প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৩ ১৪:৩৮ পিএম
আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৩ ১৫:৫৬ পিএম
নিত্যপণ্যের দোকান। ফাইল ছবি
পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ থাকলে মূল্যবৃদ্ধি কেন হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘পত্রিকায় এসেছে– জিনিসপত্রের দাম হুহু করে বাড়ছে। রমজানে মানুষ কীভাবে চলবে তা ভেবে দিশাহারা। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী
কার্যালয় থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে দেশে নাকি নিত্যপণ্যের মজুদ প্রচুর
আছে। জনগণকে বলেছে আতঙ্কিত হয়ে বেশি কেনাকাটা করবেন না।’
সোমবার (১৩ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ে এক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রবিবার রমজানের আগে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে জানিয়ে জনসাধারণকে আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।
এ প্রসঙ্গ টেনে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘যদি এত মজুদ থাকে তাহলে কেনাকাটা করলে অসুবিধা কোথায়? আসলে মানুষ তো কেনাকাটাই করতে পারছে না। বাজারের অবস্থা কী! চিনির দাম ১২০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ টাকা। গরু ও মুরগির মাংস ভাগ করে কেনাকাটা করার রেওয়াজ এ দেশে ছিল না। ইলিশ মাছ কেটে দুইশ, আড়াইশ গ্রাম করে কেনার রেওয়াজ ছিল না। আজকে কিন্তু বাজারে তা দেখা যাচ্ছে। তাতে যদি সরকার বলে সবকিছু মজুদ আছে। কী রকম চাপাবাজি করছে সরকার!’
তিনি বলেন, ‘বাজারে গিযে দেখেন মানুষ সরকারকে কী পরিমাণ গালাগালি করে। আজকে গরিব মানুষ কিন্তু অর্ধাহারে আছে। এর পরও এ সরকার চাপাবাজি করছে। আমরা জানতে চাই– এ খাদ্যপণ্য যদি এতই মজুদ থাকে তাহলে মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে কেন, সরকার সুস্পষ্ট জবাব দিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘দাম বৃদ্ধির সঙ্গে যোগ হয়েছে মূল্যস্ফীতি। দেখেন মূল্যস্ফীতির অবস্থা। গত জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬.১৭। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়েছে ৮.৭১। এরপর আরও বৃদ্ধি হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকার।’
কেন এটা হচ্ছে? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘সরকারের যারা ব্যবসায়ী-সিন্ডিকেট-মন্ত্রী-নেতা তারা যেন জনগণের টাকা লুট করতে পারে সেজন্যই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি। সরকার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মেগা প্রজেক্ট করে লুটপাট করে। ব্যাংক লুট করছে। যাদের ঋণ দিয়েছে তাদের কোনো পরিচয় নাই। তাদের লোক বলে ঋণ দিয়েছে। এ লুটপাটের কারণে অর্থনীতি এখন ধ্বংস।’
দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, ‘বিদ্যুতের দামও প্রতি মাসে বাড়ানো হচ্ছে। কিসের জন্য? ইনডেমনিটি দিয়ে সরকার বিদ্যুৎ সেক্টরের লুটেরাদের রক্ষা করেছে। সরকারের লোকদের টাকা পাচার ও দুর্নীতিকে ব্যাকআপ দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।’
জিয়া পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মৃত্যুকূপে ধাবমান বাংলাদেশ’ নামে দুই গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল কুদ্দুস। এতে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ অন্য নেতারা।