প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৩:৪৭ পিএম
বিদ্যুৎ বিভাগ পক্ষে ও আইএসএ-এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর। প্রবা ফটো
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ১৮ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ করতে যাচ্ছে সরকার। রোডম্যাপটির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৩ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল সোলার এলায়েন্সের (আইএসএ) সঙ্গে কান্ট্রি পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের সময় এই তথ্য জানায় বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষে বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান এবং আইএসএ-এর পক্ষে মহাপরিচালক অজয় মাথুর চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, এ চুক্তির আওতায় সৌরবিদ্যুতের সহযোগিতার ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে একটি সোলার রোডম্যাপ (২০২০-২০৪১) তৈরি করা হবে। বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে (ব্রি) ২ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১২টি ট্রলি মাউন্টেড সোলার ইরিগেশন সিস্টেম, ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার ১২টি পোর্টেবল সোলার ধান মাড়াই যন্ত্র এবং ১ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার ড্রিংকিং ওয়াটার প্ল্যান্ট সরবরাহ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এদিকে ২২ কিলোওয়াট ক্ষমতার দুটি রুফটপ সোলার স্থাপন এবং যেকোনো একটি রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে রুফটপ সোলার প্রকল্প স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া ফ্লোটিং সোলার প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পাদন ও ফ্লোটিং সোলার প্রকল্প স্থাপনে সহায়তা পানি উন্নয়ন পানি বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি ম্যানুয়াল স্লুইসগেটকে ফ্লোটিং সোলারের মাধ্যমে অটো স্লুইসগেটে রূপান্তর, প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময় এবং সর্বোত্তম অনুশীলনকে উৎসাহিত করা, মানসম্পন্ন সৌরপণ্যের প্রসার, প্রযুক্তিগত এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা সুদৃঢ়করণ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি স্থাপনের জন্য একটি সৌর প্রযুক্তি অ্যাপ্লিকেশন রিসোর্স সেন্টার (STAR-C) স্থাপন ও অপারেশনে সহায়তা এবং সৌরচালিত হিমাগার স্থাপন এ চুক্তির আওতায় সহায়তার ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই চুক্তিটির মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমরা সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছি। কিন্তু আমাদের জমির স্বল্পতা রয়েছে। এ জন্য অন্য যেসব জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা সম্ভব, সেগুলো খুজে বের করার চেষ্টা করছি।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সৌরবিদ্যুতের জন্য আমরা একটা রোডম্যাপ তৈরি করতে চাই। নেট মিটারিং গাইডলাইন আকর্ষণীয় করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা সংশোধন করার উদ্যোগ আমরা ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছি। কৃষিতে সৌরবিদ্যুৎ কীভাবে সম্প্রসারণ করা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।’
চুক্তি স্বাক্ষরের পর সংবাদ সম্মেলনে অজয় মাথুর বলেন, কোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আইএসএ বাংলাদেশকে এই ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।
বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের জমির স্বল্পতা রয়েছে। এ জন্য ব্যাপকভাবে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। বিকল্প অব্যবহৃত জায়গায়; বিশেষ করে বাড়ির ছাদ এবং ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চিন্তা করা হচ্ছে।