রাশেদুল হাসান
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০৮:৪৬ এএম
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১০:১০ এএম
ফাইল ফটো
নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরেও রেলের টিকিট কালোবাজারি ঠেকানো যাচ্ছে না। বিভিন্ন সময় র্যাবের হাতে অনেক কালাবাজারি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে রেলেরই একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তারা সবাই থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এমনকি রেলমন্ত্রীর ‘টিকিট যার ভ্রমণ তার’ নীতি ঘোষণা সত্ত্বেও বন্ধ হয়নি টিকিট কালোবাজারি। এ ছাড়া বিনা টিকিটে ভ্রমণ করায় যাত্রীদের কাছ থেকে যে জরিমানা আদায় করা হয়, সেই টাকাও সরকারি কোষাগারে জমা হয় না। এসব অনিয়ম ও টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে এবার যাত্রী নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
নতুন নিয়মে টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও জন্মনিবন্ধন দিয়ে সব যাত্রীকে নিবন্ধন করতে হবে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষকরা যে টিকিট দেবেন তা দিতে হবে পজ মেশিনে। শিগগিরই এ নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
গত বছরের ১৩ এপ্রিল রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের পর টিকিট বিক্রি ও ‘টিকিট যার ভ্রমণ তার’ নীতি ঘোষণা করেন। কিন্তু যাত্রীদের দাবি- মন্ত্রীর এ ঘোষণা বাস্তবায়ন হয়নি, রেলের টিকিট কালোবাজারিও কমেনি।
যাত্রীরা বলছেন, এখনও মানুষ স্টেশনে গেলে টিকিট পান না। অথচ ট্রেন ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তিন থেকে চার গুণ দামে টিকিট বিক্রি করেন কালোবাজারিরা।
এদিকে র্যাবের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ঈদুল আজহায় যেসব টিকিট কালোবাজারিদের গ্রেপ্তার করা হয়, তারা ৪-৫ জন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর তথ্য দিয়েছিলেন, যারা টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তাদের নাম রেলওয়েকে দেওয়া হলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণে চক্রের মূলোৎপাটন করা সম্ভব হচ্ছে না।
নতুন নিয়মের বিষয়ে রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা এনআইডি ও জন্মনিবন্ধন দিয়ে টিকিট বিক্রি শুরু করব। প্রথম ১৫ দিন সময় দেব রেজিস্ট্রেশন করার জন্য। এটা করলেই আমাদের সার্ভারে তার (যাত্রী) নাম চলে আসবে। এনআইডি, নাম ও মোবাইল নাম্বার আমাদের কাছে থাকবে। অনলাইনে যারা টিকিট কেনেন তাদের তো তথ্য ইতোমধ্যে আছেই। এ প্রক্রিয়া আমরা একযোগে শুরু করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এনআইডি ভেরিফাই করে টিকিট প্রদান জটিল কাজ। তাই আগে রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করা হবে। আমাদের সার্ভারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সার্ভার একীভূত করা হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী মহোদয় ঘোষণা দেবেন।’
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষকরা জরিমানা করে যে অর্থ আদায় করেন তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোষাগারে জমা হয় না। জরিমানার অর্থ আত্মসাৎ ঠেকাতে টিকিট পরীক্ষকদের পজ মেশিন দেওয়া হবে।
রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার বলেন, ‘টিটিরা এখন কাগজপত্রে কোনো কাজ করবেন না। টিটিরা পজ মেশিন ব্যবহার করবেন।’
এভাবে ঠেকানো যাবে কালোবাজারি?
রেলওয়ের হিসাবমতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সারা দেশে ৩২৮টি ট্রেনে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। সে হিসাবে প্রতিদিন ১ লাখ ৭৫ হাজার যাত্রী ট্রেনে যাতায়াত করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেলপথে ভ্রমণ আরামদায়ক এবং ট্রেনের যাত্রী সক্ষমতার চেয়ে চাহিদা বেশি হওয়ায় টিকিট কালোবাজারি হয়।
কালোবাজারি ঠেকাতে যাত্রী নিবন্ধনের সুফল নিয়ে সন্দিহান পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শামসুল হক।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বিভিন্ন সময় মৌসুমি যাত্রী থাকে, তাদের নিবন্ধন নাও থাকতে পারে। উৎসবের সময় অনেকে ট্রেন ভ্রমণ করে। তখন যদি কারও নিবন্ধন না থাকে, তখন একটা জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা (রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ) তো মেট্রোরেলের টিকিট ব্যবস্থা অনুসরণ করতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একক যাত্রার টিকিট দেওয়া হবে। যারা প্লাটফর্মে ঢুকছেন বা বের হচ্ছেন তাদের টিকিট ব্যবহার করে গেট খুলতে হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় কেউ কালোবাজারি করার সুযোগ পাবে না। আবার কেউ টিকিট না কেটে প্লাটফর্মে ঢুকতে ও বের হতে পারবেন না।’