× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সংখ্যালঘু জাতিগুলোর দারিদ্র্যের হার ৬০ শতাংশের বেশি : সমীক্ষা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:৫০ পিএম

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:০৮ পিএম

রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের আদিবাসী মানুষের উন্নয়নে বাজেট বরাদ্দ ও ব্যয়ের অবস্থা’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রকাশ করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। প্রবা ফটো

রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের আদিবাসী মানুষের উন্নয়নে বাজেট বরাদ্দ ও ব্যয়ের অবস্থা’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রকাশ করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। প্রবা ফটো

পাহাড় ও সমতলের সংখ্যালঘু জাতিসত্ত্বার মানুষদের জন্য বাজেট বরাদ্দ ২০২০-২১ এর তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে। মুদ্রাস্ফীতিকে বিবেচনায় আনা হলে এই বাজেট কমার পরিমাণ বেড়ে ছয় শতাংশে দাঁড়াবে। অন্যদিকে করোনা মহামারির আগে এই জাতিগুলোর দারিদ্র্যের হার ছিল ৬০ শতাংশেরও বেশি।

রবিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের‍‍’ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের আদিবাসী মানুষের উন্নয়নে বাজেট বরাদ্দ ও ব্যয়ের অবস্থা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রকাশিত সমীক্ষার ফলে এসব তথ্য জানানো হয়।

সমীক্ষায় বলা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে সমতলের সংখ্যালঘু জাতিসত্ত্বার বাজেট বরাদ্দ ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও পাহাড়ের বসবাসরতদের ক্ষেত্রে সেটি ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমেছে। এছাড়া জাতীয় গড় আয়ের তুলনায় এ জাতিসত্ত্বাগুলোর বসবাসরত অঞ্চলে আয় ৬৭ শতাংশ কম। এর মধ্যে সমতলের মানুষের আয় ৪১ শতাংশ ও পাহাড়ের ২৬ শতাংশ কম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনে’র নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং, সিপিডির সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব সুপ্রদ্বীপ চাকমাসহ অনেকে।

সেমিনারে সমীক্ষা উপস্থাপন করেন মানবিক উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বারাকাত।

মন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ‘আমাদের ইশতেহারে স্পষ্ট বলা আছে যে আমরা তাদের সাথে কী ধরনের আচরণ করব। এদের প্রতি যা হয় তা সত্য। যেটা কোনোভাবেই ঠিক নয়। যদিও সরকার থেকে আমরা সবসময় ন্যায্যতার চেষ্টায় আছি, কিন্তু কিছু সুবিধাভোগীর জন্য তারা এমন পরিস্থিতি স্বীকার করছে।’

সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘আদিবাসীরা চরমভাবে বঞ্চিত। সমতলের অবস্থা খুব খারাপ। কৃষক হিসেবেও বেঁচে থাকতে পারছে না তারা। দেখা যাচ্ছে একজন হিন্দু আদিবাসীকে হিন্দু বলে তার জমি নিয়ে যাচ্ছে এবং রেজিস্ট্রি অফিসও তা রেজিস্ট্রি করে দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে সরকারের একটা গাইডেন্স থাকা দরকার যে কীভাবে সমতলের আদিবাসীদের ওপরে আচরণ করা হবে। সুতরাং সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয়ের বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে তাদের মাতৃভাষায় পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থাও করতে হবে। তাদের প্রতি যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের আছে।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়, জাতীয় বাজেটে সংখ্যালঘু জাতিসত্ত্বার মানুষের জন্য যেমন পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয় না, তেমনি বাজেট তৈরির প্রক্রিয়ার মধ্যে তাদের অংশগ্রহণও খুব সামান্য।

সমীক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কাউন্সিল ভূমি কমিশনের জন্য যথাযথ বাজেট, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশগত সুরক্ষা ইস্যু না থাকাকে গুরুতর ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু জাতিসত্ত্বার জন্য বাজেট অপর্যাপ্ত হলেও কোনো কোনো প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত বাজেটের পুরোটা খরচও হয় না। ফলে তারা বুঝতেও পারেন না কতটা কীভাবে তাদের উন্নয়নের জন্য খরচ করা হচ্ছে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সুপারিশমালায় সংখ্যালঘু জাতিসত্ত্বার মানুষের জন্য বাজেট দ্বিগুণ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতসহ মানব উন্নয়ন খাতে বাজেট তিনগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা