কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী
কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে
বিএনপি সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদে সারাদেশে ২০ হাজার খাল খনন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কক্সবাজারে শনিবার বেলা ১১টার দিকে পিএমখালী এলাকায় পাতলী খালের পুনঃখনন উদ্বোধন শেষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রায় ৫০ বছর আগে এই পাতলী খাল খনন করেছিলেন। আজ সেই খালের পুনঃখনন উদ্বোধন করা হলো। এর মাধ্যমে এই অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।
প্রায় ১২ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন সম্ভব হবে। পাশাপাশি সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সকাল ১০টার দিকে তিনি ভিআইপি গেট দিয়ে বের হন।
এ সময় ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনেককে ছাতা হাতে আবার অনেককে ভিজেই তার আগমনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।
সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কক্সবাজার শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিমানবন্দর সড়ক, হলিডে মোড়, কলাতলী, সুগন্ধা পয়েন্ট, বাস টার্মিনাল ও লিংক রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।
বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়। শুধুমাত্র নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি অতিথি ও দলীয় নেতাকর্মীদের যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়; সাধারণ যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
বিমানবন্দর থেকে গাড়িবহর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পিএমখালীর পাতলী খালের মোহনায় পৌঁছে পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
এরপর মঞ্চে আয়োজিত পথসভা শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বক্তব্য শুরু করেন এবং বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে তা শেষ করেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং স্বাবলম্বী করে তোলাই এই খাল খনন কর্মসূচির লক্ষ্য।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী জুলাই থেকে পর্যায়ক্রমে এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষক কার্ড সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলসহ অনেকে।
খাল উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে তিনি ‘সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র উদ্বোধন শেষে পার্কটি পরিদর্শন করেন।
এরপর তিনি পেকুয়া উপজেলায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শহিদ মো. ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
দুপুর দেড়টায় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। পরে পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে জোহরের নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে তিনি চকরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
বিকাল ৪টায় চকরিয়া পৌরসভা এলাকায় আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে তার। জনসভা শেষে সন্ধ্যা ৬টায় তিনি মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করবেন।
সফরের শেষ পর্যায়ে রাত ৮টায় কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় লং বিচ হোটেলে স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সফর শেষে রাতেই ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।