ডিপিডিসির জি টু জি প্রকল্প
দীপক দেব
প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৪ ঘণ্টা আগে
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির লোগো। ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট ও অপচয়ের চালচিত্র তুলে ধরতে গিয়ে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) জি টু জি প্রকল্পকে ‘গলার কাঁটা’ আখ্যা দিয়েছেন খোদ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নেওয়া এই বিলাসী প্রকল্পের কঠোর সমালোচনাও করেছেন তিনি। শুধু বর্তমান সরকারই নয়, এ প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে তদন্তও করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। তদন্তে অনিয়মের তথ্যপ্রমাণও উঠে এসেছে। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনিয়মে যুক্ত অনেকেই এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ প্রকল্পে জার্মানির মালামাল ব্যবহার করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে চীনের পণ্য ব্যবহার করে একশ্রেণির কর্মকর্তা রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট করেছে, যা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিবেদনে ঘটনাটি আরও তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুদক এ ব্যাপারে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। তবে ডিপিডিসির পক্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানাচ্ছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিদুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অনেকগুলো প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে জোর আলোচনা রয়েছে। ‘জি টু জি প্রকল্প হিসেবে পরিচিত ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (ইএসপিএসএন)’ এগুলোরই একটি। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য ১৪০ সেট ১৩২ কেভি কেবল এক্সেসরিজ (ক্রস বন্ডিং জয়েন্ট) জার্মানি থেকে কেনার কথা ছিল। কিন্তু তা জার্মানির বদলে চীন থেকে আমদানি করা হয়েছে। এতে উপকরণের গুণগত মান নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি রাষ্ট্রের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এ রকম দুই নম্বরি কারবারে বিপুল অর্থ লুটপাট হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। যদিও বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি কোনো প্রফিট করতে পারে না। সরকার এই প্রতিষ্ঠান ভর্তুকি দিয়ে চালায়। এই প্রকল্প যদি বন্ধ করে দিই তাহলে এখন পর্যন্ত খরচ হওয়া টাকা নষ্ট হবে। আবার এই প্রকল্প গেলাও আমাদের জন্য কষ্টকর।’ তিনি সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘লুটপাট করার জন্য নেওয়া এই প্রকল্প এখন আমাদের কাঁধের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা এখন আমাদের গলার কাঁটা।’
মন্ত্রণালয় ও ডিপিডিসির তথ্যমতে, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (ইএসপিএসএন)’ প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে সরাসরি (জি টু জি) চুক্তির ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে। ২০২৩ সালে এই প্রকল্পের মালামাল ক্রয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপকৌশল নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বিভাগীয় তদন্তে বড় ধরনের দুর্নীতি উঠে আসে। ২০২৫ সালে সম্পন্ন হওয়া ওই তদন্তে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়াসহ দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করার প্রস্তাব করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিপিডিসি রিভিউ কমিটি করে কাগজপত্রের ফাঁকফোকর দিয়ে এই মালামাল গ্রহণের সুপারিশ করে। বিষয়টি জায়েজ করতে অতিরিক্ত পাঁচ বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে কতিপয় কর্মকর্তা রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। এ ঘটনায় তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পর্যন্ত তিন স্তরের ১২-১৩ জন কর্মকর্তা ফেঁসে যাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে বাদ পড়বেন না তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তৎকালীন প্রকল্প পরিচালকও।
নিম্নমানের মাল নিতে তিন কমিটি : তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিতর্কিত ও নিম্নমানের মালামাল গ্রহণ করানোর প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় ছিল প্রধানত তিনটি কমিটি। এর মধ্যে পিএলআই কমিটি মালামালের ‘পোস্ট ল্যান্ডিং ইন্সপেকশন’ বা আমদানির পর প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ করে। এই কমিটি মালামালের উৎপত্তিস্থল কান্ট্রি অব অরজিন সঠিকভাবে যাচাই না করেই সেগুলো গ্রহণের সুপারিশ করে। তবে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী (উন্নয়ন) তরিকুল হকের নেতৃত্বে আরও একটি কমিটি হয়। এই কমিটি মালামালগুলো সরাসরি চীন থেকে শিপমেন্ট হওয়ার কারণে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে বলে তা গ্রহণে সুস্পষ্ট নেতিবাচক অভিমত দেয়। তরিকুল হক কমিটির নেতিবাচক রিপোর্টের পর মালামালগুলো পুনরায় বিবেচনার জন্য ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি আমদানি নথিপত্রে জালিয়াতির মাধ্যমে মালামালগুলো গ্রহণের পক্ষে চূড়ান্ত সুপারিশ করে। মূলত চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে চীন থেকে আসা মালামালগুলোকে বৈধতা দিতে এবং আমদানির মান নির্ধারণের নামে এই কমিটিগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোরশেদ আলম খানের নেতৃত্বাধীন কমিটিই তরিকুল হক কমিটির নেতিবাচক মত উপেক্ষা করে চীন থেকে আসা নিম্নমানের মালামাল গ্রহণের চূড়ান্ত সুপারিশ করে।
২০ থেকে ৩০ শতাংশ অর্থ ক্ষতি হয়েছে : তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে জার্মানির পরিবর্তে চীনে উৎপাদিত নিম্নমানের মালামাল সরবরাহের সুযোগ করে দিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। প্রকল্পের বিভিন্ন মালামালের সঙ্গে ১৪০ সেট ১৩২ কেভি কেবল এক্সেসরিজ (ক্রস বন্ডিং জয়েন্ট) আমদানির জন্য ২২তম, ৪৩তম ও ৪৫তম শিপমেন্ট ব্যবহার করা হয়। জার্মানিতে তৈরি এই মালামালগুলো পোল্যান্ডের বন্দর থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে আসার কথা। ২২তম ও ৪৩তম শিপমেন্টের মাধ্যমে আসা ৭১ সেট কেবল এক্সেসরিজ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করে বিল পরিশোধ করে দেয়। কিন্তু ৪৫তম শিপমেন্টে আসা বাকি ৬৯ সেট কেবল এক্সেসরিজ, যা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টিবিইএর (TBEA) ওয়ারহাউজে রাখা ছিলÑ তা আর প্রকল্প কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেনি।
বিভাগীয় তদন্ত কমিটি নিশ্চিত হয়েছে যে, এই ৬৯ সেট ইউরোপের পরিবর্তে চীনে প্যাকিং হয়েছে এবং চীনের সাংহাই বন্দর থেকে বাংলাদেশে এসেছে। জার্মানিতে উৎপাদিত পণ্যের চেয়ে চীনে উৎপাদিত পণ্যের দাম সাধারণত ২০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কম হয়ে থাকে। চুক্তিতে জার্মানির মালামাল সরবরাহের কথা থাকলেও চীন থেকে নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ করে এই বিশাল অঙ্কের মূল্যের পার্থক্য বা সাশ্রয়কৃত অর্থ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মিলে আত্মসাৎ করেছে বলে তদন্তে ধারণা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খানসহ কতিপয় কর্মকর্তাকে এই অনিয়মের জন্য দায়ী করার পাশাপাশি অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়। তবে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
যা বললেন মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা : এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. সবুর হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘তদন্তে অনিয়মের বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। যেহেতু দুদক অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে কাজ করা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, এজন্য তাদের দিয়ে আরও তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। দুদক এরই মধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছে বলে জেনেছি। তবে ডিপিডিসিকে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও এখনও তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অনিয়মকে উৎসাহিত করা হবে, সৎ কর্মকর্তারা নিরুৎসাহিত এবং হতাশ হবেন। প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
নেওয়া হয়নি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা : মন্ত্রণালয়ের তদন্তে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ডিপিডিসি। তদন্তে অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে যাদের চাকরির মেয়াদ রয়েছে, তাদের অধিকাংশই রয়েছেন বহাল তবিয়তে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। সুপারিশ করার পরেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হাবিবুন নাহার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এই পদে বসায় আমি শুধু রুটিন কাজগুলো করছি। এই তদন্তের বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না।’ এর আগে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য প্রতিদিনের বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বক্তব্যের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করানোর পর সচিব হিসেবে মন্ত্রণালয়ে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেনÑ এই কারণ দেখিয়ে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
তদন্ত শুরুর জন্য তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক : বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব ফারজানা খানমের চিঠি আমলে নিয়ে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কাজ শুরু করেছে দুদক। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ডিপিডিসিকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছেÑ জি টু জি প্রকল্পের দুর্নীতি অনুসন্ধান এবং ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, দুর্নীতিসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য প্রয়োজন। চিঠিতে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিপত্র ও ক্রয়-সংক্রান্তসহ মোট ৭ ধরনের নথিপত্র চাওয়া হয়। বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক (মানি লন্ডারিং-১) মুহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলীর নেতৃত্বে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া প্রকল্পের বর্তমান পরিচালক ফজিলাতুন্নেসার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ দুবাইতে পাচারের অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য দুদকের পৃথক একটি টিম তদন্ত শুরু করেছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এসবের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’ তাহলে তদন্ত কমিটিতে আপনার নাম কেন এসেছে?Ñ এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারব না। তবে জি টু জি প্রকল্পের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’ তবে দুদক থেকে তথ্য চাওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেননি। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এই কর্মকর্তা আরও জানান, তিনি চলতি সপ্তাহে অবসরে যাচ্ছেন।
বিষয়টি নিয়ে অপর অভিযুক্ত, প্রকল্প পরিচালক ফজিলাতুন্নেসার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে কৌশলে এড়িয়ে যান। গত বৃহস্পতিবার সকালে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে বাইরে আছি। এ অবস্থায় কথা বলতে পারব না।’ তখন অফিসে আসার জন্য সময় চাইলে তিনি বলেন, ‘কখন অফিসে যেতে পারব বলতে পারছি না।’ পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন প্রকল্পের কার্যালয়ে গিয়ে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি।