× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আমদানি চালে ভরসা সরকারের

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:৫১ এএম

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:১২ পিএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৪১ শতাংশের মতো ধান সংগ্রহ করতে পেরেছে খাদ্য বিভাগ। ৫৯ শতাংশ ধানই সংগ্রহ করা যায়নি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আতপ চালের সংগ্রহ বেশি হলেও সেদ্ধ চালের সংগ্রহও সন্তোষজনক নয়। সরকারের ক্রয়মূল্যের তুলনায় বাজারে দাম বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ধান ও চাল দেননি। ফলে দেশের চাহিদা পূরণে ভারত, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের চালই একমাত্র ভরসা সরকারের।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন বৃহস্পতিবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এই প্রথম সরকার ধান-চাল সংগ্রহ করতে পারেনি। এপ্রিলের ২৮ থেকে আমরা ধান সংগ্রহ শুরু করি। শুরুর দিকে ব্যবসায়ীরা ধান ও চাল দিতে শুরু করেন। কিন্তু জুনের দিকে বাজারে হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা সরকারি রেটে ধান-চাল দিতে অনাগ্রহী হয়ে ওঠেন।’

খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বোরো মৌসুমে সরকারের ধান সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল ৬ লাখ ৫০ হাজার টন। এর বিপরীতে সংগ্রহের শেষ দিন ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭৪ টন ধান সংগ্রহ করা গেছে। এ ছাড়া ১৩ লাখ টন সেদ্ধ চালের লক্ষ্য থাকলেও খাদ্য বিভাগ ১১ লাখ ২০ হাজার ৮৮ টন সেদ্ধ চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে। ধান ও সেদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ না হলেও আতপ চালের সংগ্রহ প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়েছে।

৫০ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে ৫৪ হাজার ৮৯২ টন আতপ চাল সংগৃহীত হয়েছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩ লাখ ৮২ হাজার ২৬ টন ধান এবং ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯১২ টন সেদ্ধ চালের ঘাটতি রয়েছে। ব্যবসায়ীদের অনীহা এবং নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় দেশ থেকে ধান ও চাল সংগ্রহের আশা ছেড়ে দিয়েছে খাদ্য বিভাগ। আমদানি করা চালে দেশের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে কাজ করছেন তারা। বিদেশ থেকে চাল আসা শুরু হলে আর কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে মনে করে খাদ্য বিভাগ।

মহাপরিচালক বলেন, ‘ভারত, মিয়ানমার ও ভিয়েতনাম থেকে ৫ লাখ ৩০ হাজার টনের মতো চাল আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভারত থেকে এক লাখ টনের ক্রয় শুরু হয়েছে। মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের চাল ক্রয়প্রক্রিয়া শুরু করতে কাজ করছি। বিদেশি চাল চলে এলে আমাদের কোনো ঘাটতি থাকবে না।’ 

সরকারের কর্মকর্তারা বলেন, অনেক ব্যবসায়ী সরকারকে ধান-চাল দেননি। আবার কোনো কোনো ব্যবসায়ী চাহিদার পুরোটা দেননি। তবে চাহিদাপত্র নেওয়ার পরও যারা ধান-চাল দেননি, তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছে খাদ্য বিভাগ। ব্যবসায়ীদের জামানত বাতিলসহ অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে--এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন খাদ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা।

সরকারকে ধান-চাল সরবরাহের চুক্তির জন্য ২ শতাংশ হারে জামানত দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা জামানত বাতিলের মতো শাস্তিকে অন্যায্য দাবি করেছেন। 

ব্যবসায়ীরা বলেন, বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদন কম হয়েছে। ধানের মানও খারাপ। বন্যায় হাওরে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় মোটা ধানের ঘাটতি দেখা দেয়। বাজারে ধানের দামও বেশি হয়। ফলে তারা সরকারকে ধান-চাল দিতে পারেননি।

এখন জামানত বাতিল করলে ব্যবসায়ীরা আরও বিপাকে পড়বে বলে মনে করেন তারা।

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার অজন্তা অটোরাইস মিলের মালিক অনির্বাণ রায় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাজারে ধানের রেট বেশি ছিল। সেই সঙ্গে ধানের ঘাটতিও ছিল। তাই চাহিদার পুরোটা দিতে পারিনি। এই বিষয়টা খাদ্য অফিসকে অবহিত করেছি।’

প্রবা/ইউরি/এসআর 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা