সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। ছবি: বাসস
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা।
এবারের পরীক্ষায় সর্বমোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। ২০২৫ সালে সর্বমোট পরীক্ষার্থীর (নিয়মিত ও অনিয়মিত) সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮ জন। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে সর্বমোট ১৪,৩১৬ জন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার এই সার্বিক প্রস্তুতি ও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিনসহ বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রের আওতায় ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর প্রথমবারের মতো ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে সম্পূর্ণ অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্থাপিত কেন্দ্রীয় সিসিটিভি মনিটরিং সেল থেকে দেশের যেকোনো কেন্দ্রের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন, যা নকল ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
এবার ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। যেসব দিনে পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু থাকবে। নকলের জন্য পরিচিত বা বিতর্কিত ভেন্যু কেন্দ্রগুলো বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওর, পার্বত্য ও দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় কিছু দূরবর্তী কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সেভেন্থ ডে অ্যাডভান্টিস্ট সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য শনিবারের পরীক্ষা সূর্যাস্তের পর বিশেষ ব্যবস্থায় কেন্দ্রেই নেওয়া হবে।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪০৬ এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৩০৮ জন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮। এক বছরে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৪ হাজার ৩১৬ জন; এর মধ্যে ছাত্র বেড়েছে ১ হাজার ১২২ এবং ছাত্রী ১৩ হাজার ১৯৪ জন। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৮৮৫ এবং কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৬২৬।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিম পরীক্ষার্থী ৯২ হাজার ৯০৫ জন, যা গত বছরের তুলনায় ৬ হাজার ৮০৩ জন বেশি। কেন্দ্র বেড়ে হয়েছে ৪৬১টি এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭০৫টিতে।
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। গত বছরের তুলনায় এ বোর্ডে পরীক্ষার্থী কমেছে ১ হাজার ৬৪৭ জন। কেন্দ্রের সংখ্যা ৭৩৩ থেকে কমে ৬১০ হলেও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান বেড়ে ১ হাজার ৮৪৯টিতে উন্নীত হয়েছে।
নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের তথ্যেও বড় ব্যবধান দেখা গেছে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে নিবন্ধিত ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬১ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭৭ জন ফরম পূরণ করেছে। অর্থাৎ ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৪ জন বা ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেনি। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে নিবন্ধিত ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৯ জনের মধ্যে ফরম পূরণ করেনি ৬১ হাজার ৬৬০ জন (৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ)। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে নিবন্ধিত ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪২ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯০ হাজার ৩৪৫ জন বা ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষার ফরম পূরণ করেনি।