× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ছাত্র হত্যা মানবাধিকার লঙ্ঘন : তথ্যমন্ত্রী

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:১৯ পিএম

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৩ ২২:১৩ পিএম

রাজধানীর কাকরাইলে তথ্য ভবন মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। প্রবা ফটো

রাজধানীর কাকরাইলে তথ্য ভবন মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। প্রবা ফটো

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সৈয়দ ফয়সালের হত্যাকে অত্যন্ত অনভিপ্রেত, দুঃখজনক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। 

তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়, সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এই হত্যাকাণ্ড।’

মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে তথ্য ভবন মিলনায়তনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।  

মন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করেছে, তদন্ত চলছে। আমরা আশা করি, যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যারা এই ঘটনার জন্য দোষী, তাদের বিচার হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রে গত বুধবার ইউনিভার্সিটি অব বোস্টনের শিক্ষার্থী সাইদ ফয়সাল ওরফে আরিফকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন বোস্টন ও ক্যামব্রিজে বিক্ষোভ করেছেন প্রবাসীরা। এই কর্মসূচি থেকে প্রবাসী শিক্ষার্থী হত্যায় জড়িত পুলিশ সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানানো হয়।

নিহত ছাত্রের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র। আমাদের দেশে মানবাধিকার যাতে লঙ্ঘিত না হয়, কেউ লঙ্ঘন না করে, সেদিকে আমরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছি। বিশ্বময় কোথাও যেন মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হয় সেটিও আমরা চাই।’

আদালত স্বাধীন বলেই মুক্তি পেলেন ফখরুল-আব্বাস

বিএনপির শীর্ষ দুই নেতার জামিনে মুক্তি পাওয়া প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব এবং মির্জা আব্বাস সাহেব যে মুক্তি পেয়েছেন, এতেই প্রমাণিত হয়েছে দেশের আইন-আদালত স্বাধীন। কারণ, সরকার তাদের গ্রেপ্তার করেছিল, তারা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি লাভ করেছেন।’ 

৩২ দিন কারাভোগের পর গেল সোমবার জামিনে মুক্ত হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। হাইকোর্টের দেওয়া ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পরে আপিল বিভাগও বহাল রাখলে তারা ছাড়া পান।  

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেশের আইন আদালত অত্যন্ত স্বাধীনভাবে কাজ করে, সে কারণেই তারা মুক্তি পেয়েছেন। আমি তাদের দুজনের সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করি। তারা যাতে সুস্বাস্থ্য বজায় রেখে সরকারের বিরোধিতা করতে পারে, সেটিই আমি কামনা করি।’

বিএনপির বিশৃঙ্খলা প্রতিহতে জনগণের সঙ্গে থাকবে আওয়ামী লীগ

আগামীকাল বুধবার বিএনপির দেশব্যাপী গণঅবস্থান কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, ‘বিএনপি বা কোনো বিরোধীদল যদি শান্তিপূর্ণ কোনো কর্মসূচি পালন করে, সেক্ষেত্রে সরকার সব সময় সহযোগিতা করেছে এবং করবে। কিন্তু আমরা সব সময় দেখেছি তারা (বিএনপি) শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির কথা বলে সেখানে অশান্তি তৈরি করে এবং জনগণের সম্পত্তি বিনষ্ট করে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর ঘিরেও তারা দেশে অশান্তি তৈরি করেছিল। তারা গাড়িতে আগুন দিয়েছে, গাড়ি ভাঙচুর করেছে এবং জনগণের শান্তি-নিরাপত্তা-স্থিতি বিনষ্ট করেছে। ১১ তারিখেও আমরা সতর্ক দৃষ্টি রাখব। সতর্ক পাহারায় থাকব। আমাদের দল সতর্ক পাহারায় থাকবে, যাতে তারা রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। যদি করার চেষ্টা করা হয় জনগণ প্রতিহত করবে। আমাদের দল জনগণের সঙ্গে থাকবে।’

একাত্তরে ভারতবাসী কম খেয়ে এ দেশের শরণার্থীদের খাইয়েছে

এর আগে তথ্য ভবন মিলনায়তনে বাংলাদেশ সফররত ৩৪ ভারতীয় সাংবাদিকের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তথ্যমন্ত্রী ডা. হাছান মাহমুদ। এ সময় তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে ভারত শুধু তাদের সীমান্ত খুলে দেয়নি, ঘরের দুয়ারই খুলে দেয়নি, মনের দুয়ারও খুলে দিয়েছিল। নিজে না খেয়ে বা কম খেয়ে এ দেশ থেকে যাওয়া শরণার্থীদের তারা খাইয়েছে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন সেটি আমাদের দেশের মানুষ মনে রাখবে।’ 

মন্ত্রণালয়ের সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। 

মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের দুদেশের মৈত্রী রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। আমরা বাংলাদেশিরা, এদেশের সমস্ত নাগরিক, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন আমরা ভারতবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব তাদের ভূমিকার জন্য।’ 

কলকাতার ২৫ জন ও আসামের ৯ জন সাংবাদিকের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা বাংলাদেশের কিছু অংশ ঘুরে দেখেছেন এবং নিশ্চয়ই বাংলাদেশে যারা ১২ থেকে ১৪ বছর আগে এসেছিলেন, তারা পার্থক্যটা বুঝতে পেরেছেন, এটিই বদলে যাওয়া বাংলাদেশ।’

বাংলাদেশকে সম্প্রীতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যে সামাজিক সম্প্রীতি, সম্প্রদায়ে-সম্প্রদায়ে সম্প্রীতি, বিভিন্ন ধর্মালম্বীদের মধ্যে সম্প্রীতিএটি অনেক দেশের জন্য উদাহরণ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন- ধর্ম যার যার উৎসব সবার, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। আমরা সেটিই লালন করি, বুকে ধারণ করি।’

তথ্যমন্ত্রী এ সময় ভারতীয় সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ প্রত্যাবাসনে তিনি ভারতের সহায়তা কামনা করেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই এখানে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রয়েছে জানান এবং কোনো গুজব যেন সাম্প্রদায়িক বা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে সেজন্য সব সাংবাদিকের সহযোগিতা কামনা করেন। 

কলকাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্নেহাশিস সুর বলেন, ‘আজ ১০ জানুয়ারি ভারত এবং বাংলাদেশ উভয়ের কাছে একটা বিশেষ দিন। কারামুক্তির পর এই দিনেই স্বাধীন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশের জাতির পিতা এবং সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভারতের মাটিতেও প্রথম পা দিয়েছিলেন, বাংলাদেশের মাটিতেও প্রথম পা দিয়েছিলেন। আর এই দিনে বাংলাদেশের মাটিতে থাকতে পেরেছি সেজন্য আমরা অত্যন্ত গৌরবান্বিত।’ 

আসামের আঞ্চলিক সংবাদ টিভি চ্যানেল প্রাগ নিউজের প্রধান সম্পাদক প্রশান্ত রাজগুরু একটি বদলে যাওয়া বাংলাদেশ দেখাবার জন্য মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান ভারতীয় সাংবাদিকদের বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, শেখ হাসিনার ওপর পাঁচটি গ্রন্থের একটি করে সেট উপহার দেন। মন্ত্রী কলকাতা প্রেস ক্লাব প্রকাশিত ‘অখণ্ড ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে পূর্ববঙ্গের মহিয়সীরা’ গ্রন্থটি গ্রহণ করেন এবং সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্য সম্পাদিত ‘শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা