ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার (বাঁয়ে)। ছবি: মুস্তাফা মনোয়ারের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে
বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী ও পাপেট নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
কয়েক দিন আগে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে দেওয়া হলেও পরে অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে রাখা হয় বলেও জানায় পরিবার।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর যশোরের শ্রীপুরে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার।
নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাসের পর কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলেও পরে চারুকলার টানে কলকাতা সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি।
১৯৫৯ সালে সেখান থেকে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
এরপর ১৯৬৫ সালে মেরী মনোয়ারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই শিল্পী। তাদের এক ছেলে সাদাত মনোয়ার ও এক মেয়ে নন্দিনী মনোয়ার।
কর্মজীবনে তিনি পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিভিশন ঢাকার জেনারেল ম্যানেজার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জনবিভাগ উন্নয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান এবং এডুকেশনাল পাপেট ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন।
এছাড়া টেনাশিনাস পদক, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ পুরস্কার, শিশু শিল্পকলা কেন্দ্রের কিডস সম্মাননা পদক এবং শিশুকেন্দ্রের বিশেষ সম্মাননাসহ বহু স্বীকৃতিতে ভূষিত হন তিনি।
তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।