× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গ্রামবাংলায় ঘোর অমানিশা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

বর্ষা ঋতু চলে এলেও সারা দেশ যেন গ্রীষ্মের তীব্র গরমে পুড়ে যাচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকার কারণে এ গরম হয়ে উঠেছে আরও অসহনীয়। রাজধানীতে লোডশেডিংয়ের আঁচ খুব একটা পাওয়া না গেলেও বিভিন্ন জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ চিত্র। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরে কোনো কোনো স্থানে লোডশেডিং এত দীর্ঘ সময় ধরে চলছে যে, মানুষজন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোনো কোনো অঞ্চলে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতেই নয়, জনজীবনের সর্বত্র বিদ্যুৎ না থাকার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেক জায়গায় ক্ষুব্ধ মানুষজন রাস্তায় অবস্থান নিয়ে মিছিল-সমাবেশ করছে। 

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ অবস্থা দেখা দিয়েছে, তবে ত্বরিত সরকারি পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতির উন্নতিও হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, লোডশেডিং সামলাতে না পারলে আগামীতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। 

গরমের মধ্যে চলা লোডশেডিংজনিত পরিস্থিতিতে মানুষের ক্ষোভকে উস্কে চলেছে বিশ্বকাপ ফুটবল। একদিকে গরম, অন্যদিকে রাতে খেলার সময় লোডশেডিংয়ে দুয়ের সম্মিলনে সাধারণ মানুষ এখন বিক্ষুব্ধ। এ পরিস্থিতিতে দেশের কমপক্ষে সাত জেলায় আন্দোলন-বিক্ষোভ, মানববন্ধন, মহাসড়ক অবরোধ ও বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করার মতো ঘটনা ঘটেছে। নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আঞ্চলিক কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। 

বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি, বৈরী আবহাওয়া, রাতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জ এবং ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে লোডশেডিং বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে গত দুই দিন জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। 

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলছেন, গত রবিবার দেশের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট কমে গেছে। তবে গতকাল তিনি খানিকটা স্বস্তির খবরও দিয়েছেন। সংসদে তিনি জানিয়েছেন, কারিগরি ত্রুটি ও কয়লা খালাস করতে না পারায় দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। তবে এখন পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। তিনি বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধান কমে ৩৩৯ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল (রবিবার) আমি পার্লামেন্টে দেশের একটা ক্রাইসিস নিয়ে বক্তৃতা দিয়েছিলাম। আমাদের দুইটা পাওয়ার প্লান্টের জেনারেশন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে গতকাল (রবিবার) লোডশেডিং দিতে হয়েছিল।’ 

পরিস্থিতি তুলে ধরে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘আজ (সোমবার) আনন্দের সাথে জানাচ্ছি, এখন আমাদের জেনারেশন ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট আর ডিমান্ড এখন ১৪ হাজার ৮৩৯ মেগাওয়াট। আমাদের লোডশেডিং হবে এখন ৩৩৯ মেগাওয়াট। চেষ্টা করছি এই ৩০০ মেগাওয়াটকেও কমিয়ে আনতে। কিছু কিছু জায়গায় অবশ্য লোডশেডিং থাকবেই। এসব ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট আছি।’

অব্যাহতভাবে বেড়েছে লোডশেডিং

দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে বাস্তবে উৎপাদন হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে বিতরণ সংস্থাগুলো। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে লোডশেডিং বাড়ছে। ছুটির দিনেও লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। তিন সপ্তাহ ধরে গড়ে দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে। গত ২৬ ও ২৭ জুন (শুক্র-শনি) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সারা দেশ থেকে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির উৎপাদন বিবরণী অনুযায়ী, ২৭ জুন রাত ৯টায় ২৮৭৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। ওই সময়ে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৮ হাজার ৩০১ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ১৫ হাজার ২৯৮ মেগাওয়াট। ওই দিন সকাল ৯টায় বিদ্যুতের সবচেয়ে কম চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ৮৭৩ মেগাওয়াট। কিন্তু ওই সময়েও লোডশেডিং করা হয় ৬৪৩ মেগাওয়াট। এরপর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিং বাড়িয়ে দেওয়া হয়। দুপুর ১২টায় লোডশেডিং করা হয় ১ হাজার ৫৮ মেগাওয়াট, বেলা ৩টায় ২ হাজার ৬৯ মেগাওয়াট। এরপর থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত লোডশেডিং দেখা গেছে ২ হাজার মেগাওয়াটের ওপর। এ ছাড়া গত রবিবার ২৮ জুন রাত ৮টায় ১৭ হাজার ১৪৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে এক হাজার ৯৮৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখিয়েছে পিজিসিবি।

