, একই দেশের কেয়ার্ন এনার্জির বিনিয়োগ দুইশ ৪২ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। চতুর্থ সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছে ভারতীয় ওএনজিসি বিদেশ কোম্পানি—৪৫ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলার।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানকোফিলিপস ৬ দশমিক ২২ মিলিয়ন, অস্ট্রেলিয়ার সান্তোস ৫ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন বাংলাদেশে ৫ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।
নসরুল হামিদ বলেন, ’দেশের গ্যাস চাহিদা মেটানোর জন্য এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০-এর আলোকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি স্থাপন করা হয়। এক্ষেত্রে সরকার/পেট্রোবাংলার কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি। তবে এলএনজি ব্যবহারের জন্য পেট্রোবাংলার নির্ধারিত ফ্রি প্রদান করছে। আগামী ১৫ বছর পর এলএনজি টার্মিনাল দুটির মালিকানা সরকার/প্রেট্রোবাংলার নিকট ন্যস্ত হবে।’
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শাহে আলমের প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১ হাজার ১৬৯ দশমিক ৭৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে অফ গ্রিডে ৩৫৭ দশমিক ৯ মেগাওয়াট এবং অন গ্রিডে ৫৭৮ দশমিক ৬৬ মেগাওয়াটসহ মোট ৯৩৫ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।