প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) লোগো। ফাইল ছবি
মন্ত্রণালয় ও খাতভিত্তিক কার্যক্রমে সুশাসনের অভাব সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি বলেছে, নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নকে সরকার অগ্রাধিকার দিলেও দুর্নীতিবিরোধী সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব, অব্যবস্থাপনা ও দলীয় প্রভাবের কারণে ইশতেহারের লক্ষ্য অর্জন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও কৌশলগত পরিকল্পনার ঘাটতি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে আরও কঠিন করে তুলছে।
ঢাকার ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে রবিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন : সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশকালে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গঠনে দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। সুশাসন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ঘোষণার পরও ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, আমলাতন্ত্র, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের একাংশের মধ্যে ‘এবার আমাদের পালা’ সংস্কৃতির চর্চা লক্ষণীয়।
টিআইবির মতে, পুলিশ, প্রশাসন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, স্থানীয় সরকার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় ও গোষ্ঠীগত বিবেচনায় নিয়োগ-পদায়ন অব্যাহত রয়েছে, যা বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকারের পরিপন্থি। এতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার সুরক্ষা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতকরণ দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ধর্মীয় উগ্রতা ও বহুমতভিত্তিক সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে সহিংস কর্মকাণ্ডের যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তা নির্বাচিত সরকারের সময়ও অব্যাহত রয়েছে। ঢাকার শাহআলীর মাজার ও কুষ্টিয়ায় এক পীরের ওপর হামলার ঘটনা এ প্রবণতার সাম্প্রতিক উদাহরণ।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টিকে আইনে পরিণত করার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছে টিআইবি। সংস্থাটি বলেছে, সরকারের প্রথম ১০০ দিন আশাব্যঞ্জক ও সম্ভাবনাময় হলেও সুশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠায় সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের অভাব উদ্বেগের বিষয়।