শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবারও দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছে।
ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেহীন রবিবিার বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
বিচার শুরুর মাত্র ১৯ দিনের মাথায় মামলার নিষ্পত্তি হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
রায় ঘোষণার পর বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আদালত উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক তথ্য পর্যালোচনা করে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করেছেন। এতে রামিসার পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে এবং রাষ্ট্রপক্ষ রায়ে সন্তুষ্ট।
এর আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল ১১টা ৫ মিনিটে বিচারক রায় পাঠ শুরু করেন। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়।
আদালত নির্দেশ দেন, জরিমানার অর্থ আদায় করে তা ভুক্তভোগীর স্বজনদের প্রদান করতে হবে। আসামিরা অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা নিতে হবে।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদী ও রামিসার বাবা হান্নান মোল্লা। রায়ের আগে তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত তা কার্যকরের দাবি জানান।
মামলার বিচার কার্যক্রম গত বৃহস্পতিবার শেষ হয়। অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের মামলায় এত অল্প সময়ে বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ার ঘটনা দেশে খুবই বিরল। এ কারণে রামিসা হত্যা মামলার এই দ্রুত নিষ্পত্তি বিচারাঙ্গনে বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে।