পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুল শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করে সোহেল রানা। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।
শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রবিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
এদিন কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়।
এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। এসময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন বিচারক।
এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রামিসা আক্তার ঢাকার পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হলে স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। সেদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি।
পরে ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে আসামিদের বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা রামিসার খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।।
এ ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
একই দিন মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিনে আদালত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
একই দিনে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নেন। পরে গত ১ জুন আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানায়, মামলাটির অভিযোগ গঠনের মাত্র তিন দিনের মাথায় রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়। দেশের বিচারাঙ্গনে এত অল্প সময়ে একটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার ঘটনা বিরল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে রামিসার পরিবার আদালতের কাছে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছে। শিশুটির স্বজনদের ভাষ্য, তারা এমন শাস্তি চান যা ভবিষ্যতে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।