টিস্যু কালচার ল্যাব
ফারুক আহমাদ আরিফ, ঢাকা ও সুফল চাকমা, বান্দরবান
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
বান্দরবান সদরের বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক একটি টিস্যু কালচার ল্যাব। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সাঙ্গু নদীর তীর ঘেঁষে সবুজে ঘেরা বান্দরবান। দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১০ শতাংশ জুড়ে থাকা তিন পার্বত্য জেলায় কৃষকদের মূল ভরসা ঐতিহ্যবাহী জুমচাষ ও সাধারণ কিছু ফসল। তবে পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কেবল জুমচাষ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কৃষির আধুনিকায়ন। আর সেই আধুনিকায়নের পথ দেখাতে বান্দরবান সদরের বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক একটি টিস্যু কালচার ল্যাব।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘টিস্যু কালচার ল্যাব স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে এমন পাঁচটি ল্যাব নির্মিত হচ্ছে। টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক তালহা জুবাইর মাসরুর বলেছেন, বান্দরবানে এই উদ্যোগ পাহাড়ি কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। এই ল্যাবের মাধ্যমে রোগমুক্ত ও উন্নতমানের চারা উৎপাদন, কৃষক ও উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, উচ্চমূল্যের ফসল সম্প্রসারণ এবং গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক লিটন দেবনাথ জানান, ল্যাবটির নির্মাণকাজের প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জনবল নিয়োগের মাধ্যমে চলতি বছরেই এর কার্যক্রম শুরু করার আশা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রচলিত পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। কিন্তু এই ল্যাবে টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প সময়ে কম খরচে উন্নত চারা মিলবে। এতে তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের কৃষকেরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।’
পাহাড় এখন ফল ও উচ্চমূল্যের ফসল চাষের অসাধারণ এক স্থানে পরিণত হয়েছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু নোমান ফারুক আহম্মেদ বলেন, বাণিজ্যিক কৃষিতে টিস্যু কালচার চারার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে পাহাড়ে আনারস ও জি-৯ কলার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এটি পুরোপুরি চালু হলে বিদেশ থেকে চারা আমদানি কমবে এবং কৃষিতে বড় ধরনের বিপ্লব ঘটবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, টিস্যু কালচারের চারা থেকে উৎপাদিত ফসলের জীবনচক্র কমে আসে। যেমন কলার ফলনে এক বছর সময় লাগলেও টিস্যু কালচারের জি-৯ কলা নয়-দশ মাসের মধ্যেই ফলন দেয়। এসব চারা রোগবালাইমুক্ত হওয়ায় কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান বজায় থাকায় এসব চারা থেকে উৎপাদিত ফসল বিদেশে রপ্তানি করাও সহজ হবে।
পাহাড়ি কৃষকেরা বলছেন, বাইরে থেকে কেনা সাধারণ চারা অনেক সময় রোগে মারা যায়। ল্যাব থেকে উন্নত চারা পেলে পাহাড়ে কলা, আনারস, ড্রাগন, স্ট্রবেরি ও অর্কিডসহ উচ্চমূল্যের ফসলের চাষ আরও বাড়বে। এটি পাহাড়ি তরুণদের কৃষিতে আগ্রহী করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখবে।