প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৩ ১৯:৫০ পিএম
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৩ ২০:০৮ পিএম
সংগৃহীত
বাংলাদেশের উপকূলীয়
এলাকাগুলোতে ২৬ শতাংশ মানুষ পান করছে উচ্চ লবণাক্ত পানি। এমনকি ভূগর্ভ থেকে উত্তোলিত
পানিতেও বাড়ছে লবণের পরিমাণ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা কারণে উপকূলীয় এলাকায় কাজের
অভাব দেখা দেওয়াতে শহরবাসী হচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। যাদের অধিকাংশেরই জায়গা
হয়েছে রাজধানীর বস্তিগুলোতে। যেখানেও নিরাপদ খাবার ও পানিসংকটে ভুগছেন ঘরছাড়া মানুষেরা।
বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল)
রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘পলিসি স্কোপ অ্যান্ড গ্যাপ : ক্লাইমেট রিজিলিয়েন্ট
আরবান ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অধ্যয়ন ফলাফল নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে
এ তথ্য জানায় সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি)। অনুষ্ঠানে
গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিআরডির রিসার্স অ্যাসিস্ট্যান্ট এলমি তাবাসুম।
এ সময় সিপিআরডির নির্বাহী
প্রধান মো. শামছুদ্দোহার সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের প্রধান
নির্বাহী আমিনুর রসুল, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান
অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার, সিপিআরডির রিসার্স অফিসার মো. শাহানুল ইসলাম ও সাংবাদিক
নিখিল ভদ্র। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত জলবায়ুবিষয়ক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা
অংশ নেন।
প্রবন্ধে বলা হয়, ২০২১
সালে দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৩৯ শতাংশ মানুষ শহরাঞ্চলে ছিল। এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম
ও খুলনা অন্যতম। ২০১৮ সালে দেশের শহুরে জনসংখ্যার প্রায় ৫৫ শতাংশ বস্তিতে বসবাস করত।
সারা দেশে ৫১৬টি নগর কেন্দ্রের জলাধারগুলোতে পানির মান ব্যবহার অযোগ্য এবং সঠিক নিষ্কাশনব্যবস্থাও নেই। মৌলিক সুযোগ-সুবিধা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব এবং সাশ্রয়ী মূল্যে থাকার গুরুতর সমস্যা রয়েছে পরিবারগুলোর। শহরে বসবাসরতদের ২৮ শতাংশ স্থায়ী ভবনে বসবাস
করে থাকে। বাকিরা আধা স্থায়ী ও অস্থায়ী বাড়িতে বসবাস করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন,
অপরিকল্পিতভাবে শহর ও স্থাপনা গড়ে ওঠায় দিন দিন জলাধারগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এতে আগামীতে
বঙ্গবাজারের মতো ঘটনা ঘটলে পানির সংকট তীব্র হবে। তাই অবশিষ্ট জলাধারগুলো সংরক্ষণে
গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশদূষণ রোধে
আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সিপিআরডির নির্বাহী
প্রধান মো. শামছুদ্দোহা বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে
মানুষের শহরকেন্দ্রিক হওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। কিন্তু শহরে এসে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা
থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সেসব মানুষ। তাই সকল উন্নয়নের ক্ষেত্রে শহরের চাইতে তৃণমূল
ও গ্রাম-অঞ্চলে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জোর দিতে হবে।’
উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের
প্রধান নির্বাহী আমিনুর রসুল বলেন, ‘বাংলাদেশে পরিবেশ ও জলবায়ু সংরক্ষণে রাজনৈতিক
সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পনির্ভরতার কারণেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের রক্ষায় সঠিক পরিকল্পনা হচ্ছে না। রাজধানী ঢাকায় কত মানুষ বসবাস করতে পারবে বা এই পরিমাণ মানুষের জন্য পানি, বসবাসের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা কেমন হবে, তা ঠিক করতে হবে। এখন আমাদের সর্বাঙ্গে ব্যথা। চারিদিকে সমস্যা। অথচ বড় বড় প্রজেক্ট হচ্ছে, লোন হচ্ছে, উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু কোনো কিছুরই সুফল মিলছে না। রাজধানীতে কত মানুষ থাকবে, তা র্নিধারণ করতে হবে।’