বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ শুরু
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৩ ১৭:০১ পিএম
আপডেট : ০৭ মে ২০২৩ ১৭:৪৫ পিএম
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। প্রবা ফটো
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, অনেকে মনে করেছিল দেশে দুর্ভিক্ষ হবে, অনেক কামাই করবে। তাই আমন মৌসুমে তারা মজুদ করেছিল। কিন্তু তাদের সেই আশা পূরণ হয়নি। চলতি বোরো মৌসুমে ৪ লাখ টন বোরো ধান সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কৃষক যদি ধানের দাম ঠিকভাবে না পায় তাহলে সরকার প্রয়োজনে ৭-৮ লাখ টন ধান কিনবে। আর চাল কেনা হবে সাড়ে ১২ লাখ টন।
রবিবার (৭ মে) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ অফিস কক্ষে বোরো সংগ্রহ অভিযান-২০২৩ ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানা যায়।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) হিসাবে চলতি বোরো মৌসুমে কেজিতে ধান উৎপাদনের ব্যয় ২৮ টাকা থেকে বেড়ে ৩১ টাকা হয়েছে। চালে ৩ টাকা বেড়ে ৪১ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ধান ও চালের উৎপাদন খরচ বেড়েছে ১০ শতাংশ। এমন বাস্তবতায় ৭ মে থেকে সরকার ৩০ টাকা কেজিতে ধান এবং ৪৪ টাকা কেজিতে চাল সংগ্রহ শুরু করেছে। চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
উদ্বোধন শেষে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার চায় কৃষক তার ফসলের ভালো দাম পাক। কৃষক ভালো দাম পেলে আমরা খুশি। সেটা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। বোরো মৌসুমে সংগ্রহ করা চালের মান নিয়ে কোনো আপস হবে না। চালের মান ঠিক রেখে সঠিকভাবে শতভাগ সংগ্রহ সম্পন্ন করার জন্য মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সরকার এবার বেশি দামে ধান কিনছে। কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় এটা করা হয়েছে। কৃষকরা ধান দিতে এসে যেন কষ্ট না পায়। ধান দিতে এসে যেন ফেরত না যায় সেটা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের নিশ্চিত করতে হবে। তবে ধানের আদ্রতার পরিমাণ ১৪ ভাগের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া যাবে না। আদ্রতা ঠিক থাকলে ধান ফেরত দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, ১৫ দিনের মধ্যে কৃষকের সব ধান কেটে ফেলা উচিত। কেননা এরই মধ্যে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন কৃষকদের এ বিষয়ে সচতেন করতে ভূমিকা রাখত পারে।
গত মৌসুমে যে সকল মিল মালিক চাল দেওয়ার জন্য চুক্তি করেনি তাদের কালো তালিকাভুক্ত করে ফিট লিস্টে নাম না পাঠানোর জন্য খাদ্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা চুক্তি করে সরকারকে সহায়তা করেছে তারা সরকারের সুনজরে আছে। যারা আংশিক শর্ত পূরণ করেছ তারাও এ বছর চুক্তি করতে পারবে। একই সঙ্গে কেউ যেন অবৈধ মজুদ করতে না পারে— এ বিষয়েও কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
এর আগে গত ১৩ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় বোরো ধান, চাল ও গমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
সভায় আসন্ন বোরো মৌসুমে ৪ লাখ টন ধান, সাড়ে ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ১ লাখ টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। প্রতি কেজি বোরো ধানের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৪ টাকা এবং গম ৩৫ টাকা। ২০২২ সালে ধান-চালের দাম ছিল যথাক্রমে ধান ২৭ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪০ টাকা এবং গম ২৮ টাকা।