তবে আগের দিনের তুলনায় গতকাল সোমবার বিদ্যুতের চাহিদাও কম ছিল। তাই লোডশেডিংও ছিল কম। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির উৎপাদন বিবরণী অনুযায়ী, যেখানে রবিবার বিকাল ৫টার সময় ১৬২১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা ছিল, সেখানে গতকাল সোমবার একই সময় তা নেমে দাঁড়ায় ১৩৯৫১ মেগাওয়াটে। অন্যদিকে সরবরাহ ছিল প্রায় একই রকম। এই কারণে রবিবার ওই সময় যেখানে লোডশেডিং ছিল ২৩৭৮ মেগাওয়াট, সেখানে একই সময় অর্থাৎ গতকাল বিকাল ৫টায় লোডশেডিং ছিল মাত্র ১৫২ মেগাওয়াট।

রাজধানীর পাশেই ভয়াবহ চিত্র

এদিকে দেশের আট বিভাগ থেকে প্রতিদিনের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে লোডশেডিংয়ের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে চলা তীব্র লোডশেডিং রাজধানী লাগোয়া গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিদ্যুৎ চলে গেলেই লোডশেডিং হচ্ছে তিন থেকে চার ঘণ্টা। কোথাও কোথাও এর পরিমাণ আরও বেশি। কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য শিক্ষাসহ সবখানেই এর নেতিবাচক প্রভাব সুস্পষ্ট।

উপজেলার কাওরাইদ রেলওয়ে স্টেশন এলাকার বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাওনা জোনাল অফিসের আওতাধীন কাওরাইদ সাব স্টেশনের অধীনে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং থাকে। বিদ্যুৎ পাই গড়ে ১০ ঘণ্টা। বাকি ১৪ ঘণ্টার বেশি সময় লোডশেডিং থাকে। অন্যদিকে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার পিডিবির বেতুয়া ফিডারের আওতাধীন বিদ্যুতের এসটি লাইনের ৬টি খুঁটি ভেঙে পড়ায় টানা তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে বেতুয়া ও কালিয়ান গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

অন্ধকারে দক্ষিণের ২১ জেলা

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম বড় কেন্দ্র। কয়লাভিত্তিক বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্যাসচালিত প্লান্ট, আমদানিকৃত বিদ্যুতের সংযোগÑ সব মিলিয়ে দেশের জ্বালানি মানচিত্রে এই অঞ্চলের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। অথচ উৎপাদনের কেন্দ্র হয়েও খুলনা-বরিশালসহ পদ্মার ওপারের ২১ জেলার মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। তীব্র গরমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে বাড়ছে ব্যয়। লোডশেডিংয়ের প্রভাবে সামাজিক অস্থিরতাও দেখা দিচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, ‘খুলনা বৈষম্যের শিকার। এখানে উৎপাদিত বিদ্যুতের বড় অংশই অন্য অঞ্চলে চলে যায়। স্থানীয় মানুষ পর্যাপ্ত সুবিধা পায় না।’ 

পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি অ্যাড. কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক সচল করা গেলে স্থানীয় চাহিদার একটি অংশ পূরণ সম্ভব।’ 

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাড. মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘বিদ্যুৎ এখন বিলাসিতা নয়, মৌলিক অবকাঠামো। সরবরাহ সংকট দীর্ঘায়িত হলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়বে।’

অন্যদিকে বরিশালের মুলাদী উপজেলার বাসিন্দা মোশারফ হোসেন জানান, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকে বর্তমানে। কয়েক দিন আগে অবস্থা খারাপ ছিল। এমনও হইছে, ১ দিনে ৮ বারও বিদ্যুৎ গেছে।’

ময়মনসিংহের ১৩ উপজেলায় নাজুক অবস্থা

ময়মনসিংহ নগরীতে লোডশেডিং কম থাকলেও গ্রামাঞ্চলের অবস্থা ভয়াবহ। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের বাইরে ১৩টি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং চলছে। লোডশেডিংয়ের ফাঁদে পড়ে ছোট ছোট শিল্প-কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। গৌরীপুর উপজেলায় কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

