প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। ছবি: ফেসবুক থেকে
বাংলা একাডেমির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান, প্রখ্যাত লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন।
এক শোকবার্তায় রবিবার মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান সংগঠনের কর্মকর্তারা।
শোকবার্তায় বলা হয়, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যু দেশের শিক্ষা, সাহিত্য, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি আজীবন জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধির বিকাশ, মানবিক মূল্যবোধ এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
বার্তায় আরও বলা হয়, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক শুধু একজন জনপ্রিয় শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি মানবিক মূল্যবোধ, সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন। তার চিন্তা, গবেষণা ও লেখনী নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবতা ও মুক্তির চেতনায় অনুপ্রাণিত করে যাবে।
সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, “অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান শিক্ষক, বিশিষ্ট গবেষক, সৃজনশীল লেখক এবং দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবী। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে আলোকিত করেছেন। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, সমাজচিন্তা ও জাতীয় চেতনা বিষয়ে তার গবেষণা ও লেখালেখি দেশের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। তার কর্ম, আদর্শ, গবেষণা এবং মানবিক দর্শন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে”।
তিনি আরও বলেন, “দেশের শিক্ষা ও সাহিত্যাঙ্গনে তার অবদান চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। মহান আল্লাহ তার সকল গুনাহ মাফ করে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন”।
মিরপুরের একটি হাসপাতালে রবিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। কর্মজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেন এবং সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তিনি ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেন। তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন, রাজনীতি দর্শন, সাহিত্য চিন্তা এবং সংস্কৃতির সহজ কথা।
এ ছাড়া তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও স্বদেশচিন্তাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। সাহিত্য ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।