প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৩ ২১:১২ পিএম
আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৩ ২২:১৯ পিএম
শুক্রবার যমুনা ফিউচার পার্কে ক্রেতাদের ভিড়। প্রবা ফটো
ঈদুল ফিতরের বাকি আর মাত্র দুই সপ্তাহ। মুসলিমদের বড় এই উৎসব সামনে রেখে সাধ্যমতো কেনাকাটা করছেন মানুষ। তাই সময় যত যাচ্ছে শপিংমলগুলোতে ততই বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়।
শুক্রবার (৭ এপ্রিল) সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ভিড় ছিল অনেক বেশি। রাজধানীর বেশ কয়েকটি মার্কেট ও শপিংমল ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা জামা-কাপড়, জুতা, অলংকারসহ বিভিন্ন জিনিস কিনছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়ও।
ব্যবসায়ীরা জানান, আগের তুলনায় ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে দ্বিগুণ। কেউ কেউ জানিয়েছেন, এই ভিড় দ্বিগুণেরও বেশি। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিক্রি বাড়েনি বলে জানিয়েছেন একাধিক ব্যবসায়ী।
যমুনা ফিউচার পার্কের সেইলর শপিংমলের সুপার ভাইজার ইশরাফিল সরদার বলেন, ’ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি আসছেন তরুণরা। মাঝবয়সিরা বেশি কিনছেন পাঞ্জাবি। গত বছর করোনার পরপর বেশি ডিজাইন ও কোয়ালিটি নিয়ে বাজারে আসতে পারিনি। এবার আমরা অনেক বেশি পণ্য নিয়ে এসেছি। তাই প্রত্যাশাও বেশি।’
যমুনা ফিউচার পার্কের একটি দোকানে কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। প্রবা ফটো
মেয়েদের কাপড়ের দোকান মেট্রোর মার্কেটিং বিভাগের কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, ’গত কয়েকদিনের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় বাড়েনি। আশানুরূপ বিক্রি হবে কি না, এখনও বলা যাচ্ছে না।’
রাইজের সেলস ম্যানেজার আবির হোসেন বলেন, ’১২ বছর ধরে মার্কেটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত আছি। ক্রেতাদের সংখ্যা এ সময়ে এত কম সচরাচর দেখিনি। প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা পাচ্ছি না।’
কেনাকাটা করতে আসা শিক্ষার্থী শাহরিয়ার মীম বলেন, ’অন্যান্য পণ্যের মতো জামা-কাপড়ের দামও বেড়েছে। যেহেতু সামনে ঈদ, তাই দাম যেমনই হোক, যাদের প্রয়োজন তারা ঠিকই কিনছেন। আমার মনে হয়েছে, এ বছর ব্যাগের দাম বেশি বেড়েছে।’
ব্যবসায়ী মাসুদ রহমান কিডস প্যারাডাইসে ছোট্ট দুই মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন। জামা-কাপড়ের দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ’গত বছর যে শাড়ি কিনেছিলাম ১ হাজার ৩০০ টাকায়, আজ সে শাড়ি ১ হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও দোকানদাররা বলছেন, মূল্য একই আছে। কিন্তু আমি ঘুরে দেখলাম কিছুটা বেড়েছে।’
কিডস প্যারাডাইসের এজিএম সৈয়দ গোলাম রশিদ বলেন, ’গত বছরের তুলনায় ডিজাইন বেশি, কালেকশনও বেশি। কিন্তু কাস্টমার নেই। অন্য সময় সেলসম্যান ব্যস্ত থাকত, দম ফেলার টাইম পেত না। এখন ক্রেতা মিলছে না।’
কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা। প্রবা ফটো
বিক্রি কমার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ’আমার ধারণা যানজট একটা সমস্যা। মানুষ দূরে শপিং করতে আসতে চান না। দ্বিতীয়ত দ্রব্যমূল্যের প্রভাব। আগে মানুষ নিজের বাচ্চার জন্য কিনবেন, তারপর কিনবেন ভাই-বোনের বাচ্চার জন্য। কিন্তু সেভাবে উপহার আর দিচ্ছে বলে মনে হয় না।’
বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের ডায়মন্ড এক্সপার্টের একজন এক্সিকিউটিভ বলেন, ’আমাদের একটা ক্যাম্পেইন চলছে বলে ক্রেতা তুলনামূলক বেশি। তবে সামগ্রিকভাবে মানুষের অলংকার কেনার প্রবণতা কমেছে।’
নিউ মার্কেটের ইমিটেশনের অলংকার বিক্রেতা আবির বাবু বলেন, ’দিন যত বাড়ছে, মানুষের ভিড়ও বাড়ছে। সাধারণত শুক্রবারে ভিড় বেশি হলেও ঈদ সামনে রেখে আজ স্বাভাবিকের চেয়ে ভিড় বেশি।’
একই মার্কেটের কাপড় বিক্রেতা আসাদ বলেন, ’তুলনামূলক বিক্রি ভালো। ছেলেদের পোশাকের চেয়ে মেয়েদের পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু দাম কিছুটা বাড়ায় অনেকে ফিরেও যাচ্ছেন।’