ফেরিতে উঠার সময় পদ্মা নদীতে পরে যাওয়া এসবি সুপার ডিলাক্স বাসের চালক ঝন্টু আলী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাসচালক, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবুজার গিফারী বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার বাসচালক ঝন্টু আলী (৪৮), সুপারভাইজার আজমল হোসেন (৩৮) ও হেলপার শাকিব হোসেনকে (২২) আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের সংশ্লিষ্ট অজ্ঞাত ব্যক্তিদেরও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গোয়ালন্দঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুরের গাংনি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছায়। ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন নৌপুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীরা নেমে ফেরির দিকে হাঁটতে থাকেন।
এরপর চালক ঝন্টু আলী বাসটি বেপরোয়াভাবে চালিয়ে নির্ধারিত ফেরির পরিবর্তে পাশের ‘করবী অক্সফ্যাম’ ফেরিতে তুলে ফেলেন। পরে ফেরির শেষ প্রান্তের র্যাম্পে সজোরে ধাক্কা লাগলে র্যাম্পের শিকল ও ছিটকিনি ছিঁড়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
ঘটনার সময় সুপারভাইজার ও হেলপার লাফিয়ে ফেরিতে উঠে প্রাণ রক্ষা করেন। পরে চালককে নদী থেকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর নদী থেকে বাসটি উদ্ধার করা হয়। এতে ফেরির র্যাম্প, ক্যাবল ও যাত্রীদের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবমিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়ালন্দঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার তিন আসামিকে শনিবার রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।