রাজশাহীতে ৮ থেকে ১০ বার লোডশেডিং

বিদ্যুৎ নিয়ে রাজশাহী মহানগরীসহ ৯টি উপজেলার গ্রাহকরা দুর্ভোগে রয়েছেন। দিন-রাত মিলিয়ে এলাকাভেদে গড়ে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিবার আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন সময় পার করতে হচ্ছে নাগরিকদের। প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সূচনা মনোহরা বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। যেমনÑ ফ্রিজে টিকা রাখবার জন্য বিদ্যুৎ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অপারেশন করতেও বিদ্যুতের প্রয়োজন। জেনারেটর দিয়ে কাজ সারা হলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রোগীদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।’

চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতি সিলেটে

গত কয়েক দিন ধরে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বারবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিলেট নগরসহ এ জেলার উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকরা। চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতির কথা বলছে কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, ‘জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। সিলেট জোনে পিক আওয়ারে দৈনিক বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ২৩৬ মেগাওয়াট। সেখানে বর্তমানে প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।’

রংপুরে লোডশেডিং বেড়েছে

অন্যান্য অঞ্চলের মতো রংপুরেও লোডশেডিং বেড়েছে। রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১১৬ মেগাওয়াট। পাওয়া গেছে ৭৫ মেগাওয়াট। আজ ৫৫ মেগাওয়াটের চাহিদার সবটুকু পাওয়া গেছে। তাপদাহ শুরু হলে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আমরা প্রয়োজনীয়তা ও সময় বিবেচনায় নিয়ে সর্বত্র বিদ্যুৎ দেওয়ার চেষ্টা করছি।

জেনারেটর ব্যবহার করছেন চট্টগ্রামের অনেক গ্রাহক

চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার ১৯৪টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকার বাসিন্দারা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। চন্দনাইশের বরকল ইউনিয়নের সাইমুল আল মুরাদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ থাকছে না। বাকি সময় বিদ্যুৎ থাকলেও তীব্র লো-ভোল্টেজের কারণে কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র ঠিকমতো চালাতে পারছি না।’ 

নাইক্ষ্যংছড়ি বাজার ব্যবসায়ীরা মিজানুর রহমান জানান, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় দোকান, বিপণিবিতান ও ছোট শিল্প-কারখানাগুলোতে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফ্রিজ ও কোল্ড স্টোরেজ নির্ভর ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ পরিস্থিতিতে অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল জেনারেটর ব্যবহার করছেন। ফলে ব্যবসার খরচ বেড়ে যাচ্ছে।’

তীব্র গরম, সেচ মৌসুম-পরবর্তী উচ্চ চাহিদা এবং জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় সরবরাহ না পাওয়ায় কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের গ্রাহকদেরও প্রতিদিনই কোনো একসময় লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, ২, ৩, ৪-এর আওতাধীন ১৭ উপজেলার গ্রাহকরা রয়েছেন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে। বরুড়া উপজেলার গালিমপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহবুবর রহমান আজাদ বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাই না। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। অভিযোগের নম্বরে ফোন করলেও এখানকার অভিযোগ কেন্দ্র ‘একবাড়ীয়া’ সাবসেন্টারের সংশ্লিষ্টরা ফোন রিসিভ করেন না বললেই চলে।’

বিক্ষোভ, ঘোরাও, হামলা

গত কয়েক দিন ধরে চলা অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়মের অভিযোগে টাঙ্গাইল, ঝালকাঠি ও ঢাকার দোহারে মানববন্ধন, মহাসড়ক অবরোধ ও বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকেরা। লোডশেডিংয়ে বিশ্বকাপ খেলা দেখতে না পেরে নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎ কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে শেরপুরে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলাকালে লোডশেডিং হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ জন্য নিরাপত্তা চেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চিঠি দিয়েছেন পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ছাড়া সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ঢুকে সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে একদল মানুষ।

(প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক দীপক দেব। তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর চট্টগ্রাম অফিসের তারাচরণ টিপু, সিলেট অফিসের আব্দুল মাজিদ, খুলনা অফিসের মাশরুর মুর্শেদ, রংপুর অফিসের মেরিনা লাভলী, রাজশাহী অফিসের রাজু আহমদ, বরিশাল অফিসের শাকিল মাহমুদ, ময়মনসিংহ অফিসের শফিক সরকার, কুমিল্লা অফিসের দিলীপ মজুমদার ও শ্রীপুর প্রতিনিধি রায়হানুল ইসলাম আখন্দ।) 

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা