× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভূ-রাজনীতিতে সবাইকে খুশি করে চলা কঠিন : আতিউর রহমান

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:৩৪ পিএম

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:২৬ পিএম

ড. আতিউর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

ড. আতিউর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ভূ-রাজনীতিতে সবাইকে খুশি করে চলা খুবই কঠিন। ভবিষ্যতে ভূ-রাজনীতিতে ভালো খেলা করতে না পারলে সমস্যা হবে। প্রতিবেশীর সঙ্গে অবশ্যই সম্পর্ক ভালো রাখতে হবে। এখন পর্যন্ত আমাদের মূল শক্তি কৃষি। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গমে কিছুটা ভাটা পড়েছে। কিন্তু আমরা থেমে যাইনি। আমাদের ৭৩ ভাগ অর্থনীতি স্থানীয়, বাকিটা রেমিট্যান্স ও অন্যান্য বিষয় থেকে আসে।

মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘দ্যা গ্লোবাল পাওয়ারস ব্যালেন্স শিফটস টুয়ার্ডস এশিয়া : হাউ ইজ বাংলাদেশ ডোয়িং’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আতিউর রহমান এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলাম। 

বিলিয়ার ডিরেক্টর এবং মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চোধুরী মানিক, ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মাশতি বিনতে শামস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

আতিউর রহমান বলেন, ‘এশিয়ায় অকল্পনীয় অর্থনৈতিক উন্নতির কারণে এই শতককে এশিয়ান সেঞ্চুরি বলা হচ্ছে। সেখানে চীন অবশ্যই সামনে থাকবে। চীন বিশ্ব অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার শুরু করেছে, চারটি শক্তি; চীন, ভারত, জাপান ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো। পুরোনো অর্থনীতি ও কূটনীতির কাঠামো ভেঙে যাচ্ছে, কিন্তু নতুন ঘর তৈরি হয়নি। সবাই রাস্তায় আছে। এটি সবার জন্য ঝুঁকির। ইউক্রেন যুদ্ধে সেটি আরও বেড়ে গেছে। ডমিনেন্ট ইকোনমিক পাওয়ার ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই। এখন এশিয়াতেও সামরিক আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়ে গেছে। সেখানে চীন এগিয়ে আছে।’

সাবেক গভর্নর বলেন, ’এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তিতে আসছে মধ্যপ্রাচ্য। বিশেষ করে দুবাই, আবুধাবি, কাতার। সৌদি আরবও অগ্রসর হচ্ছে। বিশেষ করে দুবাই ও আবুধাবি বিশ্বব্যাপী অর্থ সংগ্রহ করছে। তুরস্কও নিজের ক্ষমতার কথা জানান দিচ্ছে বিশ্বকে। এশিয়া অবশ্যই ভবিষ্যতের অর্থনীতির বিশাল শক্তি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও অর্থনীতি কী হবে, ভবিষ্যতে মানুষের জীবনযাত্রা কেমন হবে, তা তারা নির্ধারণ করে ফেলেছে।’

আতিউর রহমান আরও বলেন, ’নতুন এশিয়ান ভ্যালুজ তৈরি হচ্ছে। এশিয়ান সামাজিক সম্পর্ক ও সামাজিক শক্তি যা আছে, তা অন্য দেশে নেই। এটি করতে পারলে সামাজিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ এক্ষেত্রে খুব ভালো। তবে এশিয়াতে নানান ধরনের সরকার পদ্ধতি আছে। চীনে জাতীয় স্বার্থে আঘাত করে এমনসব বিষয়কে সমর্থন করে না। বাংলাদেশও সেই পথে হাঁটছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বিষয়ে সাবেক গভর্নর বলেন, ‘সেখানে হ্যাকাররা বাইরে থেকে আক্রমণ করে। এখানে নিউইয়র্কের ফেডারেল ব্যাংক দায়ী, বাংলাদেশ নয়। এতে ফিলিপাইনের ব্যাংক দায়ী, বাংলাদেশ নয়। আমি এফবিআইকে বলে এসেছি, তারা ১৯৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দেয়। সেখানে কোথাও বাংলাদেশকে দোষী করা হয়নি। আমার অনেক কথা আছে, কষ্ট আছে।’

মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজান বলেন, ’বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি যতটা শ্রদ্ধাশীল সেখানে অন্য দেশ খুব কমই করে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অবস্থানের কারণে আমরা মাথা উঁচু করেই চলতে পারি।’

বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক বলেন, ’১৯৭১ সালে রাশিয়া নয়, সোভিয়েত ইউনিয়ন আমাদের বন্ধু ছিল। সেক্ষেত্রে রাশিয়া আর সোভিয়েত ইউনিয়ন এক নয়। রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে চীন শক্তিশালী অবস্থানে যায়নি। এমনকি সব সময় তারা মিয়ানমারের পাশেই ছিল। কেননা, ডেল্টা রোড রাখাইন দিয়েই শুরু, সেখানে তারা নীরব। ইন্দো-প্যাসিফিকে চীন যা করছে, তা প্রিন্সিপাল অব ল ভায়োলেন্স।’

মাশতি বিনতে শামস বলেন, ’বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পগুলোতে স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান অর্থায়ন করছে। তারা আমাদের বৃহৎ উন্নয়নে সহযোগী। মধ্যপ্রাচ্যেও আমাদের সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ভারসাম্য দরকার। কেননা, সেখান থেকে প্রচুর রেমিট্যান্স আসে।’

রফিকুল ইসলাম বলেন, ’আগামী ১০ বছরের মধ্যে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে চীনের নেতৃত্ব থাকবে। ৫০ বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছে হারবে। ভারতও একটি শক্তিশালী অবস্থানে যাবে। সে হিসেবে এশিয়া বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপের মানবিক খাতে অর্থায়ন করা রাষ্ট্রগুলো যুদ্ধে অর্থ ব্যয় করছে।’

তিনি আরও বলেন, ’রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার পর থেকে রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে তেমন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের মধ্যে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, সেটি বাংলাদেশিদের সঙ্গেও হতে পারে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা