প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০১:৪৩ এএম
আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০৯:৩২ এএম
দেশে গুম ও নির্যাতনের বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত চায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গত বৃহস্পতিবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে তারা। এতে বিশেষ করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের উচিত ডিবির বিরুদ্ধে উঠা গুম ও নির্যাতনের সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোর তদন্ত করা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা (র্যাবের ওপর) এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এইচআরডব্লিউর বাড়তি নজরদারিতে রয়েছে।
ঢাকার অদূরে গাজীপুরে গত ১৯ জানুয়ারি পুলিশ হেফাজতে মোহাম্মদ রবিউল (৩৮) নামের এক দোকানির মৃত্যু হয়। নির্যাতনের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও পুলিশের দাবি, ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মৃত্যু হয়েছে রবিউলের।
আবু হোসেন রাজন নামের একজন আইনজীবী গত ২৯ জানুয়ারি অভিযোগ করেন, এক সপ্তাহ ধরে হাতিরঝিল থানায় আটক রাখা হয়েছিল তাকে। তখন প্রতিদিন ডিবির প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতন ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো তাকে। যদিও রাজনকে গ্রেপ্তারের কথাই অস্বীকার করেছে পুলিশ।
এইচআরডব্লিউ-র প্রতিবেদনে রঘুনাথ খাঁ নামের সাতক্ষীরার একজন সাংবাদিকের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ওই সাংবাদিকের অভিযোগ জেলা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত ২৩ জানুয়ারি ডিবি হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে তাকে। তার ভাষায়, ‘থানায় আমার চোখ বেঁধে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তারা আমার কানে যন্ত্র লাগিয়ে আধা ঘণ্টা ধরে ধাপে ধাপে বৈদ্যুতিক শক দিয়েছে। পায়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে।’
সাতক্ষীরা ডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রঘুনাথ খাঁর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘এমন কিছু ঘটেনি।’
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, এর আগেও স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলো ডিবির বিরুদ্ধে গুম, নির্যাতনসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। বাংলাদেশে এ ধরনের অভিযোগের তদন্ত কিংবা বিচারের ঘটনা বিরল।
জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটি ২০১৯ সালের জুলাইয়ে এক পর্যালোচনা শেষে পুলিশকে ‘রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। বলা হয়, পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী অন্য সংস্থাগুলো দায়মুক্তি নিয়ে কার্যক্রম চালাতে পারে। এসবের জন্য তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই।
এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, এক দশক আগে বাংলাদেশে পাস হওয়া নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে এখন পর্যন্ত নির্যাতনের মাত্র একটি ঘটনার বিচার হয়েছে।
বাংলাদেশকে জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটির সুপারিশগুলো অনুসরণের জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও সেটি উপেক্ষা করা হয়েছে। এসব সুপারিশের মধ্যে সব আটককেন্দ্রে স্বাধীন নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে উঠা নির্যাতন বা বাজে আচরণ সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর তদন্তকাজ সম্পন্ন করা।