× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের নামে ৩ ইউনিয়নের নামকরণ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬ ২১:২৭ পিএম

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ফাইল ছবি

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ফাইল ছবি

বগুড়ার প্রশাসনিক মানচিত্রে একসঙ্গে কয়েকটি নতুন ইউনিয়নের আত্মপ্রকাশ হয়েছে।

নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় তিনটি নতুন ইউনিয়ন ও শিবগঞ্জ উপজেলায় একটি নতুন ইউনিয়ন সংযোজন হয়েছে।

এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশের পর উন্নয়ন ও প্রশাসনিক পুনর্গঠনের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ইউনিয়নগুলোর নাম।

মোকামতলা উপজেলায় গঠিত নতুন ইউনিয়নগুলোর মধ্যে দুটি হলো ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’। 

এ দুটি নাম স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ও মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের শেষাংশের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলায় নতুন গঠিত ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘মীরবাড়ী’, যা প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক ও আদি নিবাস হিসেবে পরিচিত।

গত রবিবার বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত গেজেটে এসব ইউনিয়ন গঠন ও পুনর্গঠনের তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।ৎ


অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, প্রশাসনিক ইউনিটের নামকরণে একজন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তার পরিবারের প্রভাব কতটা গ্রহণযোগ্য।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী, নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন ভেঙে ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন, সৈয়দপুর ইউনিয়ন ভেঙে ‘সীমান্ত’ ইউনিয়ন এবং দেউলী ইউনিয়ন ভেঙে ‘দিগন্ত’ ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে।

নতুন গঠিত সীমান্ত ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৬ হাজার ২৬৭ জন এবং দিগন্ত ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৭ হাজার ৭৫৯ জন। 

একই সঙ্গে পুরোনো ইউনিয়নগুলোকেও নতুন করে পুনর্গঠন করা হয়েছে।

অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলায় বিহার, রায়নগর ও বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজা নিয়ে ‘মীরবাড়ী’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। নতুন ইউনিয়নটির জনসংখ্যা ১৮ হাজার ৯২৪ জন।

এ ছাড়া শিবগঞ্জ পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বিহার, রায়নগর, বুড়িগঞ্জ, কিচক ও আটমুল ইউনিয়নও পুনর্গঠন করা হয়েছে।

প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে নতুন ইউনিয়ন বা পৌরসভার নাম সাধারণত এলাকার ঐতিহাসিক পরিচিতি, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কিংবা জনমতের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু মোকামতলার দুটি ইউনিয়নের নাম সরাসরি প্রতিমন্ত্রীর দুই সন্তানের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় শুরু হয়েছে বিতর্ক।

স্থানীয়দের একটি অংশ বলছেন, নতুন ইউনিয়নগুলোর নামকরণে এলাকার ইতিহাস বা ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন খুব একটা দেখা যায় না। বরং নামগুলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক বলে মনে হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ হিসেবে থাকা ইউনিয়নের নাম কোনো রাজনৈতিক নেতার পরিবারের সদস্যদের নামে হওয়া উচিত কি না। 

কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতির সঙ্গে তুলনা করেছেন।

বগুড়ার একজন শিক্ষক বলেন, নতুন ইউনিয়ন গঠন অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু নামকরণ এমন হওয়া উচিত, যা এলাকার পরিচয় বহন করবে।

একজন মন্ত্রীর ছেলেদের নামের সঙ্গে মিলে যায় এমন নাম দেওয়া হলে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তো উঠবেই, বলেন তিনি।

একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা বলেন, যদি নামগুলো কাকতালীয়ও হয়, তবুও জনমনে সন্দেহ তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে এমন বিতর্ক এড়ানো উচিত ছিল।

মোকামতলার সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে শিবগঞ্জ উপজেলার নতুন ‘মীরবাড়ী’ ইউনিয়ন।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মীর শাহে আলমের পারিবারিক শেকড় শিবগঞ্জের যে এলাকায়, সেটি দীর্ঘদিন ধরে ‘মীরবাড়ী’ নামে পরিচিত। ফলে ইউনিয়নের নাম হিসেবে ‘মীরবাড়ী’ অনুমোদন পাওয়ার পর অনেকে এটিকে প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক পরিচয়ের প্রশাসনিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। 

সমালোচকদের ভাষ্য, একই সময়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামে দুটি ইউনিয়ন এবং তার গ্রামের নামে আরেকটি ইউনিয়ন গঠন হওয়া নিছক কাকতালীয় হিসেবে দেখার সুযোগ কম।

মীর শাহে আলমের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয় পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত, বলেন সমালোচকরা।

প্রতিমন্ত্রীর বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত বর্তমানে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্তও রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পরিবারের অন্য সদস্যরাও স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। তার চাচা মীর আবু জাকের মাকু দীর্ঘদিন ধরে আটমুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং বড় ভাই মীর আইনুর রহমান শিবগঞ্জ পৌর বিএনপির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ কারণে নতুন ইউনিয়নের নামগুলোকে অনেকেই পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাবের সম্প্রসারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। 

গেজেট প্রকাশের পর ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

অনেক পোস্টে মীর শাহে আলমকে ‘বগুড়ার নতুন জমিদার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সমালোচকদের দাবি, প্রশাসনিক মানচিত্রে একই পরিবারের নামের প্রভাব বিস্তার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে প্রতিমন্ত্রীর সমর্থকেরা বলছেন, এসব সমালোচনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তাদের দাবি, ইউনিয়নগুলোর নাম স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ব্যক্তিগত নাম্বারে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ম্যাসেজ করেও কোনো তথ্য উত্তর পাওয়া যায়নি। 

একই বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে চাননি।

প্রশাসনিক এলাকাগুলোর নামকরণ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের নামে হওয়ায় এর নৈতিকতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। 

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এই ঘটনাকে ব্যক্তিগত রুচিহীনতা হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, পরিবারের নামে ব্যক্তির নামে এগুলো কোনভাবেই কাঙ্কিত নয়। হ্যাঁ; কোন যদি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়, যে যাকে সবাই সর্বজন শ্রদ্ধেয় যাকে সবাই স্মরণ রাখতে চায়। এরকম হলে হইতে পারে।

তিনি বলেন, এখন এটা না হওয়াই ভালো ছিল। এটা অগ্রহণযোগ্য চর্চা। কোনো স্থান বা প্রতিষ্ঠানের নামে কেবল এমন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের নামে হওয়া উচিত। যাদের অবদান জাতি আজীবন মনে রাখবে।

রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে এ ধরনের পারিবারিক প্রভাব বিস্তার করা মোটেও কাম্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি। 

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা