× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফ্যাসিবাদ-উত্তর বাংলাদেশে মিডিয়া ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন: মারুফ কামাল খান

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬ ১২:২৮ পিএম

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬ ১৭:৩৪ পিএম

রাজধানীর সার্কিট হাউসের তথ্য ভবনের ডিএফপি সম্মেলন কক্ষে সোমবার ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

রাজধানীর সার্কিট হাউসের তথ্য ভবনের ডিএফপি সম্মেলন কক্ষে সোমবার ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ফ্যাসিবাদ-উত্তর বাংলাদেশে মিডিয়া ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল।

‘ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় মিডিয়ার ব্যর্থতা’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।

বাকশাল শাসনে সংবাদপত্র বন্ধের কালো দিবস উপলক্ষে সেমিনারটির আয়োজন করে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনসিএ)।

রাজধানীর সার্কিট হাউসের তথ্য ভবনের ডিএফপি সম্মেলন কক্ষে সোমবার সকালে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

এনসিএর যুগ্ম আহ্বায়ক ও আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই সিকদারের উপস্থাপনায় উপস্থিত আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালেরকণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান, দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম প্রমুখ।

মারুফ কামাল খান সোহেল তার প্রবন্ধে বলেন, হাসিনার ফ্যাসিবাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল মিডিয়াকে দমন করার চেয়েও মিডিয়াকে ‘কিনে নেওয়ায়’। কর্পোরেট সুবিধা এবং ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে গণমাধ্যমের ভেতরেই এক বিশাল ‘স্তাবক ও চাটুকার গোষ্ঠী’ গড়ে তোলা হয়। টকশো, সম্পাদকীয় এবং সংবাদে ফ্যাসিবাদের পক্ষে সাফাই গাওয়া সাংবাদিকতার মূল স্রোতে পরিণত হয়েছিল। ফলে, সাংবাদিক সমাজ সম্মিলিতভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়।

তিনি বলেন, বিপুল ত্যাগ ও আত্মদানের রক্তসিক্ত পথ বেয়ে রাজনৈতিক আন্দোলনের উত্থান-পতন এবং অবশেষে ছাত্র-তরুণদের ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ থেকে সৃষ্ট গণঅভ্যুত্থানের দাবানলে দেশ ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত হয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকার এখন রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। এখন শুরু হয়েছে আমাদের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় জীবনের গঠন কিংবা পুনর্গঠন পর্ব। ভেঙে তছনছ হয়ে যাওয়া সব প্রথা-প্রতিষ্ঠান ফের নতুন করে গড়তে হবে।

মারুফ কামাল খান বলেন, বাকশালী ফ্যাসিবাদের ধ্বংসস্তুপে জিয়াউর রহমানকে এই গঠন পর্বে নেতৃত্ব দিতে হয়েছে। এরশাদের স্বৈরচারী শাসনাবসানে বেগম খালেদা জিয়াকে নেতৃত্ব দিতে হয়েছিল গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন পর্বে। এখন তাদের উত্তরসূরী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ফের গঠন পর্বের নেতৃত্ব দেওয়ার ঐতিহাসিক কর্তব্য ন্যস্ত করেছে সময়। এই কর্তব্য ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের।

তিনি বলেন, এই কর্তব্য রাষ্ট্রীয় সব প্রথা-প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার। এই কর্তব্য লুণ্ঠিত অর্থনীতি পুনর্নির্মাণের। পুলিশ, প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা শক্তি সক্রিয় করা ও জাতীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সেই কর্তব্যের অংশ। আমরা এই গঠন পর্বে গণমাধ্যম পুনর্গঠনের কাজে গণতান্ত্রিক সরকারের সারথী ও সহযোগী হতে চাই। সেই প্রাথমিক লক্ষ্য নিয়েই ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের অভ্যুদয়। ফোর্থ এস্টেট সুগঠিত না হলে গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়বে, মানুষ স্বাধীনতা হারাবে, ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার ঝুঁকি বাড়বে। ফ্যাসিবাদ সাংবাদিকতা পেশার অপব্যবহার করেছে, এই পেশার সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রিড়নক বানিয়েছে, সম্পাদকদের মর্যাদা ক্ষুন্ন এবং তাদেরকে বিভক্ত করেছে। এই ক্লেদাক্ত অতীত মুছে দিয়ে আজ সাংবাদিকতা পেশা এবং এই পেশায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের শুদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। 

