আগারগাঁওয়ে বিডা কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফ্লোস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন’ শীর্ষক কর্মশালায় কথা বলেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বিদেশি বিনিয়োগের তুলনায় বর্তমানে দেশীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করছে সংস্থাটি। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আগারগাঁওয়ে বিডা কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফ্লোস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
তিনি জানান, ২০২৫ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তাই বিডা এখন দেশীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
চৌধুরী আশিক বলেন, “আগামী ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ দিনের সফরে চীন যাচ্ছেন। গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিনিয়োগের অন্যতম বড় উৎস এখন চীন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে”।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সফরে বিনিয়োগ ছাড়াও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। চীন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সফরের সামগ্রিক ফলাফল পরবর্তীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্তারিতভাবে জানাবে”।
বিডা চেয়ারম্যান জানান, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৭৮৩ একর জমিতে গড়ে ওঠা চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। চীন থেকে ফিরে এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বা গ্রাউন্ডব্রেকিংয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সঙ্গে মংলা বন্দরের কাছে আরেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের বিষয়ে চীনের আগ্রহ রয়েছে বলে তিনি জানান।
বিনিয়োগের প্রধান বাধা হিসেবে জ্বালানি সংকটের কথা তুলে ধরে চৌধুরী আশিক বলেন, “দেশি ও বিদেশি উভয় বিনিয়োগকারীর সমস্যার তালিকায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া কর প্রশাসন ও বিভিন্ন দাপ্তরিক জটিলতাও বিনিয়োগ পরিবেশে প্রভাব ফেলছে”।
তিনি বলেন, “সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে কাজ করছে এবং শিল্প পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে জ্বালানি সংকট রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। নতুন এফএসআরইউ স্থাপনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উদ্যোগ বাস্তবায়নে অন্তত ১৮ মাস সময় লাগবে। তার আশা, ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে জ্বালানি সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে”।
ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু থাকলেও বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সেবা হস্তান্তরের অনীহার কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না”।
এ সমস্যা সমাধানে বিডা কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিডার নির্বাহী সদস্য ও সচিব মো. হুমায়ুন কবির। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক নুরজাহান আখতার এবং বিডার নির্বাহী সদস্য (ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন উইং) নাহিয়ান রহমান রচি।