সকল পেশাজীবী সম্পাদককে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সকল পেশাজীবী সম্পাদককে এক পাটাতনে দাঁড় করাতে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে যাত্রা শুরু করেছি। আমরা এ ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা চাই। তারা যেন বিভক্তিকামিতাকে কোনোভাবেই সহায়তা না করেন। আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই, ফ্যাসিবাদ-উত্তর বাংলাদেশে মিডিয়া ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন, যেন আর কোনোদিন কোনো ফ্যাসিবাদের জন্ম হতে না পারে।

স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়ে মারুফ কামাল খান সোহেল বলেন, মিডিয়া পুনর্গঠনে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ না করা ভালো। এই কমিশন মিডিয়ার প্রতিটি ক্ষেত্রের বিরাজমান সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বাতলাবে। তারা নীতি, আইন ও কাঠামো প্রণয়ন করবে। মিডিয়ার ও সাংবাদিকদের বিপথগামিতা এবং অপসাংবাদিকতার পথ বন্ধ করবে। পেশাগত ও বাণিজ্যিক উভয় দিক দিয়ে মিডিয়া বিকাশের ব্যবস্থা দেখাবে। পেশাগত উৎকর্ষতা ও এথিক্যাল জার্নালিজমকে এগিয়ে দেবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় ও শক্তিশালী করবে। সার্বোপরি রাষ্ট্রের গণমাধ্যম সংক্রান্ত নীতি-কৌশল নির্ণয় করবে।

আতাউর রহমানের কমিশনের রিপোর্ট ও সুপারিশ আলোর মুখ দেখেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও খ্যাতনামা রাজনৈতিক নেতা আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে প্রেস কমিশন গঠন করেছিলেন। সেই কমিশনের রিপোর্ট ও সুপারিশ কখনো আলোর মুখ দেখেনি। তিনি বলেন, সাবেক একজন বিজ্ঞ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের আহ্বান করতে হবে। কমিশনে তথ্য ও আইন মন্ত্রনালয়, ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল, সংবাদপত্রসেবীদের বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ও জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি থাকতে পারে।

প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের দায়ে যেসব সাংবাদিক অভিযুক্ত ও আটক হয়েছেন তাদের মামলাগুলো পর্যালোচনা করে করণীয় সুপারিশ করতে তথ্য, আইন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সম্পাদক, সাংবাদিক ও সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির উপযুক্ত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি। না হলে সরকার দ্রুতই আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে পড়ে যাবে এবং প্রশ্নের মুখে পড়বে।

শেখ হাসিনা প্রেস ট্রাস্ট বিলুপ্ত ও ট্রাস্ট পরিচালিত ঐতিহ্যবাহী পত্রিকাগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন,  সাংবাদিকতা পেশার স্বার্থে প্রেস ট্রাস্ট পুনরুজ্জীবন ও স্বাধীনভাবে পুনর্গঠনের মাধ্যমে ট্রাস্ট পত্রিকাগুলো পুনঃপ্রকাশ এবং লাভজনকভাবে পরিচালনার কথা ভাবার জন্য গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি অনুরোধ করছি।

প্রতি মাসে সরকারপ্রধানের সঙ্গে সম্পাদকদের বৈঠক হওয়া দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করতে প্রতি মাসে সরকারপ্রধানের সঙ্গে সম্পাদকদের বৈঠক হওয়া উচিত এবং এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয় যথাযথ উদ্যোগ নেবে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মানবতা, মানবাধিকার, সাম্য, শান্তি, নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের অবারিত স্বাধীনতা- এগুলো আমাদের রাষ্ট্র ও জাতিসত্তার ‘কোর ভ্যালুজ’। ইতিহাসের মোড়ে মোড়ে রক্তসিঞ্চিত দীর্ঘ সংগ্রামে আমরা এসব মূল্যবোধ অর্জন করেছি। এগুলো রক্ষা এবং বিকশিত করতে হবে। আমাদের মিডিয়ার পুনর্গঠনও সেই লক্ষ্যাভিসারী হওয়া উচিত।

মারুফ কামাল খান বলেন, কারো প্রতি অনুরাগ-বিরাগের বশে নয়, সংবাদপত্রের কালো দিবস পালনের মাধ্যমে আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে চাই। এই অঙ্গীকারে দীপ্ত হতে চাই যে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব, সোচ্চার থাকব, সাহসী ও সক্রিয় থাকব- যেন আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদ না ফেরে, যেন গণতন্ত্র অটুট থাকে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা